অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশিত হলো চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। সারাদেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আয়োজিত এই পাবলিক পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। এবারের ফলাফলে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর সমন্বিত তথ্য অনুযায়ী, এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ থাকলেও তা পরিবর্তন করে ৩১ অক্টোবর শনিবার নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং সেই ঘোষণা অনুযায়ীই ফল প্রকাশ করা হয়।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ছাড়াও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল। গত বছরের তুলনায় এ বছর সামগ্রিক পাসের হারে কিছুটা ভাটা পড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ, বিগত বছরের তুলনায় এবারে পাসের হার ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
প্রকাশিত ফলাফলের বিস্তারিত তথ্যে দেখা গেছে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার অন্যান্য বোর্ডের তুলনায় সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে পাসের হার ৬১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের সকল বোর্ডের ফলাফল যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। পাসের হার হ্রাসের কারণ সম্পর্কে বোর্ড কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, ইংরেজি ও গণিতের মতো বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের ফল কিছুটা বিপর্যয়কর হওয়ার কারণে সামগ্রিক পাসের হার কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য যে, সারা দেশে এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএম-বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স এই সকল ধারার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের জন্য ফলাফল উন্মুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের রোল এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইন ও এসএমএস-এর মাধ্যমে ফল জানতে পারছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকলে বা প্রত্যাশা অনুযায়ী নম্বর না পেলে পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এই আবেদন প্রক্রিয়া এবং নিয়মাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী নোটিশে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ঢুকে বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফল প্রকাশের ফলে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই তাদের ফলাফল দ্রুত জানতে সক্ষম হয়েছে, যা গত কয়েক বছর ধরে চলমান একটি ইতিবাচক প্রক্রিয়া। সামগ্রিকভাবে এবারের এইচএসসির ফল প্রকাশ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ