হ্যালোইন, যদিও বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কোনো উৎসব নয়, তবু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বায়ন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক বিনোদন সংস্কৃতির প্রভাবে রাজধানী ঢাকায় এর উপস্থিতি দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভৌতিক সাজসজ্জা, মুখোশ, কস্টিউম পার্টি এবং হরর সিনেমার পরিবেশনা নিয়ে হ্যালোইন উদযাপনের আগ্রহ বাড়ছে, যা এখন নগর জীবনের একটি স্বতন্ত্র বিনোদনমূলক দিক হয়ে উঠেছে।
শহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এই দিনটিকে বিশেষভাবে সাজিয়ে তুলেছে। গুলশানের বড় শপিং মলগুলোতে ভয়ানক থিমের ডেকোরেশন, আলোকসজ্জা এবং হরর-সিনেমার বিশেষ স্ক্রিনিং অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে ধানমন্ডির ক্যাফে ও রেস্টুরেন্টগুলোতে কস্টিউম পার্টি ও ফটো বুথ স্থাপন করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা ভ্যাম্পায়ার, জোকার, জাদুকরী ইত্যাদি ভৌতিক চরিত্রে সজ্জিত হয়ে ছবি তোলার সুযোগ পান।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও হ্যালোইনের উদযাপনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ক্লাব ও ছাত্র সংগঠনগুলো ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে হরর থিমের নাটক, মেকআপ ও কস্টিউম প্রতিযোগিতা এবং ভৌতিক ঘর (হান্টেড হাউস) তৈরি করে। এই ধরনের উদ্যোগগুলো তরুণদের সৃজনশীলতা ও দলগত কাজের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে, পাশাপাশি হ্যালোইনের প্রতি তাদের আগ্রহকে আরও উজ্জীবিত করে।
শহরের বিভিন্ন পার্ক ও পাবলিক স্পেসেও হ্যালোইনের থিমে আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জা দেখা যায়। রাতের বেলা রঙিন আলো, জালবদ্ধ কঙ্কাল ও ভয়ঙ্কর মুখোশের সাজসজ্জা পথচারীদের দৃষ্টিকে আকর্ষণ করে। কিছু স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই সুযোগে বিশেষ ছাড় ও প্রচারমূলক অফার প্রদান করে, যা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে এবং হ্যালোইনের বাণিজ্যিক দিককে সমৃদ্ধ করে।
সামাজিক মিডিয়ার ভূমিকা এই উদযাপনে অপরিসীম। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মাধ্যমে তরুণরা তাদের কস্টিউম, সাজসজ্জা ও পার্টির মুহূর্ত শেয়ার করে, যা অন্যদেরও অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করে। হ্যাশট্যাগ #DhakaHalloween এবং #Halloween2026 ব্যবহার করে পোস্ট করা ছবিগুলো দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়, ফলে হ্যালোইনের জনপ্রিয়তা আরও ত্বরান্বিত হয়।
হ্যালোইনের এই উত্সবমুখর পরিবেশে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও সতর্কতা অবলম্বন করে। বড় মলে ও জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা গার্ডের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়, যাতে কোনো অপ্রয়োজনীয় ঘটনা ঘটতে না পারে। একই সঙ্গে, হ্যালোইনের থিমে সাজানো খাবার ও পানীয়ের মান নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগও তদারকি করে।
সামগ্রিকভাবে, ঢাকায় হ্যালোইনের উদযাপন এখন একটি বহুমুখী সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক ইভেন্টে রূপান্তরিত হয়েছে। এটি শুধু ভৌতিক সাজসজ্জা ও কস্টিউমের মজা নয়, বরং সামাজিক সংযোগ, সৃজনশীল প্রকাশ এবং বাণিজ্যিক সুযোগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের আন্তর্জাতিক উৎসবের স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশ্রণ আরও বিস্তৃত হতে পারে, যা শহরের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ