ইনানীর ভূগর্ভে গ্যাসের সঙ্গে তেলের অস্তিত্ব, আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগতে পারে ১৫ দিন
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী ইউনিয়নের ছোটখাল এলাকায় গভীর নলকূপ খনন করতে গিয়ে ভূগর্ভ থেকে নির্গত গ্যাসের সঙ্গে তেল পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করা এই ঘটনার পর থেকে এলাকাটি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলে থাকা এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভূগর্ভস্থ পরিস্থিতির বিস্তারিত পর্যবেক্ষণে আরও অন্তত ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূগর্ভ থেকে গ্যাস ও তেলের এই মিশ্রণ পাওয়ার বিষয়টি সাধারণ কোনো ঘটনা নয়। নলকূপ খননকারী প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মাটি খুঁড়ে অনেক গভীরে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই প্রচণ্ড চাপে গ্যাস বেরিয়ে আসে এবং তা দাহ্য হওয়ার কারণে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। তবে এখন সেই আগুনের শিখার সঙ্গে তরল পদার্থের মতো তেল বেরিয়ে আসার ঘটনা নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, মাটির অনেক গভীরে প্রাকৃতিক গ্যাসের পাশাপাশি খনিজ তেলের স্তরের উপস্থিতি রয়েছে, যা খননকার্য চালানোর সময় উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।
বাপেক্সের কারিগরি দল গত কয়েকদিন ধরে ইনানীর ওই এলাকায় অবস্থান করছে। আগুন নেভানোর পাশাপাশি পুরো এলাকাটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল জানিয়েছে, ভূগর্ভস্থ গ্যাস ও তেলের চাপ অস্বাভাবিক হওয়ায় এটি নিয়ন্ত্রণ করা কিছুটা সময়সাপেক্ষ। বর্তমানে যে পরিমাণ গ্যাস ও তেল নির্গত হচ্ছে তা পরিকল্পিতভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে বড় ধরনের বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যায়। এজন্য আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আগুনের তীব্রতা কমানোর কাজ চলছে। আগামী দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চলবে বলে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সাধারণ মানুষ কিছুটা আতঙ্কিত থাকলেও প্রশাসন তাদের আশ্বস্ত করছে যে, এলাকাটিতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গভীর নলকূপ খননকালে হঠাৎ এমন ভূগর্ভস্থ খনিজ সম্পদ পাওয়ার বিষয়টি এর আগেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটেছে, তবে ইনানীর এই ঘটনার ধরনটি বেশ কৌতুহলোদ্দীপক বলে মনে করছেন জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা। কেন এবং ঠিক কী কারণে এমন ঘটনা ঘটছে, তা নিশ্চিত হতে মাটির উপাদানের নমুনাসহ আরও বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত না পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এলাকার মানুষদের ওই নির্দিষ্ট স্থান থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাপেক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান ও উত্তোলন একটি সূক্ষ্ম প্রক্রিয়ার বিষয়। ইনানীর এই স্থানটি প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার হতে পারে কিনা, তা নিশ্চিত করতে আরও বড় ধরনের জরিপ প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আগুন নেভানো এবং গ্যাস ও তেলের প্রবাহ বন্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশগত দিকটি বিবেচনা করে এলাকাটিকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কারিগরি দল সেখানে অবস্থান করে সব ধরনের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়। জননিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষকে আগুনের উৎসস্থলের আশেপাশে ভিড় না করার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]