খুঁজুন
, ,

টঙ্গীর মাদ্রাসায় ছাত্রকে চুমু দেওয়ার অভিযোগ, উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
টঙ্গীর মাদ্রাসায় ছাত্রকে চুমু দেওয়ার অভিযোগ, উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় অবস্থিত কারীউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় এক অপ্রীতিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একটি মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে চুমু দেওয়া ও তার সঙ্গে অস্বস্তিকর আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, মাদ্রাসার ওই শিক্ষক শিশুটিকে চুমু দিয়েছিলেন, যা শিশুটির কাছে স্বাভাবিক মনে হয়নি। কোমলমতি শিশুটি বিষয়টি বাড়িতে ফিরে তার বাবা-মাকে খুলে বলে। এতে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা হতবাক ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা ওই শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডকে কেবল অবহেলা বা স্নেহ হিসেবে মেনে নিতে পারেননি, বরং একে শিশুর প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর আচরণ হিসেবে দেখছেন।

শিশুটির বাবা ন্যায়বিচারের আশায় মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে যান। অভিযোগ রয়েছে, যখন তিনি ঘটনার বিষয়ে জানতে চেয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার দাবি করেন, তখন বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে শিশুর বাবা উত্তেজিত হয়ে ওই শিক্ষককে চড় মেরে বসেন। এই ঘটনা মাদ্রাসার অভ্যন্তরে ও আশেপাশের এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেক অভিভাবক প্রশ্ন তুলছেন, একজন শিক্ষক কীভাবে শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ করেন। বিষয়টি নিয়ে কেবল ওই মাদ্রাসার পরিবেশই নয়, বরং সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা নৈতিকতার চরম অবক্ষয় নির্দেশ করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবসময় নিরাপদ ও নির্ভরতার জায়গা হওয়ার কথা। কিন্তু যখন কোনো শিক্ষক তার মর্যাদার অপব্যবহার করে শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করেন, তখন সেটি ওই শিশুর মানসিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই ধরণের ঘটনাকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দোষ হিসেবে না দেখে এর পেছনে থাকা মানসিকতা এবং মাদ্রাসার পরিবেশের ওপর নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে অনেকেই মন্তব্য করছেন।

বর্তমানে ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে এবং অনলাইন মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। যদিও ঘটনাটির আইনি সুরাহা বা মাদ্রাসা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। শিশুটির পরিবার বিচারের দাবিতে অনড় থাকলেও, পাল্টা চড় মারার ঘটনাটি নিয়েও ভিন্নমত রয়েছে। সব মিলিয়ে এই ঘটনা শিশু নিরাপত্তা এবং শিক্ষকের আচরণের নৈতিক সীমানা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

দুর্নীতির মামলায় বিসিএস ক্যাডার সঞ্জয় ও মুসার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
দুর্নীতির মামলায় বিসিএস ক্যাডার সঞ্জয় ও মুসার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

দুর্নীতির অভিযোগের একটি মামলায় ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত দুই সরকারি কর্মকর্তার দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্তরা হলেন ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত সঞ্জয় দাস এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত আবু সালেহ মো. মুসা।

দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের চলমান মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের বিদেশ ভ্রমণে এই নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে অভিযুক্তদের দেশের বাইরে যাওয়া ঠেকাতে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দুদকের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালতের এই আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ ইমিগ্রেশন ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মামলার তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই দুই ব্যক্তি যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আইনজীবীদের মতে, সাধারণত দুর্নীতির মামলায় যখন কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় এবং মামলার তদন্ত চলমান থাকে, তখন তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্তদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য আদালতের মাধ্যমে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে থাকেন। এক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালত মামলার গুরুত্ব ও তথ্য-উপাত্ত বিচার-বিশ্লেষণ করেই তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

উল্লেখ্য, ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ পাওয়ার পর থেকে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দুদক এসব অভিযোগ তদন্ত করছে। মামলার তদন্ত পর্যায়ে অভিযুক্তদের দেশত্যাগ রোধ করতে পারলে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত সম্পন্ন করা সহজ হয়। বর্তমানে এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে দুদক আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ইমিগ্রেশন পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট সীমান্তরক্ষী বাহিনী এই আদেশ কার্যকর করার জন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে দুদক ও আদালতের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আবারও সামনে এল। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে, ক্ষোভে টিকটকারের মুখে চুন-কালি দিয়ে এলাকাছাড়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে, ক্ষোভে টিকটকারের মুখে চুন-কালি দিয়ে এলাকাছাড়া

নওগাঁর মহাদেবপুরে শ্যালিকাকে বিয়ে করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে। নিজের প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই শ্যালিকাকে বিয়ে করার ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ওই ব্যক্তিকে মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশায় একজন আইনজীবীর সহকারী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকটকার হিসেবেও পরিচিত।

ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার দিবাগত রাতে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ব্যক্তি এলাকায় নানা ধরনের টিকটক ভিডিও তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করলেও ব্যক্তিগত জীবনে তার নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল। তবে সম্প্রতি তিনি যখন নিজের প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে শ্যালিকাকে বিয়ে করেন, তখন বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা এই বিয়েকে সামাজিক ও পারিবারিক রীতির পরিপন্থী বলে মনে করছেন, যা তাদের মধ্যে తీవ్ర প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

সোমবার রাত ১০টার দিকে বিরামগ্রাম এলাকায় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তির মুখোমুখি হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তারা ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ফেলেন এবং বিয়ের বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর জনরোষের এক পর্যায়ে তার মুখে চুন ও কালি মাখিয়ে দেওয়া হয়। এমন অপমানজনক পরিস্থিতির পর তিনি ওই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে এবং কার সম্মতিতে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল, তা নিয়ে এলাকায় নানা মতভেদ রয়েছে। অনেকে বিষয়টিকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নৈতিকতার স্খলন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে আইন ও সমাজের প্রথা ভাঙার অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশাদার টিকটকার হওয়ার কারণে তার প্রতিটি পদক্ষেপ স্থানীয়দের নজর কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন ভিডিও শেয়ার করতেন, যা অনেকের কাছে পরিচিত। তবে শ্যালিকাকে বিয়ের এই ঘটনাটি তার ব্যক্তিগত ইমেজের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয়রা জানান, এই ঘটনার পরপরই তিনি এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার বা অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও এ বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

বর্তমানে মহাদেবপুর উপজেলার সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তবে একজন ব্যক্তি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন এবং তার প্রথম স্ত্রী কীভাবে এই বিয়ে মেনে নিলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতুহলের শেষ নেই। বিয়ে বা পারিবারিক এই ধরনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনায় সাধারণত সামাজিকভাবে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়, এটি তারই একটি বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন অনেকে। পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং আইনগত দিক খতিয়ে দেখার জন্য স্থানীয় সচেতন মহলে দাবি উঠছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেল ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেল ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর বাণিজ্যিক মানচিত্রে নিজের অবস্থান ধরে রাখা কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শেষ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেল। একসময়ের জমজমাট এই শপিং কমপ্লেক্সটি এখন কেবলই স্মৃতির পাতায় ঠাঁই পাওয়ার অপেক্ষায়। আধুনিক বিপণিবিতানের ভিড়ে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে চিরতরে দরজা বন্ধ করে দিল এই প্রতিষ্ঠানটি।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালে কর্ণফুলী গ্রুপের হাত ধরে যাত্রা শুরু হয়েছিল এই শপিং কমপ্লেক্সের। শুরুর দিকে এটি ছিল নগরবাসীর কেনাকাটা এবং আড্ডার অন্যতম পছন্দের জায়গা। অভিজাত শপিং মল হিসেবে এর বেশ নামডাক ছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন আধুনিক শপিং মল গড়ে ওঠায় এই কমপ্লেক্সটি ধীরে ধীরে জৌলুস হারাতে থাকে।

মার্কেটটি বন্ধের নেপথ্যে বেশ কিছু গুরুতর কারণ উঠে এসেছে। এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো ধারাবাহিক ব্যবসায়িক মন্দা এবং ক্রেতা সমাগমের তীব্র সংকট। গত কয়েক বছর ধরে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত ক্রেতা পাচ্ছিলেন না, যার ফলে দোকানের নিয়মিত খরচ চালানোই দায় হয়ে পড়েছিল। এর সাথে যুক্ত হয় বিপুল পরিমাণ বকেয়া ইউটিলিটি বিলের বোঝা। সব মিলিয়ে ব্যবসায়িক পরিস্থিতি চরম প্রতিকূল হয়ে পড়লে মার্কেট কর্তৃপক্ষ কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।

গত ১ অক্টোবর থেকেই শপিং কমপ্লেক্সটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে মূল ফটকে তালা ঝুলছে এবং সেখানে একটি নোটিশ টাঙানো রয়েছে, যা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে যে এখন থেকে আর কেনাকাটার জন্য খোলা থাকবে না এই বিপণিবিতান। সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের পরিচিত এই মার্কেটটির সামনে এখন কেবলই শূন্যতা বিরাজ করছে। নিয়মিত যারা এখানে যাতায়াত করতেন, তারাও এখন বন্ধের বিষয়টি জানতে পেরে বিস্ময় প্রকাশ করছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত দোকান মালিকদের বিশাল অংকের বকেয়া বিল পরিশোধের চাপ এবং নতুন ক্রেতা টানতে ব্যর্থ হওয়া— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েই শেষ পর্যন্ত ব্যবসা গোটানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। যদিও শপিং কমপ্লেক্সটি বন্ধের আগে অনেকবার চেষ্টা করা হয়েছিল সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার এই ঘটনাটি কেবল একটি মার্কেটের পতনের গল্প নয়, বরং এটি রাজধানীর পুরোনো দিনের অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকার সংগ্রামের এক প্রতিচ্ছবি। বড় বড় শপিং মল এবং অনলাইন কেনাকাটার প্রসারের এই যুগে পুরোনো এই মার্কেটটি কেন টিকতে পারল না, তা নিয়ে ব্যবসায়িক মহলে নানা আলোচনা চলছে। তবে দিনশেষে বাস্তবতা হলো, একসময়ের এই জনপ্রিয় কেন্দ্রটি এখন বন্ধ হয়ে গেছে এবং নগরীর ব্যবসায়িক ইতিহাসে এটি একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে গেল।

সর্বশেষ
দুর্নীতির মামলায় বিসিএস ক্যাডার সঞ্জয় ও মুসার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে, ক্ষোভে টিকটকারের মুখে চুন-কালি দিয়ে এলাকাছাড়া স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেল ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি টঙ্গীর মাদ্রাসায় ছাত্রকে চুমু দেওয়ার অভিযোগ, উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দীপাবলির আবহে দিল্লির ব্যবসায়ীদের আবেদন, রাহুল গান্ধীর ‘৩০ সেকেন্ডের’ মন্তব্যে নতুন বিতর্ক নতুন ধারার জম্বি সিনেমা: বিনোদন জগতে ভয়ের নতুন মাত্রা হংকংয়ের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের সম্ভাবনা বাড়াতে বিশেষ রোড শো কুষ্টিয়ায় সমাবেশস্থল নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে জামায়াতের টানাপোড়েন দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের চিঠির কড়া জবাব রাহুলের, দায়ী করলেন কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টের আগে অস্বস্তিতে বাংলাদেশ, ইনজুরিতে মুশফিক
Advertisement