খুঁজুন
, ,

লন্ডনে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে ব্রিটিশ পুলিশ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ পূর্বাহ্ণ
লন্ডনে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে ব্রিটিশ পুলিশ

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। সম্প্রতি লন্ডনে এক কিশোরী ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তির খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কমিউনিটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তারা এই অপরাধের সাথে জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে কাজ করছে এবং তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অপরাধীদের খুঁজে বের করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। বিশেষ করে সন্দেহভাজনদের সাম্প্রতিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং তাদের সম্ভাব্য আশ্রয়স্থলগুলোর ওপর নজর রাখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জনগণের সহায়তা চেয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যদি কেউ অভিযুক্তদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেন, তবে দ্রুত যেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করা হয়। পুলিশের ভাষ্যমতে, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।

এই বিশেষ অপরাধমূলক ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার নিশ্চিত করতে এগিয়ে এসেছে যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা দাতব্য সংস্থা ক্রাইম স্টপার্স। সংস্থাটির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তিকে ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার প্রদান করা হবে। ক্রাইম স্টপার্সের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং অপরাধীদের লুকিয়ে থাকার পথ বন্ধ করে দেওয়া। সংস্থাটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, যেকোনো ব্যক্তি সম্পূর্ণ পরিচয় গোপন রেখে তথ্য প্রদানের মাধ্যমে এই পুরস্কারের যোগ্য বিবেচিত হতে পারবেন।

লন্ডন পুলিশ মনে করছে, অপরাধীরা স্থানীয় কমিউনিটিরই পরিচিত কেউ হতে পারে। তাই ব্রিটিশ পুলিশ বাংলাদেশিসহ স্থানীয় কমিউনিটির সব স্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সন্দেহভাজনদের সম্পর্কে কোনো ক্লু পাওয়া গেলে বা তাদের কোথাও দেখা গেলে দেরি না করে পুলিশকে জানাতে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে লন্ডন পুলিশ এবং কোনো অপরাধীই যাতে বিচারের হাত থেকে রেহাই না পায়, সে ব্যাপারে বদ্ধপরিকর তারা।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অভিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এমন ঘটনার খবর অত্যন্ত বিব্রতকর এবং উদ্বেগজনক। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এ বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে। কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে কেবল নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে। দোষীদের শনাক্তকরণ ও তাদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন লন্ডনের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করছে স্থানীয় প্রশাসন।

শ্রমমন্ত্রী ঘোষণা: রোববার গঠন হবে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
শ্রমমন্ত্রী ঘোষণা: রোববার গঠন হবে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ড

গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন একটি পদক্ষেপের সূচনা হতে যাচ্ছে রোববার, যখন শ্রম মন্ত্রণালয় নিম্নতম মজুরি নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষ বোর্ড গঠন করবে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পের বিভিন্ন গোষ্ঠী ও শ্রমিক সংগঠনগুলো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যৎ বেতন কাঠামোর উন্নতি প্রত্যাশা করছে।

গার্মেন্টস খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে; এই সেক্টরে প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন শ্রমিক কর্মরত, যার অধিকাংশই নারীরূপে কাজ করে। বছরের পর বছর ধরে মজুরি সংক্রান্ত আলোচনা, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার দাবি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা এই শিল্পকে ক্রমাগত পরিবর্তনের মুখে রেখেছে। এ প্রেক্ষাপটে রোববার গঠিত হবে এমন একটি বোর্ড, যার কাজ হবে শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের মানদণ্ড স্থাপন করা।

শ্রম মন্ত্রীর মতে, এই বোর্ডের গঠন প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব, শিল্প সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত হবে। প্রত্যেক পক্ষের মতামত বিবেচনা করে, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে বাস্তবিক খরচ, উৎপাদনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডকে সমন্বিত করা হবে।

গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গে, মন্ত্রীর অফিস থেকে জানানো হয়েছে যে বোর্ডের প্রথম বৈঠক রোববারের পরপরই অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে শ্রমিক ইউনিয়ন, গার্মেন্টস সংস্থা এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা তাদের মতামত উপস্থাপন করবে। বিশেষ করে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো দাবি করেছে যে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে বর্তমান জীবনের ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা খরচকে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। অন্যদিকে, শিল্প সংস্থাগুলো উৎপাদন খরচের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ মজুরি কাঠামো চায়।

এই ঘোষণার পর, গার্মেন্টস শিল্পের বিভিন্ন সংস্থা ও শ্রমিক সংগঠনগুলো সামাজিক মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করেছে। বেশ কিছু শ্রমিক সংগঠন এই উদ্যোগকে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেছে যে নতুন ন্যূনতম মজুরি শ্রমিকদের জীবনের মানোন্নয়নে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, কিছু শিল্প সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে অতিরিক্ত মজুরি বৃদ্ধি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

শ্রম মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের আগে একটি বিস্তৃত গবেষণা ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করা হবে। এতে গার্মেন্টস শিল্পের বিভিন্ন সেক্টর, আঞ্চলিক পার্থক্য এবং শ্রমিকদের কাজের ধরণ বিবেচনা করা হবে। গবেষণার ফলাফল ভিত্তিক সুপারিশগুলো বোর্ডের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হবে, যাতে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে বাস্তবিক এবং টেকসই সমাধান পাওয়া যায়।

গার্মেন্টস শিল্পের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের গার্মেন্টস পণ্যের চাহিদা বজায় রাখতে হলে শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। একই সঙ্গে, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করা হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে।

রোববারের পরপরই গঠন হতে যাওয়া এই বোর্ডের কার্যক্রমের ফলাফল কীভাবে গার্মেন্টস শিল্পের বেতন কাঠামোকে প্রভাবিত করবে তা সময়ই বলবে। তবে বর্তমান পর্যায়ে, শ্রম মন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় এবং এটি দেশের শ্রম নীতি উন্নয়নে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাতীয় চার্চ পরিষদের ৭৫ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
জাতীয় চার্চ পরিষদের ৭৫ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন

ঢাকার জাতীয় চার্চ পরিষদ তার প্রতিষ্ঠা থেকে সাত দশক পঞ্চাশ বছর অতিক্রম করে আজ ৭৫তম পূর্তি উদযাপন করেছে। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানটি শহরের অন্যতম বিশিষ্ট হোটেল ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশি-বিদেশি বিশাল সংখ্যক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সূচনা একটি ঐতিহ্যবাহী প্রার্থনা সভা দিয়ে করা হয়, যার পর বিভিন্ন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সমাবেশে একত্রে শান্তি ও ঐক্যের বার্তা প্রদান করা হয়।

উদযাপনের প্রধান আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ। ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতারা একত্রে মঞ্চে এসে ধর্মীয় সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাদের বক্তব্যে বিশেষ করে ধর্মীয় সংহতি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের ওপর জোর দেওয়া হয়। এই সমাবেশটি ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতি জাতীয় চার্চ পরিষদের সম্মান ও সমর্থনকে প্রকাশ করে।

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বিশেষভাবে গর্বের সঙ্গে এই মাইলফলককে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বহু দশক আগে প্রতিষ্ঠিত এই পরিষদটি আজ দেশের ধর্মীয় দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের মধ্যে কিছু পুরোহিত, ধর্মপ্রচারক এবং সামাজিক কর্মী ছিলেন, যারা পরিষদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্য বিমোচনায় করা কাজের কথা উল্লেখ করে গর্ব প্রকাশ করেন। এছাড়া, বিদেশি মিশনারি ও ধর্মীয় সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন, যারা বাংলাদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বহুমুখী সংস্কৃতির প্রশংসা করেছেন।

উদযাপনের সময় একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী গীত, নৃত্য এবং নাট্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। বিশেষ করে, চার্চের ইতিহাসকে চিত্রিত করে তৈরি করা নাট্যটি দর্শকদের মধ্যে গভীর আবেগ জাগিয়ে তুলেছিল। এছাড়া, আন্তর্জাতিক অতিথিরা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিল্পের প্রশংসা করে তাদের নিজ নিজ দেশের বন্ধুদের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।

উদযাপনের সমাপ্তি একটি গালা ডিনার দিয়ে করা হয়, যেখানে উপস্থিত সকল অতিথি একে অপরের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ডিনারের সময়, জাতীয় চার্চ পরিষদের সভাপতি একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, পরবর্তী দশকে পরিষদটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণের ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায় এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন চার্চ ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদযাপনের পর, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে একাধিক সাক্ষাৎকারে পরিষদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানান, এই ৭৫ বছর কেবল একটি মাইলফলক নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন সূচনা। তারা উল্লেখ করেন, ধর্মীয় সংহতি ও সামাজিক দায়িত্বের প্রতি তাদের অঙ্গীকার অবিচল থাকবে এবং দেশের ধর্মীয় পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য তারা বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে।

সামগ্রিকভাবে, জাতীয় চার্চ পরিষদের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপনটি ধর্মীয় ঐক্য, সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়িত্বের এক অনন্য মিশ্রণ হিসেবে রেকর্ডে সংরক্ষিত হবে। এই অনুষ্ঠানটি দেশের ধর্মীয় বহুমুখিতা ও সহনশীলতার প্রতীক হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মডেল স্থাপন করেছে।

ঢাকায় হ্যালোইন উদযাপন: রঙিন সাজসজ্জা ও নানা অনুষ্ঠান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ঢাকায় হ্যালোইন উদযাপন: রঙিন সাজসজ্জা ও নানা অনুষ্ঠান

হ্যালোইন, যদিও বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কোনো উৎসব নয়, তবু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বায়ন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক বিনোদন সংস্কৃতির প্রভাবে রাজধানী ঢাকায় এর উপস্থিতি দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভৌতিক সাজসজ্জা, মুখোশ, কস্টিউম পার্টি এবং হরর সিনেমার পরিবেশনা নিয়ে হ্যালোইন উদযাপনের আগ্রহ বাড়ছে, যা এখন নগর জীবনের একটি স্বতন্ত্র বিনোদনমূলক দিক হয়ে উঠেছে।

শহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এই দিনটিকে বিশেষভাবে সাজিয়ে তুলেছে। গুলশানের বড় শপিং মলগুলোতে ভয়ানক থিমের ডেকোরেশন, আলোকসজ্জা এবং হরর-সিনেমার বিশেষ স্ক্রিনিং অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে ধানমন্ডির ক্যাফে ও রেস্টুরেন্টগুলোতে কস্টিউম পার্টি ও ফটো বুথ স্থাপন করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা ভ্যাম্পায়ার, জোকার, জাদুকরী ইত্যাদি ভৌতিক চরিত্রে সজ্জিত হয়ে ছবি তোলার সুযোগ পান।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও হ্যালোইনের উদযাপনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ক্লাব ও ছাত্র সংগঠনগুলো ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে হরর থিমের নাটক, মেকআপ ও কস্টিউম প্রতিযোগিতা এবং ভৌতিক ঘর (হান্টেড হাউস) তৈরি করে। এই ধরনের উদ্যোগগুলো তরুণদের সৃজনশীলতা ও দলগত কাজের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে, পাশাপাশি হ্যালোইনের প্রতি তাদের আগ্রহকে আরও উজ্জীবিত করে।

শহরের বিভিন্ন পার্ক ও পাবলিক স্পেসেও হ্যালোইনের থিমে আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জা দেখা যায়। রাতের বেলা রঙিন আলো, জালবদ্ধ কঙ্কাল ও ভয়ঙ্কর মুখোশের সাজসজ্জা পথচারীদের দৃষ্টিকে আকর্ষণ করে। কিছু স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই সুযোগে বিশেষ ছাড় ও প্রচারমূলক অফার প্রদান করে, যা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে এবং হ্যালোইনের বাণিজ্যিক দিককে সমৃদ্ধ করে।

সামাজিক মিডিয়ার ভূমিকা এই উদযাপনে অপরিসীম। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মাধ্যমে তরুণরা তাদের কস্টিউম, সাজসজ্জা ও পার্টির মুহূর্ত শেয়ার করে, যা অন্যদেরও অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করে। হ্যাশট্যাগ #DhakaHalloween এবং #Halloween2026 ব্যবহার করে পোস্ট করা ছবিগুলো দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়, ফলে হ্যালোইনের জনপ্রিয়তা আরও ত্বরান্বিত হয়।

হ্যালোইনের এই উত্সবমুখর পরিবেশে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও সতর্কতা অবলম্বন করে। বড় মলে ও জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা গার্ডের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়, যাতে কোনো অপ্রয়োজনীয় ঘটনা ঘটতে না পারে। একই সঙ্গে, হ্যালোইনের থিমে সাজানো খাবার ও পানীয়ের মান নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগও তদারকি করে।

সামগ্রিকভাবে, ঢাকায় হ্যালোইনের উদযাপন এখন একটি বহুমুখী সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক ইভেন্টে রূপান্তরিত হয়েছে। এটি শুধু ভৌতিক সাজসজ্জা ও কস্টিউমের মজা নয়, বরং সামাজিক সংযোগ, সৃজনশীল প্রকাশ এবং বাণিজ্যিক সুযোগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের আন্তর্জাতিক উৎসবের স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশ্রণ আরও বিস্তৃত হতে পারে, যা শহরের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করবে।

সর্বশেষ
শ্রমমন্ত্রী ঘোষণা: রোববার গঠন হবে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ড জাতীয় চার্চ পরিষদের ৭৫ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন ঢাকায় হ্যালোইন উদযাপন: রঙিন সাজসজ্জা ও নানা অনুষ্ঠান তাহসিফের মৃত্যু: ধাওয়া দেওয়া ব্যক্তিরা কারা, উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা লন্ডনে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে ব্রিটিশ পুলিশ ইনানীর ভূগর্ভে গ্যাসের সঙ্গে তেলের অস্তিত্ব, আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগতে পারে ১৫ দিন রাজধানীর গুলশানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ধারালো চাকুসহ গ্রেফতার ১ যাত্রাবাড়ীতে মাদক অভিযানে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২৬ জন কারাগারে এমপি আজিজের দলীয় ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধায় নাটোর জেলা বিএনপি এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ
Advertisement