খুঁজুন
, ,

সুবর্ণচরে পুকুরে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
সুবর্ণচরে পুকুরে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই আপন বোনের মৃত্যু হয়েছে। গোসল করতে গিয়ে প্রাণ হারানো এই দুই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই আপন বোনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গোসল করতে নেমে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ হারায় শিশু দুটি। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত দুই শিশুর নাম স্বর্ণা রানী কাহার ও রূপা রানী কাহার। তাদের মধ্যে স্বর্ণার বয়স সাত বছর এবং রূপার বয়স পাঁচ বছর। তারা পরস্পর আপন বোন। ঘটনার দিন দুপুরে কোনো এক সময়ে তারা বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে নেমেছিল। পরিবারের সদস্যদের অগোচরে পুকুরে নেমে একপর্যায়ে তারা পানির গভীর অংশে তলিয়ে যায়।

পরিবারের লোকজন একপর্যায়ে শিশুদের খুঁজে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুকুরের পানিতে তাদের নিথর দেহ ভেসে থাকতে দেখেন স্বজনরা। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। পানিতে ডুবে মৃত্যুর এই ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতার বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে। গ্রামীণ জনপদে প্রায়শই পুকুর, খাল বা ডোবায় এমন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। অসতর্কতার কারণে ঘটে যাওয়া এই মৃত্যুগুলো পরিবারগুলোর জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বর্ষা পরবর্তী সময়ে বা বিভিন্ন মৌসুমে জলাশয়গুলোতে পানির পরিমাণ ও গভীরতা বৃদ্ধি পায়, যা শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, শিশুদের পুকুর বা জলাশয়ের কাছে একা যেতে না দেওয়া এবং তাদের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় শিশুরা খেলার ছলে অনেক সময় জলাশয়ের কাছে চলে যায়, যা অনেক ক্ষেত্রে এমন দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া পুকুরঘাটে নামার স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা বা বেড়া দেওয়ার পরামর্শও দিয়ে থাকেন অনেকে। তবে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন অভিভাবকদের সচেতনতা। শিশুদের চোখের আড়াল না করার মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। সুবর্ণচরের এই ঘটনায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী। এমন ঘটনা যেন আর কোনো পরিবারের জীবনে নেমে না আসে, তার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনিকভাবেও স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মৃত শিশুদের শেষকৃত্য ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পরিবারের লোকজন ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে একটি হাসিখুশি পরিবারে নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার, যা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। আমরা সবার কাছে আবেদন জানাই, শিশুদের বিষয়ে যেন বাড়তি নজর দেওয়া হয়, যাতে অকাল মৃত্যুর মিছিলে আর কাউকে যোগ দিতে না হয়।

রেকর্ডের ডামাডোলে শেষ ১৮তম সামার অ্যাথলেটিকস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
রেকর্ডের ডামাডোলে শেষ ১৮তম সামার অ্যাথলেটিকস

নতুন নয়টি জাতীয় রেকর্ডের সাক্ষী থাকল আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা। তিন দিনব্যাপী এই আসরে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন ইমরানুর রহমান ও শিরিন আক্তার। পদক তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে নৌবাহিনী।

ক্রীড়াঙ্গনের সব আলো কেড়ে নিয়ে সাফল্যের সাথে পর্দা নামল আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতার। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে অ্যাথলেটদের দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি রেকর্ড বইয়েও এল বড় পরিবর্তন। প্রতিযোগিতার ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে অ্যাথলেটরা নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টায় গড়েছেন নতুন নয়টি জাতীয় রেকর্ড। যা দেশের অ্যাথলেটিকসের ভবিষ্যতের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা বয়ে এনেছে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে অ্যাথলেটদের নৈপুণ্য ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে স্প্রিন্ট ইভেন্টগুলোতে বরাবরই উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পুরুষ বিভাগে বরাবরের মতো নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন ইমরানুর রহমান। নিখুঁত টেকনিক এবং গতির ঝলকানিতে তিনি জিতে নিয়েছেন দ্রুততম মানব হওয়ার গৌরব। তাকে টেক্কা দেওয়া বা তার কাছাকাছি পৌঁছানো অন্য অ্যাথলেটদের জন্য রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, নারী বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন শিরিন আক্তার। দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় অ্যাথলেটিকসে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এই অ্যাথলেট আবারো প্রমাণ করলেন, কেন তাকে দেশের দ্রুততম মানবী বলা হয়।

সামগ্রিক পদক তালিকার দিকে তাকালে দেখা যায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তিন দিনে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে তারা ২১টি স্বর্ণপদক নিজেদের ঝুলিতে পুরেছে। সব মিলিয়ে তাদের পদক সংখ্যা ৬০টি। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অন্যান্য দলের তুলনায় তাদের প্রস্তুতি এবং অ্যাথলেটদের পারফরম্যান্স ছিল অনেক বেশি সুসংহত। পদক জয়ের দৌড়ে অন্য দলগুলো লড়াই করলেও নৌবাহিনীর অ্যাথলেটরা একের পর এক ইভেন্টে আধিপত্য ধরে রেখে আসরের মান বাড়িয়ে দিয়েছেন।

এবারের আসরের বড় প্রাপ্তি হলো রেকর্ড ভাঙার হিড়িক। ট্র্যাকে এবং ফিল্ডে অ্যাথলেটরা তাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যার ফলস্বরূপ নয়টি ইভেন্টে নতুন জাতীয় রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে টেকনিক্যাল ইভেন্ট এবং দৌড় প্রতিযোগিতায় নতুন অ্যাথলেটদের আগমন এবং তাদের রেকর্ডের খাতায় নাম লেখানো অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের জন্য বড় সাফল্যের বিষয়। এই রেকর্ডগুলো প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগ পেলে দেশীয় অ্যাথলেটরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ভালো করার সামর্থ্য রাখেন।

তবে কেবল পদক জয় বা রেকর্ড ভাঙাই শেষ কথা নয়, আয়োজক ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই টুর্নামেন্ট থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা অ্যাথলেটদের পরবর্তী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিশনের জন্য দারুণ কাজে আসবে। আগামী দিনগুলোতে এই অ্যাথলেটদের কীভাবে আরও উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, সেদিকে নজর দিচ্ছে ফেডারেশন। অ্যাথলেটদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও এবারের আসরে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সব মিলিয়ে তিন দিনের লড়াই শেষে এক উৎসবমুখর আবহে শেষ হলো অ্যাথলেটিকসের এই মহাযজ্ঞ। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রতিভার সন্ধানে এবং নিয়মিত অনুশীলনের তাগিদে এই ধরনের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রাথমিক শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হলো আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিমের আত্মত্যাগের গল্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
প্রাথমিক শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হলো আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিমের আত্মত্যাগের গল্প

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও ওয়াসিম আকরামের সাহসিকতা ও ত্যাগের গল্প এখন পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে। শিক্ষার্থীদের মাঝে মহান এই ত্যাগের চেতনা পৌঁছে দিতে ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ শিরোনামে নতুন পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে আত্মাহুতি দেওয়া শহীদদের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের অমর কাহিনী এবার নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের পাঠ্যপুস্তকে জুলাই বিপ্লবের স্মারক হিসেবে আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং ওয়াসিম আকরামের বীরত্বপূর্ণ অবদানের কথা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যবইয়ে ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ শিরোনামে একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে, যা আগামীর শিক্ষার্থীদের এই ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে পরিচিত করবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রণীত এই নতুন পাঠটিতে ভাষা ও স্বাধিকার আন্দোলনের ন্যায় জুলাই বিপ্লবের পটভূমি ও এর পেছনের শহীদদের আত্মত্যাগ তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং ওয়াসিম—এই তিন তরুণ কেবল ব্যক্তি নন, বরং তারা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তাদের অকুতোভয় অংশগ্রহণ ও মৃত্যুভয়হীন সাহসের চিত্র এখন ছোটদের পাঠ্যবইয়ের পাতায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে। এই অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা যেমন দেশের ইতিহাসের একটি টার্নিং পয়েন্ট সম্পর্কে জানতে পারবে, তেমনি ত্যাগের মহিমা ও দেশপ্রেমের শিক্ষাও পাবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেবল আবেগ বা স্মারক হিসেবেই নয়, বরং জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে এই ঘটনাগুলোকে পাঠ্যবইয়ে স্থান দেওয়া হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের বীরদের আত্মত্যাগের মতোই জুলাই মাসের শহীদদের ত্যাগের ইতিহাস যাতে পাঠ্যপুস্তকে অমর হয়ে থাকে, সেই লক্ষ্য থেকেই এই সংযোজন। বিশেষ করে আবু সাঈদের বুক পেতে দাঁড়িয়ে যাওয়ার দৃশ্য, মুগ্ধের মানবিকতা ও ওয়াসিম আকরামের সাহসিকতা—এই বিষয়গুলো কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় ধরে পাঠ্যপুস্তকে দেশের বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাস স্থান পেলেও বর্তমান সময়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের বিষয়টি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি দীর্ঘদিন ধরে জোরালো ছিল। শিক্ষার্থীদের নিকট সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে এবং তাদের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগ্রত করতে জাতীয় শিক্ষাক্রম বোর্ড দ্রুততার সাথে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। পাঠ্যবইয়ের এই অংশে কেবল তাদের মৃত্যুর ঘটনাই নয়, বরং জীবনের বিনিময়ে তারা যে স্বাধীনতা ও স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, পাঠ্যবইয়ে কোনো সমসাময়িক ঘটনার সংযোজন নতুন কিছু নয়, তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো বড় কোনো ঘটনার প্রভাব এত দ্রুত পাঠ্যপুস্তকে নিয়ে আসা একটি ইতিবাচক দিক। এর ফলে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই তাদের অধিকার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা লাভ করবে। এছাড়া, দেশের ইতিহাসে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করাও এই নতুন পাঠের অন্যতম একটি লক্ষ্য।

সামগ্রিকভাবে, ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’ গল্পটি কেবল তিনটি নাম বা তিনটি মৃত্যুর কাহিনী নয়, এটি একটি নতুন বাংলাদেশের সংগ্রামের দলিল। পাঠ্যপুস্তকের এই পরিবর্তনের ফলে স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীরা জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাবে এবং নিজেদের আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই আত্মত্যাগের ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রমের এমন যুগোপযোগী পরিবর্তনকে অভিভাবক ও সচেতন মহলে প্রশংসিত হতে দেখা যাচ্ছে।

২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা জামায়াতের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা জামায়াতের

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই কর্মসূচি ঘিরে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইতিহাসের বিভিন্ন রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার ও জবাবদিহিতার দাবি দীর্ঘদিনের। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে সংঘটিত লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে নতুন করে রাজপথে সোচ্চার হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সংগঠনটি তাদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক সংস্কৃতির সুস্থ ধারা বজায় রাখা এবং অতীতে ঘটে যাওয়া জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনা ছাড়া দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও ২৮ অক্টোবরের সেই দিনের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ২০০৬ সালের সেই দিনটিতে লগি-বৈঠার মাধ্যমে যে নজিরবিহীন তাণ্ডব ও মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটেছিল, তার বিচার চেয়ে জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন সময়ে সরব ভূমিকা পালন করেছে। সংগঠনের দাবি, সেদিন প্রকাশ্য দিবালোকে যে বর্বরতা চালানো হয়েছিল, তা কেবল রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, বরং মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় না করানোর ফলে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন প্রশ্রয় পেয়েছে বলে তারা মনে করে।

ঘোষিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী মূলত বর্তমান রাজনৈতিক পরিসরে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার পাশাপাশি আগের সরকারগুলোর সময়ে সংঘটিত অনিয়ম ও সহিংসতার বিচারের দাবিকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে। দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নয়। ২৮ অক্টোবরের ঘটনার সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত ছিল এবং যারা এর পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেছিল, তাদের প্রত্যেকের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এই নতুন কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই কর্মসূচি কেবল একটি তারিখকে কেন্দ্র করে নয়, বরং এর মাধ্যমে তারা চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেদের শক্তি ও জনমতকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। অতীতে লগি-বৈঠার মতো সহিংস ঘটনার বিচার চেয়ে তারা নিয়মিত কর্মসূচি পালন করে আসছে এবং প্রতিটি বছর অক্টোবরের কাছাকাছি সময়ে তাদের এই দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। এবারও তারা বিভিন্ন পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছে। দলটির দাবি, অপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের কর্মসূচি চলমান থাকবে।

এদিকে, এই কর্মসূচি ঘোষণা ও এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা বরাবরই বলা হচ্ছে। তবে জামায়াতের দাবি, তাদের এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং রাজনৈতিক অধিকারের বহিঃপ্রকাশ। কোনো রাজনৈতিক দলই তাদের অতীত ইতিহাস ও সংগ্রামের কথা ভুলে যেতে পারে না, আর লগি-বৈঠার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক বড় ক্ষত। তাই এই ক্ষত সারিয়ে তুলতে ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সামগ্রিক বিবেচনায়, ২৮ অক্টোবরের ঘটনার বিচারের দাবি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর এই নতুন কর্মসূচি আগামী দিনে রাজনৈতিক অঙ্গনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা এখন দেখার বিষয়। সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের কর্মসূচি পালনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। শান্তি ও সুবিচারের লক্ষে তাদের এই আন্দোলন কতটা সফল হয় এবং এর মাধ্যমে কতটুকু জনসমর্থন আদায় করতে পারে, সেটাই এখন পর্যালোচনার মূল বিষয়। একই সঙ্গে, ঘটনার প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের দাবিটি কত দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়ায় রূপ নেয়, সাধারণ মানুষ এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে।

সর্বশেষ
রেকর্ডের ডামাডোলে শেষ ১৮তম সামার অ্যাথলেটিকস প্রাথমিক শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হলো আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিমের আত্মত্যাগের গল্প ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা জামায়াতের ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ: মোংলা কাস্টমস কর্মকর্তার অপসারণে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি ছাড়া চূড়ান্ত খতিয়ান সংশোধনের সুযোগ নেই: হাইকোর্ট সুবর্ণচরে পুকুরে ডুবে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু শীতের আগমনী বার্তা ও ইরানের গ্যাস সাশ্রয়ের নতুন পরিকল্পনা আপিল বিভাগের চেম্বার জজ-২ আদালতের চলতি সপ্তাহের শুনানি কার্যক্রম স্থগিত দুই মাস বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশে আবারও বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু করলো নেপাল বাড়িতে গুলিবর্ষণ, রোহিত শেঠি ‘বিগ বস’ মঞ্চে গুলিবর্ষণ‑সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা বললেন
Advertisement