ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। দেশজুড়ে সাধারণ ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার রাত দশটা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলো খোলা থাকবে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের আক্রমণের পর গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে বিরোধী জোটের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইটি এখন তুঙ্গে। নির্বাচনী জরিপগুলো বলছে, কোনো একক পক্ষই পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন এককভাবে পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এর ফলে ভোটের ফলাফলের পর সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী দর-কষাকষির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নির্বাচনী বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে ভোটের পর সরকার গঠনের ক্ষেত্রে চারটি প্রধান পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। প্রথমত, কোনো পক্ষই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে দেশটিতে একটি ভঙ্গুর বা দুর্বল জোট সরকার গঠিত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসানে বড় দলগুলো মিলে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তৃতীয়ত, যদি নির্বাচনের ফলাফল খুব কাছাকাছি হয় তবে সরকার গঠনের জন্য ছোট দলগুলোর সমর্থন আদায়ে বড় দলগুলোকে অনেক ছাড় দিতে হতে পারে, যা দেশটির নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে। চতুর্থত, যদি কোনো পক্ষই সরকার গঠনে ব্যর্থ হয় তবে ইসরায়েলের ইতিহাসে আবারও নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। সমালোচকদের মতে, তাঁর অতি ডানপন্থী সরকারের ব্যর্থতায় হামাসের হামলার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে এবং দেশটির উদারপন্থী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে তাঁর সমর্থকগোষ্ঠী এখনো অটুট। তাদের কাছে নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং তাঁর অভিজ্ঞতাই বর্তমান সময়ে দেশটির নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের বিরোধী জোটটি বেশ বৈচিত্র্যময়। এই জোটে বামপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ দল, মধ্যপন্থী টেকনোক্র্যাট এমনকি পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনি আরব দলগুলোও রয়েছে। তাদের রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হলেও সবার সাধারণ লক্ষ্য হলো নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের ক্ষমতার সমাপ্তি ঘটানো। এই মতাদর্শের ভিন্নতা সরকার গঠনের পরবর্তী পর্যায়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
নির্বাচনের আইন অনুযায়ী, ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর প্রতিটি দল তাদের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন লাভ করবে। সরকার গঠনের জন্য যে জটিল গাণিতিক হিসাব বা জোট গঠনের প্রক্রিয়া প্রয়োজন, তা শেষ হতে কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। ماضی (অতীতের) অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, ইসরায়েলের রাজনীতিতে নির্বাচনের চেয়ে ভোটের পরের দর-কষাকষি বেশি জটিল হয়ে ওঠে। ‘কিংমেকার’ হিসেবে ছোট দলগুলোর গুরুত্ব এই মুহূর্তে অনেক বেশি। তারা যার দিকে হাত বাড়াবে, সরকার গঠনের পাল্লা সেদিকেই ভারী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক কৌশলের দীর্ঘদিনের পরিচিত সমালোচকরা বলছেন, নিরাপত্তা ইস্যুটি এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাবক। যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা সংকটের মুখে ভোটাররা কতটা পরিবর্তন চান বা বর্তমান ব্যবস্থার ওপরই আস্থা রাখেন, তা ফলাফল প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে। পুরো দেশ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ফলাফল কী দাঁড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের চাবিকাঠি কার হাতে থাকে, তা দেখার জন্য। ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা কেবল সময়ই বলে দেবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:১৪ পূর্বাহ্ণ