খুঁজুন
, ,

ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন: সরকার গঠনে চারটি সম্ভাব্য সমীকরণ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন: সরকার গঠনে চারটি সম্ভাব্য সমীকরণ

ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। দেশজুড়ে সাধারণ ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার রাত দশটা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলো খোলা থাকবে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের আক্রমণের পর গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে বিরোধী জোটের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইটি এখন তুঙ্গে। নির্বাচনী জরিপগুলো বলছে, কোনো একক পক্ষই পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন এককভাবে পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এর ফলে ভোটের ফলাফলের পর সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী দর-কষাকষির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নির্বাচনী বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে ভোটের পর সরকার গঠনের ক্ষেত্রে চারটি প্রধান পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। প্রথমত, কোনো পক্ষই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে দেশটিতে একটি ভঙ্গুর বা দুর্বল জোট সরকার গঠিত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসানে বড় দলগুলো মিলে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তৃতীয়ত, যদি নির্বাচনের ফলাফল খুব কাছাকাছি হয় তবে সরকার গঠনের জন্য ছোট দলগুলোর সমর্থন আদায়ে বড় দলগুলোকে অনেক ছাড় দিতে হতে পারে, যা দেশটির নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে। চতুর্থত, যদি কোনো পক্ষই সরকার গঠনে ব্যর্থ হয় তবে ইসরায়েলের ইতিহাসে আবারও নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। সমালোচকদের মতে, তাঁর অতি ডানপন্থী সরকারের ব্যর্থতায় হামাসের হামলার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে এবং দেশটির উদারপন্থী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে তাঁর সমর্থকগোষ্ঠী এখনো অটুট। তাদের কাছে নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং তাঁর অভিজ্ঞতাই বর্তমান সময়ে দেশটির নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের বিরোধী জোটটি বেশ বৈচিত্র্যময়। এই জোটে বামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ দল, মধ্যপন্থী টেকনোক্র্যাট এমনকি পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনি আরব দলগুলোও রয়েছে। তাদের রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হলেও সবার সাধারণ লক্ষ্য হলো নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের ক্ষমতার সমাপ্তি ঘটানো। এই মতাদর্শের ভিন্নতা সরকার গঠনের পরবর্তী পর্যায়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

নির্বাচনের আইন অনুযায়ী, ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর প্রতিটি দল তাদের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন লাভ করবে। সরকার গঠনের জন্য যে জটিল গাণিতিক হিসাব বা জোট গঠনের প্রক্রিয়া প্রয়োজন, তা শেষ হতে কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। ماضی (অতীতের) অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, ইসরায়েলের রাজনীতিতে নির্বাচনের চেয়ে ভোটের পরের দর-কষাকষি বেশি জটিল হয়ে ওঠে। ‘কিংমেকার’ হিসেবে ছোট দলগুলোর গুরুত্ব এই মুহূর্তে অনেক বেশি। তারা যার দিকে হাত বাড়াবে, সরকার গঠনের পাল্লা সেদিকেই ভারী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক কৌশলের দীর্ঘদিনের পরিচিত সমালোচকরা বলছেন, নিরাপত্তা ইস্যুটি এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাবক। যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা সংকটের মুখে ভোটাররা কতটা পরিবর্তন চান বা বর্তমান ব্যবস্থার ওপরই আস্থা রাখেন, তা ফলাফল প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে। পুরো দেশ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ফলাফল কী দাঁড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের চাবিকাঠি কার হাতে থাকে, তা দেখার জন্য। ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা কেবল সময়ই বলে দেবে।

সপ্তাহের মধ্যেই নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের আশ্বাস শ্রমমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
সপ্তাহের মধ্যেই নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের আশ্বাস শ্রমমন্ত্রীর

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শ্রমিকদের কল্যাণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।

দেশের শ্রমজীবী মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং বর্তমান কর্মপরিবেশের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে সরকার বড় ধরণের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে। সাম্প্রতিক এক সরকারি নির্দেশনায় বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে, যেখানে মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এই ঘোষণা আসে। সরকারের এই উদ্যোগকে শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

বর্তমান বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিকের মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক সংগঠনগুলো এবং বিভিন্ন খাতের শ্রমিকরা মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। দায়িত্বশীল জায়গা থেকে দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, মজুরি বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। মালিকপক্ষ এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে এই বোর্ড গঠিত হবে। বোর্ডে উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হবে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে মজুরি বোর্ডের কার্যকারিতা ও মজুরি বৃদ্ধির হার নিয়ে যে সমালোচনা ছিল, তা দূর করতেই এবার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করছে, সঠিক সময়ে মজুরি বোর্ড গঠন করতে পারলে শিল্প খাতে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হবে।

শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, মুদ্রাস্ফীতির কারণে সাধারণ শ্রমিকের জীবন যাপন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি ঘোষণাটি কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। তবে মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম কত দ্রুত শুরু হবে এবং নতুন কাঠামো কবে থেকে কার্যকর হবে, তা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে যেন দ্রুত বাস্তবায়নের মুখ দেখে, সে দাবিও জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, কেবল নতুন বোর্ড গঠনই নয়, বরং বোর্ডের প্রতিটি সুপারিশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল কারিগর শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। নতুন গঠিত মজুরি বোর্ড সব খাতের শ্রমিকদের বর্তমান চাহিদা বিশ্লেষণ করবে এবং সেই অনুযায়ী যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণের সুপারিশ প্রদান করবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঘোষিত এই সময়সীমার মধ্যেই মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মজুরি বোর্ডের সদস্য তালিকা প্রকাশ করবে।

শিল্প মালিকরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করা হলে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং উৎপাদন খরচ নির্ধারণে তাদের সুবিধা হবে। দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা এড়াতে মজুরি কাঠামো নিয়মিত বিরতিতে সংস্কার করার যে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা পালনেও এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। সব মিলিয়ে শ্রমিক, মালিক এবং সরকার—তিন পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের শিল্প ও শ্রমখাত নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

জাপান সফরে টোকিওতে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন জুবাইদা রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
জাপান সফরে টোকিওতে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন জুবাইদা রহমান

জাপান সফরের তৃতীয় দিনে টোকিওতে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রবীণ পরিচর্যা বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন জুবাইদা রহমান। এসময় তিনি সেখানকার উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত হন।

জাপান সফরের অংশ হিসেবে বর্তমানে টোকিও অবস্থান করছেন জুবাইদা রহমান। সফরের তৃতীয় দিনে তিনি জাপানের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখেছেন। এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল জাপানের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং প্রবীণদের যত্ন নেওয়ার পদ্ধতিগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা। টোকিওতে পৌঁছানোর পর থেকে তিনি দেশটির স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

পরিদর্শনকালে জুবাইদা রহমান বেশ কিছু নার্সিং হোম এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল ঘুরে দেখেন। এসব প্রতিষ্ঠানে বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের যেভাবে সেবা প্রদান করা হয় এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে, তা তিনি প্রত্যক্ষ করেন। জাপানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সারা বিশ্বে প্রবীণদের সুস্থতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অন্যতম রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে দক্ষ নার্সিং সেবার মাধ্যমে বয়স্কদের স্বনির্ভর রাখা এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার যে কর্মপরিকল্পনা জাপান বাস্তবায়ন করেছে, তা এই সফরের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল।

সফরের এই পর্যায়ে জুবাইদা রহমান দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে আলাপকালে জাপানের স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে জনসংখ্যা হ্রাসের এই যুগে প্রবীণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাপানিরা যেসব সৃজনশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, সেগুলোর বিষয়ে তিনি বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। হাসপাতালগুলোতে ব্যবহৃত আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং চিকিৎসা প্রযুক্তির উৎকর্ষতার বিষয়গুলোও তার পরিদর্শনে উঠে আসে। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মপদ্ধতি কীভাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিচ্ছে, সেটিও তিনি পর্যবেক্ষণ করেন।

জাপানের সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক মূল্যবোধ কীভাবে স্বাস্থ্যসেবার সাথে মিশে আছে, তা এই সফরে বেশ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। জুবাইদা রহমান কেবল চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাই নয়, বরং সেখানকার সংস্কৃতিবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করেন। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার গুরুত্ব নিয়ে তিনি মতবিনিময় করেন। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য খাত ও সমাজসেবামূলক উদ্যোগে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সফরের এই পর্যায়ে তিনি জাপানের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য তৈরি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সম্পর্কেও সম্যক ধারণা লাভ করেছেন। বিশেষ করে নার্সিং সেবা খাতকে কীভাবে আরও বেশি মানবিক ও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে গঠনমূলক আলোচনা করেন। এই পরিদর্শনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন কোনো উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে জাপানের মডেলটি সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জুবাইদা রহমানের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। জাপানের স্বাস্থ্য অবকাঠামো এবং তাদের জনসেবামূলক দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে কীভাবে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে তার এই সফর নতুন কোনো দিক উন্মোচন করবে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সফরের পরবর্তী দিনগুলোতেও তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে তার এই জাপান সফর দুই দেশের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি অনন্য ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত: ১৮৫ কেন্দ্রে কাল ভোটগ্রহণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত: ১৮৫ কেন্দ্রে কাল ভোটগ্রহণ

জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে পুরো নির্বাচনী এলাকায় এখন উৎসবের আমেজ। সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে এখন শুধু ভোটারদের রায়ের অপেক্ষায় প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে নির্ধারিত ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। ভোটগ্রহণ চলবে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সকাল ৮টায় নির্বাচনী প্রচারণার সময়সীমা শেষ হয়েছে। প্রচারণার শেষ সময়ে প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের সরব উপস্থিতি থাকলেও এখন নির্বাচনী এলাকায় নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। আচরণবিধি অনুযায়ী এখন সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের দিন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। বিশেষ করে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যসহ অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

উপনির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছানোর কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সরঞ্জাম বিতরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসারদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভোটের দিন যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সামাল দিতে স্ট্রাইকিং ফোর্স ও ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনোভাবেই যেন নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি লঙ্ঘন না হয়। প্রতিটি কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে কঠোর নজরদারি রাখা হবে। ভোটারদের কোনো রকম ভীতি বা প্রলোভন প্রদর্শন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

ভোটারদের প্রত্যাশা, নতুন প্রতিনিধি নির্বাচন করার এই প্রক্রিয়ায় যেন কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে তারা তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন। এখন কেবল বৃহস্পতিবার সকালের সূর্য ওঠার অপেক্ষা, যখন ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই উপনির্বাচন একটি দৃষ্টান্তমূলক নির্বাচন হিসেবে সম্পন্ন হবে।

সর্বশেষ
সপ্তাহের মধ্যেই নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের আশ্বাস শ্রমমন্ত্রীর জাপান সফরে টোকিওতে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রবীণ পরিচর্যা কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন জুবাইদা রহমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত: ১৮৫ কেন্দ্রে কাল ভোটগ্রহণ স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনা, কোপা দেল রে’র সব ম্যাচ স্থগিত গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতার, টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ পপির মায়ের মৃত্যুতে শোক জানালেন ওমর সানী বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে হাসপাতাল থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার গুঞ্জন উড়িয়ে শিরোপা জয়ে স্পেনকে কৃতিত্ব দিলেন রোমেরো
Advertisement