জাপানি একটি নাটকের বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের অভিযোগ, জাপানি সংস্কৃতি ও বিনোদন শিল্পের আড়ালে সচেতনভাবে চীনবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশটির দাবি, সাংস্কৃতিক উপাদানের মাধ্যমে চীনকে নেতিবাচক ও অপশক্তি হিসেবে চিত্রায়িত করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে, যা কূটনৈতিক সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
বেইজিংয়ে আয়োজিত নিয়মিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কুও চিয়া খুন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, জাপানের সাম্প্রতিক একটি নাটকের ঘটনাপ্রবাহ এবং চরিত্র চিত্রায়ণ চীনকে হেয় করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রয়াস। মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, গণমাধ্যম ও বিনোদন শিল্প ব্যবহার করে কোনো রাষ্ট্রকে কলঙ্কিত করা আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার ও সুস্থ সংস্কৃতির পরিপন্থী। কুও চিয়া খুন জানান, নির্দিষ্ট এই নাটকটিতে চীনা চরিত্রগুলোকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা কেবল কাল্পনিক নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাপানি কোম্পানি সানরিও তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। চীনা দর্শকদের মধ্যে এই নাটকটি নিয়ে ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি হওয়ায় এবং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সানরিও কোম্পানি নাটকটির সঙ্গে তাদের অংশীদারিত্ব বা সহযোগিতা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। মূলত চীনে নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই জাপানি প্রতিষ্ঠানটি এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে বরাবরই কিছু স্পর্শকাতর বিষয় থাকে। তবে যখন কোনো বিনোদনমূলক নাটক বা সিরিজ কোনো বিশেষ দেশের ভাবমূর্তিকে আঘাত করে, তখন তা দ্রুত কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনার জন্ম দেয়। জাপান ও চীনের মধ্যে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। এই প্রেক্ষাপটে বিনোদন জগতেও দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার সংকট প্রকট হয়ে উঠছে।
বেইজিংয়ের এই কড়া বার্তার পর জাপানি বিনোদন শিল্পের ওপর কি ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব জাপানি কোম্পানি চীনা বাজারে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে, তারা এখন আরও সতর্ক হওয়ার চেষ্টা করবে। সানরিও কোম্পানির এই দ্রুত পিছু হটা সেই সতর্কতারই ইঙ্গিত বহন করে। চীন বরাবরই তাদের জাতীয় ভাবমূর্তির বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেকোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কিংবা বিদেশি গণমাধ্যমে নিজেদের দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি বা চরিত্র নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য বা চিত্রায়ণকে তারা উসকানিমূলক হিসেবে দেখে।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সরকার বা শিল্পমহলের পক্ষ থেকে আরও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন অনলাইন ফোরামে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বেইজিংয়ের এই অবস্থানের পর জাপানি প্রযোজনা সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে চীন সম্পর্কিত বিষয়বস্তু নিয়ে আরও বেশি সচেতন ও সতর্ক হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে যে বিনোদন মাধ্যমগুলো কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এই ঘটনাটি তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। আপাতত জাপানি নাটকের এই বিতর্কিত বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক মহলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ৮:১৪ অপরাহ্ণ