খুঁজুন
, ,

জনতা ব্যাংকের সার্ভারে সাইবার হামলার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলো ব্যাংক কর্তৃপক্ষ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
জনতা ব্যাংকের সার্ভারে সাইবার হামলার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলো ব্যাংক কর্তৃপক্ষ

জনতা ব্যাংক পিএলসির মূল সার্ভার সাইবার হামলার শিকার হয়নি বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ব্যাংকটির ওয়েবসাইট নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি নিরসনে এমন দাবি করেছেন ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা। রোববার জনতা ব্যাংক পিএলসির জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে পাঠানো এক স্পষ্টীকরণ ও প্রতিবাদলিপির মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাংকটির সার্ভার হ্যাক হওয়ার যে খবর প্রচারিত হয়েছে তা সঠিক নয় এবং এর কোনো ভিত্তি নেই।

প্রতিবাদলিপিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি ছুটির দিনগুলোতে ব্যাংকের ওয়েবসাইটের রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্রাহকদের তথ্যের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ওয়েবসাইটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পালন করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণ শেষে পুনরায় ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়েছে এবং বর্তমানে তা স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে। ব্যাংকটির সার্ভার হ্যাক বা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার কবলে পড়ার বিষয়টি পুরোপুরি গুজব বলে দাবি করা হয়েছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে জনতা ব্যাংক সবসময় গ্রাহকদের তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। যে কোনো ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতি বা সাইবার আক্রমণ থেকে সুরক্ষায় ব্যাংকটি আধুনিক প্রযুক্তির ফায়ারওয়াল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করে থাকে। সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত সার্ভারের ছোটখাটো আপডেট বা প্যাচিংয়ের কাজ করা হয়, যাতে কর্মদিবসে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান করা সম্ভব হয়। সাধারণ মানুষকে এসব গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ব্যাংক প্রশাসন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সাইবার আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে কিছুটা উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট নিয়ে এমন বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, তাদের ডিজিটাল অবকাঠামো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে এবং লেনদেন বা তথ্য সংক্রান্ত কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ব্যাংকটি তাদের নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তির ঝুঁকি মোকাবিলায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সতর্ক থাকতে হচ্ছে। জনতা ব্যাংকের মতো বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গুজবের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই যেকোনো প্রযুক্তিগত আপডেট বা রক্ষণাবেক্ষণের সময় গ্রাহকদের আগেভাগে জানিয়ে দেওয়া জরুরি বলে মত দিয়েছেন আইটি বিশেষজ্ঞরা। ব্যাংকটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো বিশেষ প্রয়োজনে ওয়েবসাইট বা অনলাইন সেবা সীমিত রাখা হলে তারা গ্রাহকদের আগাম বার্তা প্রদানের বিষয়টি আরও গুরুত্ব সহকারে দেখবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত গুজব বা তথ্যে বিভ্রান্ত না হয়ে ব্যাংকটির অফিসিয়াল ঘোষণার ওপর আস্থা রাখতে গ্রাহকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: আজ পর্যন্ত আমাকে কিছু জানানো হয়নি, খোঁজ নিতে আসেনি কেউ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: আজ পর্যন্ত আমাকে কিছু জানানো হয়নি, খোঁজ নিতে আসেনি কেউ

সৌদি আরবে বসবাসরত এক বাংলাদেশি নাগরিকের ওপর মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি আরোপের খবর সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। শাস্তি নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবার জানিয়েছে, শাস্তি সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাদের জানানো হয়নি এবং কোনো সরকারি সংস্থা থেকে খোঁজ নিতে আসেনি। পরিবারে এই অবহেলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি আরোপের পর সাধারণত কনসুলার সেবা প্রদানকারী দেশের দূতাবাস থেকে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে তথ্য প্রদান এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়। তবে এই ক্ষেত্রে, পরিবার জানায় যে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশের দূতাবাস উভয়ই কোনো যোগাযোগ করেনি। পরিবারে এই অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, কনসুলার সেবা কতটা কার্যকরভাবে প্রদান করা হচ্ছে।

সৌদি আরবে বিদেশি কর্মীদের ওপর শাস্তি প্রয়োগের প্রক্রিয়া কঠোর এবং প্রায়শই গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়। শাস্তি আরোপের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিবারকে আদালতের রায়ের কপি, শাস্তির কারণ এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়। তবে এই ক্ষেত্রে, পরিবার দাবি করে যে, শাস্তি সংক্রান্ত কোনো নথি বা তথ্য তাদের হাতে পৌঁছায়নি।

বাংলাদেশের দূতাবাসের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বিদেশে আটক বা শাস্তি পেয়েছে এমন নাগরিকদের কনসুলার সহায়তা প্রদান করা। এতে আইনগত পরামর্শ, দোষী প্রমাণের নথি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা অন্তর্ভুক্ত। তবে পরিবার জানায়, দূতাবাসের কোনো প্রতিনিধিও তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেনি এবং কোনো ফোন কল বা ইমেইলও পাননি।

এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি আরোপের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কনসুলার সেবা প্রদান করা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অংশ। পরিবারে বলা হয়েছে, যদি যথাযথ কনসুলার সহায়তা না পাওয়া যায়, তবে শাস্তি প্রক্রিয়ার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি আরোপের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকে। আপিল প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথি এবং আইনগত সহায়তা প্রদান করা উচিত। তবে পরিবার জানায়, আপিলের জন্য কোনো আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ বা নথি সংগ্রহের জন্য কোনো সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছায়নি। এই পরিস্থিতি শাস্তি প্রাপ্ত ব্যক্তির অধিকার রক্ষায় বড় বাধা সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কনসুলার বিভাগে এই ধরনের অভিযোগের প্রতিক্রিয়া প্রায়শই ধীর হয়। পরিবারে দাবি করা হয়েছে, দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তারা বহুবার ফোন কল এবং ইমেইল পাঠিয়েছে, কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। এই ধীরগতি কনসুলার সেবার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সৌদি আরবে কাজ করা বাংলাদেশি কর্মীদের সংখ্যা লক্ষাধিক, এবং তাদের অধিকাংশই শ্রমিক, গৃহকর্মী বা ছোট ব্যবসায়িক কর্মী। শাস্তি সংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতা এবং কনসুলার সহায়তা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। পরিবারে বলা হয়েছে, যদি সরকারী সংস্থা থেকে যথাযথ সহায়তা না পাওয়া যায়, তবে ভবিষ্যতে অন্য কর্মীদেরও একই সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে।

এই ঘটনার পর, মানবাধিকার সংস্থা এবং প্রবাসী কর্মী সংগঠনগুলো এই বিষয়টি উত্থাপন করেছে। তারা দাবি করেছে, বাংলাদেশ সরকারকে বিদেশে কাজ করা নাগরিকদের জন্য কনসুলার সেবা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে প্রদান করতে হবে, বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুতর শাস্তি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে।

সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট আদালত এবং দপ্তর থেকে এখনও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে, বাংলাদেশের দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। পরিবারে এই নীরবতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, এবং দ্রুত তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার জন্য আবেদন জানায়।

এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কনসুলার সেবার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। কনসুলার সেবা না পাওয়া নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় এবং শাস্তি প্রক্রিয়ার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরিবারে আশা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তথ্য প্রদান এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করবে।

শাড়ি আত্মসাতের মামলায় তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্তের আদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
শাড়ি আত্মসাতের মামলায় তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্তের আদেশ

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ – ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রবিবার তানজিন তিশা নামের জনপ্রিয় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরীর দাখিল করা শাড়ি আত্মসাত, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির মামলায় অতিরিক্ত সিআইডি (সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) তদন্তের আদেশ দেন।

মামলাটি মূলত তানজিন তিশা ও ডিজাইনারের মধ্যে একটি ফ্যাশন চুক্তি থেকে উদ্ভূত হয়। চুক্তি অনুসারে তিশা একটি শাড়ি আত্মসাতের কাজের জন্য ডিজাইনারের নকশা ও উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি পণ্য বিক্রি করবে বলে সম্মত হন। তবে ডিজাইনারের দাবি, তিশা চুক্তি ভঙ্গ করে শাড়ি আত্মসাতের কাজ সম্পন্ন না করে, তবুও অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করে এবং পরে হুমকি ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ ফেরত না দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রনি মামলার মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন) কর্তৃক প্রস্তুত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ইতিমধ্যে ডিজাইনারের অভিযোগের ভিত্তি স্পষ্ট হয়েছে এবং তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রমাণের ঘাটতি না থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। রনি আরও উল্লেখ করেন, এই মামলায় শাড়ি আত্মসাতের পাশাপাশি বিশ্বাসভঙ্গ এবং হুমকির অভিযোগও যুক্ত, যা আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে, সিআইডি-কে তদন্তের দায়িত্ব অর্পণ করেন। তিনি নির্দেশ দেন যে, সিআইডি দ্রুত তদন্ত শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ, যেমন চুক্তিপত্র, পেমেন্ট রসিদ, ইমেইল ও মেসেজের রেকর্ড সংগ্রহ করবে। এছাড়া, শাড়ি আত্মসাতের কাজের প্রকৃতি, ব্যবহৃত উপকরণ ও ডিজাইনের বিশদ বিশ্লেষণও তদন্তের অংশ হবে।

সিআইডি তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণের পর, সংশ্লিষ্ট ইউনিটের প্রধান কর্মকর্তা একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রকাশ করে জানান, তারা মামলার সকল দিক বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। তদন্তে ডিজাইনারের সাক্ষ্য, তানজিন তিশার সাক্ষ্য, এবং তৃতীয় পক্ষের সাক্ষ্যদাতাদের বিবৃতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এছাড়া, শাড়ি আত্মসাতের কাজের জন্য ব্যবহৃত উপকরণ ও পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হবে।

এই মামলাটি শিল্প ও বিনোদন জগতে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তানজিন তিশা, যিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে বহু জনপ্রিয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তার ক্যারিয়ার ও সুনামকে এই অভিযোগের প্রভাব কতটা হবে তা এখনো অনিশ্চিত। তিশার প্রতিনিধিরা এখনও কোনো মন্তব্য করেননি, তবে তারা আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ আইনি প্রতিরক্ষা গড়ে তুলবে বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী মিডিয়া সংস্থার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি এই মামলায় ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন এবং সিআইডি তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটিত হবে বলে আশাবাদী। তিনি উল্লেখ করেন, শাড়ি আত্মসাতের কাজটি তার সৃজনশীলতা ও দক্ষতার ফল, এবং তিশা যদি চুক্তি ভঙ্গ করে থাকে তবে তা শিল্পের সুনাম ক্ষুন্ন করবে।

আইনি বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, শাড়ি আত্মসাতের মতো শিল্পকর্মের ক্ষেত্রে চুক্তি লঙ্ঘন, প্রতারণা ও হুমকি সংক্রান্ত মামলা প্রায়শই জটিল হয়, কারণ প্রমাণ সংগ্রহে নকশা, উপকরণ ও কাজের গুণগত মানের মূল্যায়ন প্রয়োজন। সিআইডি যদি যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রমাণ সংগ্রহ করে, তবে আদালত দ্রুত ন্যায়বিচার প্রদান করতে পারবে।

মামলাটির পরবর্তী ধাপ হবে সিআইডি কর্তৃক তদন্তের ফলাফল উপস্থাপন এবং আদালতে তা উপস্থাপন করা। যদি তদন্তে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তিনি শাড়ি আত্মসাতের পাশাপাশি প্রতারণা ও হুমকির জন্য শাস্তি পেতে পারেন। অন্যদিকে, যদি প্রমাণ অপর্যাপ্ত থাকে, তবে বাদীপক্ষকে অন্য আইনি উপায়ে সমাধান খুঁজতে হবে।

এই ঘটনার মাধ্যমে শিল্প ও বিনোদন জগতে চুক্তি ও নৈতিকতার গুরুত্ব পুনরায় উন্মোচিত হয়েছে। বিশেষ করে ফ্যাশন ও ডিজাইন শিল্পে সৃজনশীল কাজের সুরক্ষা, পেমেন্টের স্বচ্ছতা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে চুক্তি সম্পাদন করা অপরিহার্য। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিরোধ এড়াতে উভয় পক্ষই চুক্তিপত্রে স্পষ্ট শর্তাবলী ও বিরোধ নিষ্পত্তির ধারা যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

রাজউকের ১৪১৩ প্লট নিয়ে তোলপাড়, অনিয়মের অভিযোগে হাজারো নথি স্থগিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
রাজউকের ১৪১৩ প্লট নিয়ে তোলপাড়, অনিয়মের অভিযোগে হাজারো নথি স্থগিত

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজউকের আওতাধীন বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের চিত্র এবার প্রকাশ্যে এসেছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে রাজধানীর পাঁচটি আবাসিক এলাকা এবং নতুন শহর প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া ১ হাজার ৪১৩টি প্লটের বিষয়ে বিশদ তদন্ত ও পর্যালোচনা শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এসব প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর নড়েচড়ে বসেছে নীতিনির্ধারকরা। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত ১ হাজার ৪১৩টি প্লটের মধ্যে ১ হাজার ৭৪টি প্লটেই বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এসব প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রভাবশালী মহলের প্রভাব খাটিয়ে রাজউকের জমি বরাদ্দের নিয়ম লঙ্ঘন করে এসব প্লট হস্তগত করা হয়েছিল। বর্তমানে এসব অনিয়মের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অনিয়মের কবলে পড়া এসব প্লটের বিপরীতে থাকা যাবতীয় নথিপত্র ও কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট প্লট মালিকদের বা বরাদ্দগ্রহীতাদের সকল ধরনের লেনদেন ও স্থানান্তর প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ রয়েছে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, স্থগিত হওয়া ১ হাজার ৭৪টি প্লটের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি জুড়ে রয়েছে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প। এই প্রকল্পের মোট ৮৭৪টি প্লটে নানা ধরনের অনিয়ম শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের আরও ২০০টি প্লটের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ না করা, অযোগ্য ব্যক্তিদের প্লট প্রদান এবং প্রভাব খাটিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের নামে জমি বরাদ্দ দেওয়া। রাজউকের গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রকল্পে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় জনমনে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং সরকারি এই সংস্থাটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কর্তৃপক্ষের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দীর্ঘ এই সময়ে ক্ষমতার বলয়ে থাকা ব্যক্তিদের ইচ্ছাতেই বেশিরভাগ বরাদ্দ পরিচালিত হয়েছে। সাধারণ আবেদনকারী বা যোগ্য প্রার্থীরা অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ এখন প্রতিটি প্লটের বরাদ্দ প্রক্রিয়া পুনরায় খতিয়ে দেখছে। অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তি এবং যদি রাজউকের কোনো কর্মকর্তা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। আপাতত নথি স্থগিত রাখা হলেও তদন্ত শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এসব প্লটের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

রাজউকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তের এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে সময় প্রয়োজন। যেসব প্লটের বিষয়ে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা বা আইনানুগ ভিত্তি পাওয়া যাবে না, সেসব বরাদ্দ বাতিল করার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তারই অংশ হিসেবে এই উদ্যোগকে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করছেন, রাজউকের দুর্নীতিমুক্ত হতে হলে কেবলমাত্র প্লট স্থগিত বা বাতিল করাই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে, এই ঘটনার ফলে রাজউকের অন্যান্য প্রকল্পের গ্রহীতাদের মধ্যেও এক ধরনের উৎকণ্ঠা কাজ করছে। সবাই এখন অপেক্ষা করছেন তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য।

সর্বশেষ
সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড: আজ পর্যন্ত আমাকে কিছু জানানো হয়নি, খোঁজ নিতে আসেনি কেউ শাড়ি আত্মসাতের মামলায় তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্তের আদেশ রাজউকের ১৪১৩ প্লট নিয়ে তোলপাড়, অনিয়মের অভিযোগে হাজারো নথি স্থগিত বরিশালের মাঠে গড়াবে ডি-থ্রি ট্রফির উদ্বোধনী ও ফাইনাল ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ড্রোন হামলা চালাল ইরান চীন-উত্তর কোরিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বারোপ কিমের কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, আহত স্ত্রীসহ চারজন জনতা ব্যাংকের সার্ভারে সাইবার হামলার গুঞ্জন উড়িয়ে দিলো ব্যাংক কর্তৃপক্ষ লাক্কাতুরা চা-বাগানে তিন মুচির পাশে মুরারিচাঁদ কলেজ বন্ধুসভা শেয়ারবাজারে তদন্তের নামে ভীতি না ছড়ানোর জন্য তথ্যভিত্তিক সার্ভেল্যান্সের নির্দেশ
Advertisement