ভুল তথ্যের মায়াজাল কাটাতে তরুণ প্রজন্মকে সচেতনতার বার্তা দিলেন ডা. জাহেদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ৮:১৪ অপরাহ্ণ

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিনিয়ত ছড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য। এই অনলাইনের যুগে তথ্যপ্রবাহের অবাধ স্বাধীনতার কারণে সাধারণ মানুষ প্রায়শই ভুল তথ্যের ফাঁদে পা দিচ্ছেন। এই সমস্যাটি বিশেষ করে বয়স্ক নাগরিকদের ক্ষেত্রে বেশ প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি মনে করেন, বয়স্করা অনেক সময় প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেন না, যার ফলে তারা ভুল তথ্যের প্রভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

বৃহস্পতিবার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। ‘একবিংশ শতাব্দীর তরুণদের জন্য মিডিয়া ও ইনফরমেশন লিটারেসি স্কিলস’ শীর্ষক এই আয়োজনে তিনি বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন এবং বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ভুল তথ্যের কুফল থেকে সমাজের একটি বড় অংশকে রক্ষা করার জন্য তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বয়স্ক আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতজনদের অনলাইনে কোনো তথ্য পেলে সেটি যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তরুণদের গাইড বা সহায়তা করা উচিত। প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ হওয়ায় তরুণরাই পারে তাদের অভিভাবক ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সঠিক তথ্যের উৎস চিনিয়ে দিতে এবং গুজব থেকে দূরে রাখতে।

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, তথ্যের সঠিকতা যাচাই করার দক্ষতা বা মিডিয়া লিটারেসি এখন সময়ের বড় প্রয়োজন। শুধু তরুণদের নিজেদের শিক্ষিত করলেই চলবে না, তাদের অর্জিত জ্ঞান পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে হবে। বয়স্করা যেহেতু অনেক সময় হুজুগে বা আবেগের বশবর্তী হয়ে তথ্য শেয়ার করেন, তাই তাদের সচেতন করার দায়িত্ব পরিবারের তরুণ সদস্যদেরই নিতে হবে। এটি কেবল একটি সামাজিক দায়িত্বই নয়, বরং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্যও জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সেমিনারে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভুয়া খবর বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিবাদ করা বা সঠিক তথ্য তুলে ধরার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তির এই বিশাল জগতকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের সজাগ থাকতে হবে যাতে আমরা বিভ্রান্ত না হই এবং অন্যদেরও বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করতে পারি।

অনুষ্ঠানটি আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের মধ্যে মিডিয়া লিটারেসি বা সংবাদ সচেতনতা বৃদ্ধি করা। আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বিশ্বে তরুণরা যেভাবে তথ্যের উৎস খুঁজে বের করতে পারে, প্রবীণদের সেই সক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রে সীমিত। এই ব্যবধান কমিয়ে আনার জন্য তরুণদের মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন উপদেষ্টা। সঠিক তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে সমাজে বিশৃঙ্খলা কমবে এবং মানুষ নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারের পক্ষ থেকেও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা হচ্ছে, তবে ব্যক্তি পর্যায় থেকে সচেতনতা তৈরি না হলে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়। তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই একটি শিক্ষিত ও সচেতন জাতি গঠন করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন এবং ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন আয়োজনের প্রশংসা করেন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন