ঢাকার জাতীয় চার্চ পরিষদ তার প্রতিষ্ঠা থেকে সাত দশক পঞ্চাশ বছর অতিক্রম করে আজ ৭৫তম পূর্তি উদযাপন করেছে। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানটি শহরের অন্যতম বিশিষ্ট হোটেল ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশি-বিদেশি বিশাল সংখ্যক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সূচনা একটি ঐতিহ্যবাহী প্রার্থনা সভা দিয়ে করা হয়, যার পর বিভিন্ন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সমাবেশে একত্রে শান্তি ও ঐক্যের বার্তা প্রদান করা হয়।
উদযাপনের প্রধান আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ। ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতারা একত্রে মঞ্চে এসে ধর্মীয় সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাদের বক্তব্যে বিশেষ করে ধর্মীয় সংহতি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক মূল্যবোধের ওপর জোর দেওয়া হয়। এই সমাবেশটি ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতি জাতীয় চার্চ পরিষদের সম্মান ও সমর্থনকে প্রকাশ করে।
খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বিশেষভাবে গর্বের সঙ্গে এই মাইলফলককে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বহু দশক আগে প্রতিষ্ঠিত এই পরিষদটি আজ দেশের ধর্মীয় দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাদের মধ্যে কিছু পুরোহিত, ধর্মপ্রচারক এবং সামাজিক কর্মী ছিলেন, যারা পরিষদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্য বিমোচনায় করা কাজের কথা উল্লেখ করে গর্ব প্রকাশ করেন। এছাড়া, বিদেশি মিশনারি ও ধর্মীয় সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন, যারা বাংলাদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বহুমুখী সংস্কৃতির প্রশংসা করেছেন।
উদযাপনের সময় একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী গীত, নৃত্য এবং নাট্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। বিশেষ করে, চার্চের ইতিহাসকে চিত্রিত করে তৈরি করা নাট্যটি দর্শকদের মধ্যে গভীর আবেগ জাগিয়ে তুলেছিল। এছাড়া, আন্তর্জাতিক অতিথিরা বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিল্পের প্রশংসা করে তাদের নিজ নিজ দেশের বন্ধুদের সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।
উদযাপনের সমাপ্তি একটি গালা ডিনার দিয়ে করা হয়, যেখানে উপস্থিত সকল অতিথি একে অপরের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ডিনারের সময়, জাতীয় চার্চ পরিষদের সভাপতি একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও লক্ষ্য তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, পরবর্তী দশকে পরিষদটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণের ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায় এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন চার্চ ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উদযাপনের পর, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে একাধিক সাক্ষাৎকারে পরিষদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানান, এই ৭৫ বছর কেবল একটি মাইলফলক নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন সূচনা। তারা উল্লেখ করেন, ধর্মীয় সংহতি ও সামাজিক দায়িত্বের প্রতি তাদের অঙ্গীকার অবিচল থাকবে এবং দেশের ধর্মীয় পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য তারা বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে।
সামগ্রিকভাবে, জাতীয় চার্চ পরিষদের ৭৫ বছর পূর্তি উদযাপনটি ধর্মীয় ঐক্য, সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়িত্বের এক অনন্য মিশ্রণ হিসেবে রেকর্ডে সংরক্ষিত হবে। এই অনুষ্ঠানটি দেশের ধর্মীয় বহুমুখিতা ও সহনশীলতার প্রতীক হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মডেল স্থাপন করেছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ