চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে আহত যুবদলকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু
চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত যুবদলকর্মী আবু ইউসুফ জীবনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় অতর্কিত হামলার শিকার হয়ে আবু ইউসুফ ওরফে জীবন নামের এক যুবদলকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় এলাকাজুড়ে শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নিহত আবু ইউসুফ বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন। রাজনৈতিক পরিচয় অনুযায়ী তিনি যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
প্রাথমিক প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় দুর্বৃত্তদের একটি দল আবু ইউসুফের ওপর চড়াও হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করতে শুরু করে। হামলায় গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। সেখানে কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষ পর্যন্ত আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে গভীর ক্ষত থাকার কারণেই শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন। আবু ইউসুফের ওপর হামলার মোটিভ বা কারণ সম্পর্কে এখনো সুস্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য জোর তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকাটি বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। তার অকাল মৃত্যুতে দলের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকার কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়েছিল কি না, অথবা এর পেছনে ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা কাজ করেছে কি না—সেই বিষয়টি এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় এ ধরনের ঘটনা সচরাচর ঘটে না, ফলে জনমনে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যেই হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বর্তমানে হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]