খুঁজুন
, ,

বাংলাদেশ হ্যান্ডবল দলের দায়িত্ব নিলেন পর্তুগিজ কোচ ফার্নান্দো মিগুয়েল

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ হ্যান্ডবল দলের দায়িত্ব নিলেন পর্তুগিজ কোচ ফার্নান্দো মিগুয়েল

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হ্যান্ডবলে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পর্তুগিজ কোচ ফার্নান্দো মিগুয়েল ডি অলিভেইরা নুনেসকে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন। আসন্ন নারী হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো ফলের প্রত্যাশায় এই বিদেশি বিশেষজ্ঞের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরু হচ্ছে।

বাংলাদেশের হ্যান্ডবল অঙ্গনে নতুন হাওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের খেলার মান উন্নয়ন এবং খেলোয়াড়দের কৌশলী করে তোলার লক্ষ্যে এবার বিদেশি কোচের ওপর আস্থা রেখেছে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন। পর্তুগালের অভিজ্ঞ কোচ ফার্নান্দো মিগুয়েল ডি অলিভেইরা নুনেস দায়িত্ব বুঝে নিতে ঢাকায় পা রাখছেন। মূলত আসন্ন এশিয়ান নারী হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সকে আরও ধারালো ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার লক্ষ্যেই এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় দলের এই বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পটি চলবে টানা ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই দীর্ঘ সময়ে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, খেলার নতুন কৌশল রপ্ত করা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই পর্তুগিজ কোচকে দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে ফেডারেশন চাইছে নারী হ্যান্ডবল দলের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং মহাদেশীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ভালো ফলাফল করতে।

খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও খেলার ধরনে আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে ফেডারেশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফার্নান্দো মিগুয়েল এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হ্যান্ডবল প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন, যার ফলে তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে বলে মনে করছে হ্যান্ডবল সংশ্লিষ্টরা। এই ক্যাম্পের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের হ্যান্ডবল খেলার বর্তমান মানদণ্ড যাচাই করবেন এবং খেলোয়াড়দের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা সংশোধনের জন্য নিবিড় কাজ করবেন।

আসন্ন এশিয়ান নারী হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী দলের সদস্যদের জন্য এই প্রশিক্ষণ সেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আধুনিক হ্যান্ডবলের যে কৌশলগত পরিবর্তনগুলো বিশ্বজুড়ে দেখা যাচ্ছে, সেগুলো বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের আয়ত্তে আনার জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। ফেডারেশনের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, এই ক্যাম্পের সফলতা কেবল একটি টুর্নামেন্টের ওপর নির্ভর করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় দলের ভিত্তি মজবুত করার লক্ষ্যেই এই পর্তুগিজ কোচের শরণাপন্ন হওয়া।

প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরুর আগে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির ওপরও বেশ কিছু সেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফার্নান্দো মিগুয়েল দলের সাথে যোগ দেওয়ার পর থেকে মূলত আধুনিক হ্যান্ডবল টেকনিক ও গেম প্ল্যানিংয়ের ওপর বেশি নজর দেবেন। বিশেষ করে আক্রমণ ও রক্ষণভাগের সমন্বয় সাধনে তিনি কাজ করবেন। ফেডারেশন আশা করছে, বিদেশি এই কোচের অধীনে নিয়মিত অনুশীলনের ফলে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের হ্যান্ডবল দল আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

সব মিলিয়ে আসন্ন এশিয়ান নারী হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপকে কেন্দ্র করে হ্যান্ডবল ফেডারেশনের এই উদ্যোগটি বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। পর্তুগিজ এই প্রশিক্ষকের অধীনে কঠোর অনুশীলনের পর খেলোয়াড়রা কতটা উন্নতি করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সার্বিক সফলতার ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনের কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।

নদীর স্রোত আর অভাবের লড়াই জয় করে জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন লিকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
নদীর স্রোত আর অভাবের লড়াই জয় করে জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন লিকা

অভাব-অনটন আর দারিদ্র্যকে সঙ্গী করেই যার বেড়ে ওঠা, সেই লিকা পোদ্দার আজ সাফল্যের শিখরে। ব্যাডমিন্টন কোর্টে দাপট দেখিয়ে জিতে নিলেন ৪০তম জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। জীবনের প্রতিটি বাঁকে লড়াই করা এই তরুণীর হাতে জাতীয় চ্যাম্পিয়নের মুকুট ওঠায় এখন চারদিকে প্রশংসার জোয়ার। অথচ তার জীবনের শুরুটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। মংলার নিভৃত পল্লীতে মৎস্যজীবী বাবার জালে আটকা পড়া মাছের ওপরই নির্ভর করত পরিবারটির অন্ন সংস্থান। সেই জীবন সংগ্রাম থেকে উঠে এসে আজ জাতীয় পর্যায়ে সেরা হওয়ার গল্পটা রূপকথার মতো মনে হলেও তা বাস্তবে পরিণত করেছেন লিকা।

কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য জেদ থাকলে যে কোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন লিকা। সিনিয়র জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ক্যারিয়ারের প্রথম শিরোপা জয়ের পর মুহূর্তের আনন্দ আর আবেগ ধরে রাখা কঠিন ছিল তার জন্য। শিরোপা হাতে পাওয়ার পর পরই তিনি ভিডিও কলে কথা বলেন মংলায় থাকা মায়ের সঙ্গে। প্রিয় সন্তানের সাফল্যের খবর শুনে মায়ের চোখ ভিজে যায় আনন্দে। মায়ের কণ্ঠে জয়ের অভিনন্দন আর আবেগমাখা কথা শুনে লিকাও কেঁদে ফেলেন। ফোনের এপার-ওপারে দুই প্রজন্মের সেই কান্নার শব্দ যেন বলে দিচ্ছিল কত বড় ত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই অর্জন।

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এমন অনেক প্রতিভাই আছে যারা অভাবের সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে চলেছেন। তবে লিকার এই যাত্রা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। প্রশিক্ষণের সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতা আর পারিবারিক টানাপড়েনকে ছাপিয়ে তিনি যে দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন, তা ভবিষ্যতে অন্য অনেক খেলোয়াড়ের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। খেলার মাঠে তার প্রতিটি স্ম্যাশ আর মুভমেন্টের পেছনে ছিল টিকে থাকার লড়াই। ছোটবেলা থেকে নদীকেন্দ্রিক জীবনে বড় হওয়া লিকা খেলার কৌশল রপ্ত করেছেন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। নিজের শারীরিক সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করে কোর্টে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন তিনি।

মংলার একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে লিকার এই জাতীয় সাফল্য অনেকের মনেই নতুন স্বপ্ন জাগিয়েছে। বিশেষ করে মফস্বলের মেয়েদের জন্য তিনি এক নতুন উদাহরণ। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বা বড় পৃষ্ঠপোষক ছাড়াই নিজের মেধা ও একাগ্রতার জোরে তিনি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে আজকের এই জাতীয় সাফল্য পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই তাকে লড়তে হয়েছে নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে। খেলার মাঠে তার ধৈর্য আর মনোবলই ছিল তার মূল চালিকাশক্তি। আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের নাম উজ্জ্বল করবেন লিকা, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দেশের ব্যাডমিন্টনপ্রেমী মানুষ।

লিকার এই অসামান্য সাফল্যের পর এখন প্রশ্ন উঠেছে, তাকে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও উন্নত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব কি না। জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তার সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। আরও বড় প্রতিযোগিতায় নিজেকে প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজন পেশাদার প্রশিক্ষণ ও সঠিক দিকনির্দেশনা। লিকার এই সাফল্য যেন কেবল একটি পদকেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের নীতিনির্ধারকরা তার প্রতি সদয় হবেন এমনটাই প্রত্যাশা ক্রীড়াপ্রেমীদের। মংলা থেকে শুরু হওয়া লিকার এই জয়যাত্রা দেশ ছাড়িয়ে দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ুক, এটাই এখন সবার চাওয়া।

কমনওয়েলথ কাবাডিতে আধিপত্য বিস্তার করে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
কমনওয়েলথ কাবাডিতে আধিপত্য বিস্তার করে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। ভারতের আহমেদাবাদে চলমান এই টুর্নামেন্টে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিলেন লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন খেলোয়াড়রা। বৃহস্পতিবার টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে পাত্তাই দেয়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে মাঠ ছাড়েন তারা।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দল বেশ ছন্দে ছিল। আহমেদাবাদের বীর সাভারকর স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা ব্যক্তিগত ও দলীয় সমন্বয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। রক্ষণভাগ এবং আক্রমণভাগে সমানতালে লড়াই করে স্কটল্যান্ডের কাবাডি দলকে দিশেহারা করে ফেলেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে ৭০-২০ পয়েন্টে হারিয়েছে বাংলাদেশ। স্কটল্যান্ড পুরো ম্যাচে সেভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগই পায়নি। বাংলাদেশের সুসংগঠিত খেলার সামনে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইন বারবার ভেঙে পড়েছে এবং বাংলাদেশের রেইডাররা নিয়মিত বিরতিতে পয়েন্ট আদায় করেছেন।

টুর্নামেন্টের ‘বি’ গ্রুপে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ তাদের পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে চারটিতেই জয়লাভ করেছে। গ্রুপ পর্বে মোট আট পয়েন্ট অর্জন করে টেবিলের শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে তারা। গ্রুপ পর্বে এই জয়ের ফলে দলটির আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। লিটন দাসের নেতৃত্বে দলের বর্তমান ফর্ম এবং জয়ের এই ধারাবাহিকতা সেমিফাইনালে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। কোচিং স্টাফ এবং দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা মনে করছেন, গ্রুপ পর্বের এই ছন্দ ধরে রাখতে পারলে টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে রক্ষণভাগে এবং রেইডিংয়ের ক্ষেত্রে যেভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। স্কটল্যান্ডের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই ব্যবধানে জয় পাওয়া নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন। এখন সেমিফাইনালের কঠিন লড়াইয়ের জন্য দল নিজেদের প্রস্তুত করছে। টুর্নামেন্টের নকআউট পর্যায়ে প্রতিপক্ষ কে হবে, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। যদিও প্রতিপক্ষ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয় বাংলাদেশ দল, বরং নিজেদের সেরাটা দেওয়ার দিকেই নজর তাদের বেশি।

ভারতের মাটিতে এই কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের আসরে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেওয়ার বড় সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। কাবাডিতে বাংলাদেশের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য পাওয়ার জন্য এই আসরটি একটি মাইলফলক হতে পারে। গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। এখন সেমিফাইনালের লড়াইয়ে আরও সতর্ক এবং পরিকল্পিতভাবে মাঠে নামার অপেক্ষায় লিটন বাহিনী। আহমেদাবাদের দর্শকরাও বাংলাদেশের খেলার ধরণ বেশ উপভোগ করছেন। সেমিফাইনালে জয়লাভ করতে পারলে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন আরও বাস্তব হবে। পুরো দেশের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ এখন পরবর্তী ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছেন, যেখানে বাংলাদেশ তাদের সেরা ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

রাজধানীর ধলপুরে এসআরবির অভিযানে তরুণের মৃত্যু, স্বাধীন তদন্তের দাবি জানাল এইচআরএসএস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
রাজধানীর ধলপুরে এসআরবির অভিযানে তরুণের মৃত্যু, স্বাধীন তদন্তের দাবি জানাল এইচআরএসএস

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার ধলপুরে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) একটি অভিযান চলাকালীন গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৮ বছর বয়সী মারুফ ওরফে দুখু মিয়ার মৃত্যুর ঘটনাটি জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংগঠনটি কেবল শোক প্রকাশ করেই দায়িত্ব শেষ করেনি, বরং ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর দুপুরে এসআরবির সদস্যরা ধলপুর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে অভিযান পরিচালনা করছিলেন। সে সময় গুলিবর্ষণের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারুফের মৃত্যু ঘটে। স্থানীয় পর্যায়ে খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এইচআরএসএস তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধান এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের উদ্দেশ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও, সেখানে প্রাণহানির মতো ঘটনা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পেশাদারিত্ব ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএসএস কেবল একটি বিবৃতিতেই থেমে থাকেনি, বরং তারা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেছে। এই দাবিগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা। সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের যথাযথ প্রশিক্ষণ এবং গুলি চালানোর ক্ষেত্রে যে আন্তর্জাতিক প্রটোকল ও আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা কি সেখানে মানা হয়েছিল—তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন কমিশন গঠন করতে হবে। এছাড়া, নিহত তরুণের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিও তোলা হয়েছে।

নিহত তরুণের স্বজনদের আহাজারিতে ধলপুর এলাকার পরিবেশ এখন ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মারুফ সে সময় ওই এলাকায় উপস্থিত ছিল। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে সে এসআরবির গুলির শিকার হলো, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। অনেকে দাবি করছেন, কোনো বড় ধরনের গোলযোগ বা সংঘর্ষের আগেই গুলি চালানোর ঘটনাটি অস্বাভাবিক। এইচআরএসএস মনে করছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত না হবে, ততক্ষণ প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা অসম্ভব। তারা বিচার বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত সদস্যদের সাময়িক বরখাস্ত করে তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এসআরবির মতো বিশেষায়িত বাহিনীর কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সেখানে তাদের হাতেই যদি সাধারণ নাগরিকের প্রাণ যায়, তবে সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো প্রতিটি মৃত্যুর কারণ ব্যাখ্যা করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। এইচআরএসএসের সাত দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হলো, ভবিষ্যতে যেন এমন অভিযান পরিচালনার সময় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয় এবং অস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালা আরও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাচ্ছে। এইচআরএসএসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ঘটনা কেবল একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, এটি মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের এক বড় ধরনের লঙ্ঘন হতে পারে যদি যথাযথ তদন্ত না হয়। তারা আশা করছে, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে যে কেউ—সে যে বাহিনীর সদস্যই হোক না কেন—তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কি না, তা নিয়ে কোনো স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, ঘটনার সত্যতা প্রকাশ পাওয়া এখন সময়ের দাবি।

সর্বশেষ
নদীর স্রোত আর অভাবের লড়াই জয় করে জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন লিকা কমনওয়েলথ কাবাডিতে আধিপত্য বিস্তার করে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ রাজধানীর ধলপুরে এসআরবির অভিযানে তরুণের মৃত্যু, স্বাধীন তদন্তের দাবি জানাল এইচআরএসএস ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে আহত যুবদলকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু বাংলাদেশ হ্যান্ডবল দলের দায়িত্ব নিলেন পর্তুগিজ কোচ ফার্নান্দো মিগুয়েল কুষ্টিয়ায় চিকিৎসা সংকটে জনজীবন, জরুরি বিভাগসহ বন্ধ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ তাহসিফ সাউরির মৃত্যু: তদন্তের আগে মন্তব্য করতে নারাজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, স্বস্তি প্রকাশ ইসির স্ত্রীসহ নওগাঁর সাবেক এমপি ছলিমের ২৭টি ব্যাংক হিসাব জব্দ
Advertisement