দুর্নীতির মামলায় বিসিএস ক্যাডার সঞ্জয় ও মুসার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
দুর্নীতির অভিযোগের একটি মামলায় ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত দুই সরকারি কর্মকর্তার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্তরা হলেন ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত সঞ্জয় দাস এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত আবু সালেহ মো. মুসা।
দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের চলমান মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের বিদেশ ভ্রমণে এই নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে অভিযুক্তদের দেশের বাইরে যাওয়া ঠেকাতে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দুদকের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালতের এই আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ ইমিগ্রেশন ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মামলার তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই দুই ব্যক্তি যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
আইনজীবীদের মতে, সাধারণত দুর্নীতির মামলায় যখন কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় এবং মামলার তদন্ত চলমান থাকে, তখন তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্তদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য আদালতের মাধ্যমে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে থাকেন। এক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালত মামলার গুরুত্ব ও তথ্য-উপাত্ত বিচার-বিশ্লেষণ করেই তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
উল্লেখ্য, ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ পাওয়ার পর থেকে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দুদক এসব অভিযোগ তদন্ত করছে। মামলার তদন্ত পর্যায়ে অভিযুক্তদের দেশত্যাগ রোধ করতে পারলে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত সম্পন্ন করা সহজ হয়। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে দুদক আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ইমিগ্রেশন পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট সীমান্তরক্ষী বাহিনী এই আদেশ কার্যকর করার জন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে দুদক ও আদালতের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আবারও সামনে এল। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]