রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় প্রাণ হারালেন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি
রাজধানীর রামপুরা এলাকায় মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন শহীদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় এলাকায় বেপরোয়া গতিতে চলা দুটি বাসের পাল্লাপাল্লির সময় চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত শহীদুল্লাহ পেশায় ছিলেন একজন বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি। অকাল এই মৃত্যুতে তার পরিবারের সদস্যদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার দিনটি ছিল অনেকের জন্যই স্বাভাবিক এক কর্মব্যস্ত দিন, কিন্তু শহীদুল্লাহর পরিবারের জন্য তা বয়ে নিয়ে এল এক অপূরণীয় ক্ষতি।
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, শহীদুল্লাহ সম্প্রতি দেশের বাইরে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তিনি দেশে ফেরেন। বিদেশ থেকে ফেরার আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হলো না তার। বাড়ি ফেরার পথে আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় তাকে পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিতে হলো। নিহত শহীদুল্লাহর ছোট ভাই জুয়েল রানা জানান, তার বড় ভাই গত শনিবার চীন ভ্রমণে গিয়েছিলেন। সফরের পর বৃহস্পতিবার যখন তিনি দেশে ফিরলেন, তখন পরিবারের সবাই তাকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই সেই নির্মম দুর্ঘটনা তার প্রাণ কেড়ে নেয়।
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোর মধ্যে রামপুরা অন্যতম। প্রায়শই এখানে বাসচালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এদিনও ঠিক তেমনটিই ঘটেছে। যাত্রীবাহী দুটি বাস একে অপরকে অতিক্রম করার জন্য পাল্লাপাল্লি করছিল। রাস্তার মাঝখানে চলন্ত দুটি বাসের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ স্থানে আটকা পড়ে শহীদুল্লাহ। বাসের চালকরা ট্রাফিক আইন ও গতির তোয়াক্কা না করে যেভাবে প্রতিযোগিতা করছিলেন, তাতে পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি ছিল চরম পর্যায়ে। দ্রুতগতির বাস দুটির মাঝখানে চাপা পড়ে শহীদুল্লাহ গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সড়কে প্রতিনিয়ত এমন বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং পাল্লাপাল্লির ঘটনা জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা থাকলেও বাসচালকদের একাংশ তা মানতে নারাজ। যার ফলে শহীদুল্লাহর মতো অনেক কর্মজীবী মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছেন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হলেও তারা তাকে বাঁচানোর কোনো সুযোগ পাননি। দুর্ঘটনার পরপরই চালকরা বাস ফেলে পালিয়ে যায় কি না, তা নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শহীদুল্লাহর মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর তার পরিবারে চলছে মাতম। বিদেশ থেকে ফেরার পর আর কখনো দেখা হবে না প্রিয় মানুষটির সঙ্গে, এটি মেনে নেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তার সহকর্মীরা জানান, তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং দক্ষ একজন মিস্ত্রি ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি অনেকের কাছেই পরিচিত মুখ ছিলেন। তার এই অকাল প্রস্থান ব্যক্তিগতভাবে তার পরিবারের জন্য যেমন বিপর্যয়, তেমনি তাদের আর্থিক নিরাপত্তার জন্যও বড় ধাক্কা।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বাসচালকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। রাজধানীর সড়কগুলোকে নিরাপদ করতে এবং চালকদের এমন বেপরোয়া আচরণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। শহীদুল্লাহর মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে কি না, তা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনা আবারো মনে করিয়ে দিল যে, সড়কের শৃঙ্খলা বজায় না থাকলে এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব নয়। নিহতের পরিবার এখন শোকে মুহ্যমান এবং তারা দোষী চালকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]