খুঁজুন
, ,

বিইআরসির নির্ধারিত এলপিজি সিলিন্ডার দামের তুলনায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত খরচ বেড়ে চলেছে

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
বিইআরসির নির্ধারিত এলপিজি সিলিন্ডার দামের তুলনায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত খরচ বেড়ে চলেছে

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অক্টোবর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য ১,৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। এই দামের কাঠামোতে আমদানিকারক বা অপারেটরের জন্য নির্ধারিত মূল্য ১,৭৪২ টাকা, পরিবেশকের কমিশন ৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ টাকা অন্তর্ভুক্ত। এসব উপাদান মিলিয়ে মোট অনুমোদিত মূল্য ১,৮৩৭ টাকা হয়ে দাঁড়ায়।

তবে বাজারে দেখা যাচ্ছে, ভোক্তারা একই সিলিন্ডার কিনতে ২,৩০০ টাকা থেকে ২,৪০০ টাকার মধ্যে পরিশোধ করছেন। অর্থাৎ, নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৪৬৩ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এই পার্থক্যটি ভোক্তাদের গৃহস্থালির বাজেটের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য।

বিইআরসির মূল্য নির্ধারণের উদ্দেশ্য ছিল এলপিজি বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত মুনাফা সীমাবদ্ধ করা। তবে বাস্তবে, সিলিন্ডার বিক্রেতা, পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতা প্রত্যেকেরই নির্ধারিত কমিশন পাওয়ার পরও অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণের পেছনে কী কারণ রয়েছে তা স্পষ্ট নয়। কিছু বিশ্লেষক দাবি করছেন, সরবরাহ শৃঙ্খলে লজিস্টিক খরচ, সঞ্চয় ও পরিবহন সংক্রান্ত অতিরিক্ত ব্যয় এবং অনিয়মিত বাজার নিয়ন্ত্রণের ফলে এই অতিরিক্ত মূল্য গঠন হতে পারে।

এলপিজি বাজারে এই ধরনের মূল্য পার্থক্য ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। গ্রাহকরা সামাজিক মিডিয়া ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশ করছেন যে, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিতে হচ্ছে, যদিও সরকারী নিয়মাবলী স্পষ্টভাবে কম দামের নির্দেশ দিচ্ছে। কিছু গ্রাহক উল্লেখ করেছেন, একই এলাকার দুইটি বিক্রয় পয়েন্টে দামের পার্থক্য ১০০ টাকার বেশি হতে পারে, যা বাজারে স্বচ্ছতার অভাবের ইঙ্গিত দেয়।

বিইআরসি এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে। কমিশন সদস্যরা বলেছেন, তারা বাজারে অনিয়মিত মূল্য নির্ধারণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি আরোপ করবে। তদুপরি, তারা বিক্রেতা ও পরিবেশকদের সঙ্গে সমন্বয় করে সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে মূল্য নির্ধারণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটর সংস্থাগুলোও বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা যুক্তি দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক গ্যাসের দাম, শিপিং খরচ এবং স্থানীয় ট্যাক্সের পরিবর্তন তাদের মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা কখনো কখনো নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত খরচের কারণ হতে পারে। তবে, এই ব্যাখ্যাগুলোকে ভোক্তারা যথেষ্ট সন্তোষজনক বলে মনে করেন না, কারণ তারা সরাসরি বেশি দামের মুখোমুখি হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে বাজারে সরাসরি পর্যবেক্ষণ বাড়িয়ে, অনিয়মিত বিক্রয় পয়েন্টগুলোকে চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তি প্রদান করা উচিত। এছাড়া, ভোক্তাদের জন্য একটি হটলাইন বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করা যেতে পারে, যেখানে তারা অতিরিক্ত দামের অভিযোগ জানাতে পারবে এবং তাৎক্ষণিক তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারসংক্ষেপে, বি.ই.আর.সির নির্ধারিত ১,৮৩৭ টাকার দামের তুলনায় ভোক্তারা ২,৩০০‑২,৪০০ টাকার মধ্যে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৪৬৩ টাকার অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি করছে। এই পার্থক্যটি বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার অভাবের ইঙ্গিত দেয় এবং ভোক্তাদের আর্থিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি বাড়ানো, বিক্রেতা-পরিবেশক-খুচরা বিক্রেতা সকল স্তরে মূল্য নির্ধারণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের অভিযোগের দ্রুত সমাধান এই সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন

মোঃ ফয়সাল আসলাম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
   
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন

কঠোর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। এ সময় জেলা নির্বাচন ও স্থানীয় প্রশাসনিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মির্জা ফয়সল আমিন পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫৩ ভোট। ফলে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৬ ভোটের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের।

এছাড়া নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) ৩ হাজার ২৮৮ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) ৮৩৬ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব) ৪৪৯ ভোট পেয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবার ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মোট ভোট প্রদানের হার দাঁড়ায় ৬৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ২৯ অক্টোবর এই উপনির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছিল।

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
   
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। এই নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, বিজয়ী প্রার্থী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার হোসেনের চেয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। এই পরাজয়ের মাধ্যমে দেলাওয়ার হোসেন এই নির্বাচনী এলাকায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোটের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, এবারের উপনির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন যে পরিমাণ ভোট পেয়েছেন, তা গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গত নির্বাচনের সেই ভোটের চেয়ে এবারের নির্বাচনে তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা কয়েক হাজার কমেছে। বড় ব্যবধানে পরাজয় এবং আগের চেয়ে কম ভোট পাওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনের সামগ্রিক রাজনৈতিক আবহে পরিবর্তন আসার ফলে এই ফলাফলের প্রতিফলন ঘটেছে।

সকাল থেকেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেও দিন শেষে ফলাফলের দিক থেকে দেলাওয়ার হোসেনের জন্য তা ছিল হতাশাজনক। বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হওয়ার পর থেকেই সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ উল্লাস দেখা দেয়। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের প্রচারণায় ঘাটতি ছিল কি না কিংবা ভোটাররা কেন তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তা নিয়েও চলছে নানা চুলচেরা বিশ্লেষণ।

উল্লেখ্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দেলাওয়ার হোসেন একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, কিন্তু সেইবারও তিনি সফল হতে পারেননি। এবার উপনির্বাচনের সুযোগ পেয়েও তিনি ভোটের ব্যবধান কমাতে পারেননি, বরং গত নির্বাচনের চেয়েও তার ভোটের হার নিম্নমুখী হয়েছে। এটি ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী এলাকার রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর জন্য একটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এবং রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নেই তারা মির্জা ফয়সল আমীনকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন।

নির্বাচন পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার পর বিজয় মিছিলে অংশগ্রহণ করেন মির্জা ফয়সল আমীনের কর্মী ও সমর্থকরা। দেলাওয়ার হোসেনের পরাজয়ের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই পরাজয় সামনের দিনগুলোতে দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করার একটি সুযোগ হতে পারে। ভোটের এই বিশাল ব্যবধান ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে বিএনপি তথা মির্জা ফয়সল আমীনের অবস্থানকে আরও সুসংহত করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজধানীর গুলিস্তানে ফের উচ্ছেদ অভিযান: ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ডিএসসিসি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
   
রাজধানীর গুলিস্তানে ফের উচ্ছেদ অভিযান: ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ডিএসসিসি

রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র গুলিস্তানে পুনরায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। জনদুর্ভোগ লাঘব এবং যানজট নিরসনে ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত রাখতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী দুই দফায় পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযানে রাস্তা ও ফুটপাত থেকে অবৈধ হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালের দিকে প্রথম দফায় অভিযান শুরুর পর হকাররা সরে গেলেও দুপুরের পর ফের তারা ফুটপাতে বসার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিকেলে দ্বিতীয় দফায় আবারও মাঠে নামে ডিএসসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত।

উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, অবৈধভাবে ফুটপাত দখল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কোনো অজুহাতেই জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বা ফুটপাত হকারদের দখলে থাকতে দেওয়া হবে না। উচ্ছেদ অভিযানের সময় হকাররা নানা যুক্তি বা অজুহাত প্রদর্শনের চেষ্টা করলেও সিটি করপোরেশনের অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর। জনস্বার্থ রক্ষায় ফুটপাত ও রাস্তা সবসময় উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

গুলিস্তান এলাকাটি ঢাকার প্রধান প্রবেশদ্বার এবং গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন কেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত থাকে। ফুটপাতে হকারদের পসরা সাজিয়ে বসার কারণে পথচারীদের হাঁটার জায়গা থাকে না, ফলে বাধ্য হয়ে তাদের মূল রাস্তায় নামতে হয়। এতে চরম যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। স্থানীয় পথচারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন। এর আগেও বিভিন্ন সময় গুলিস্তান ও এর আশপাশের এলাকায় হকার উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে অভিযান শেষ হওয়ার কিছুদিন পর আবারও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে। এবার ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল উচ্ছেদ নয়, বরং এই এলাকাকে নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা হবে যাতে পুনরায় দখল না হতে পারে।

অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ফুটপাতে ব্যবসা করার অনুমতি নেই। যারা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সড়ক ও ফুটপাত দখল করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ করার পাশাপাশি রাস্তার শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের স্বাভাবিক চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। বৃহস্পতিবারের এই উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা থাকলেও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ফের সামনে এসেছে। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা কোনো সমাধান নয়। এর আগে উচ্ছেদের পর অনেক হকারই দাবি করেছিলেন যে, তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট স্থান বা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করা হলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে ডিএসসিসি এখন পর্যন্ত কোনো নতুন হকার পুনর্বাসন প্রকল্পের কথা জানায়নি।

রাজধানীর যানজট নিরসনে গুলিস্তান এলাকার এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। ফুটপাত দখলমুক্ত থাকলে যান চলাচলের গতিও স্বাভাবিক থাকে। তাই নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার এই প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ডিএসসিসির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জনস্বার্থের বিপরীতে কোনো অবস্থানই বরদাস্ত করা হবে না এবং আগামী দিনগুলোতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন রাজধানীর গুলিস্তানে ফের উচ্ছেদ অভিযান: ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ডিএসসিসি বিইআরসির নির্ধারিত এলপিজি সিলিন্ডার দামের তুলনায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত খরচ বেড়ে চলেছে সিটি করপোরেশনের আওতায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নতুন নিয়ম ও ফি নির্ধারণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে নতুন নীতিমালা জারি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির বড় জয়: বিপুল ভোটে বিজয়ী মির্জা ফয়সল আমীন ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে রূপপুরের বিদ্যুৎ ‘এই লজ্জা আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে’, শরীর প্রদর্শন বিতর্কে জাহ্নবী কাপুর ব্যাংকিং খাতের নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করলেন অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ
Advertisement