রাজধানীতে বিশেষ অভিযানে ৬৬২ জন আটক: মিরপুরে তৎপরতা বেশি
ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর এলাকায় আটকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও মামলার আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি বিতর্কিত ‘বিয়ার আলম’ নামের এক ব্যক্তিসহ অনেককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
রাজধানী ঢাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে নেমেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মোট ৬৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মাদকের আলামত ও অবৈধ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে যাদের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ রয়েছে, তাদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযানের সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজধানীর অন্যান্য এলাকার তুলনায় মিরপুর অঞ্চলে গ্রেফতারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মিরপুরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মাদক ও অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ এই বিশেষ তৎপরতা চালায়। এই এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মাদক কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ‘বিয়ার আলম’ নামে পরিচিত একজন ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। তাকে আটকের বিষয়টি অভিযানে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে পুলিশ। তবে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী কী অভিযোগ রয়েছে এবং এর আগে তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
রাজধানীর অপরাধ দমনে পুলিশের এই বিশেষ অভিযানের উদ্দেশ্য হলো মাদক ও অপরাধের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা নিজেদের এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করে। চলমান এই অভিযানের ফলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। অভিযান চলাকালীন অনেক স্থানে মাদক উদ্ধার করা হয়েছে যা মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের এই নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পুলিশের এই অভিযানে গ্রেফতারকৃত ৬৬২ জনের মধ্যে মাদককারবারি, মাদকসেবী ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা ছাড়াও সন্দেহভাজন আরও অনেকে রয়েছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অপরাধের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে ঢাকা মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এই জোরালো পদক্ষেপে নগরবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, তবে বেশিরভাগ মানুষই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ইতিবাচক ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছেন।





আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]