খুঁজুন
, ,

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের মৃত্যু: অসচেতনতা ও নিরাপত্তাহীনতার আখ্যান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের মৃত্যু: অসচেতনতা ও নিরাপত্তাহীনতার আখ্যান

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার প্রতি বছর কোটি পর্যটকের মিলনমেলায় পরিণত হয়। নীল জলরাশি আর বালুকাময় তটরেখায় আনন্দ খুঁজে নিতে পর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে। তবে আনন্দের সেই অবকাশ যেন মাঝেমধ্যেই বিষাদে পরিণত হচ্ছে। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে গোসলে নেমে প্রাণ হারানোর ঘটনা কক্সবাজার সৈকতে এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল পর্যটকদের অসচেতনতাই নয়, বরং এই অকাল মৃত্যুর পেছনে রয়েছে নানামুখী দায়বদ্ধতার অভাব, যা প্রতিনিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ করছে সৈকতের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থাকে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত ১২ বছরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সাগরে গোসল করতে নেমে অন্তত ৮৫ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যা কেবল নিথর দেহের হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয়; একই সময়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ পর্যটককে উত্তাল সমুদ্র থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল সংখ্যক পর্যটকই প্রমাণ করে যে, সাগরে নামার ক্ষেত্রে কতটা ঝুঁকি বা অসতর্কতা কাজ করছে। অনেকেই জোয়ার-ভাটার সময় সম্পর্কে ধারণা না রেখেই গভীর সমুদ্রে নেমে পড়েন, যা শেষ পর্যন্ত বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটকদের বড় একটি অংশ সমুদ্রের স্রোত বা টান সম্পর্কে একেবারেই ওয়াকিবহাল নন। এছাড়া, সৈকতের অনেক পয়েন্টে চোরাবালি বা গভীর খাদের অস্তিত্ব থাকে, যা সাধারণ পর্যটকদের নজরে আসে না। অথচ এসব স্থানে সাঁতার কাটার বিপদ সম্পর্কে পর্যটকদের সতর্ক করার কার্যকর পদক্ষেপ অনেক ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান নয়। স্থানীয়ভাবে লাইফগার্ড ব্যবস্থা থাকলেও জনবল ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতার কারণে সব সময় তা পর্যাপ্ত হচ্ছে না। পর্যটকদের আনন্দ ভ্রমণের উদ্দেশ্য যখন জীবনের বিনিময়ে শেষ হয়, তখন তা কেবল শোকের বিষয় হয়ে থাকে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী পর্যটন অর্থনীতির জন্যও নেতিবাচক বার্তা বহন করে।

পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই মনে করেন, সৈকতের ব্যবস্থাপনা যদি আরও পেশাদার এবং পরিকল্পিত হতো, তবে প্রাণহানির সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব ছিল। সৈকতে নামার আগে পর্যটকদের সতর্ক করা, নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া এবং জরুরি উদ্ধারকারী দলকে সবসময় প্রস্তুত রাখার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে পর্যটন কেন্দ্রিক বাণিজ্যে নিরাপত্তার চেয়ে মুনাফাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। পর্যটকদের সচেতন করার জন্য পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড বা নির্দেশনামূলক বার্তার অভাব এখনো প্রকট। এছাড়া, অনিয়ন্ত্রিত গোসল এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটকদের বিচরণ রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।

কক্সবাজার সৈকতে আসা পর্যটকদের একটি বড় অংশই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঘুরতে আসেন। তাদের জন্য সমুদ্রের উত্তাল চরিত্র বা জোয়ার-ভাটার ছন্দ বোঝা কঠিন। তাই দায়িত্বটি কেবল পর্যটকের নয়, বরং কর্তৃপক্ষের ওপরও বর্তায়। পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিটি স্টেকহোল্ডারকে সৈকতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে। লাইফগার্ডদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা রাখা এবং পর্যটকদের নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতন করা এখন সময়ের দাবি।

ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঠেকাতে হলে কেবল শোক প্রকাশ যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন টেকসই পরিকল্পনা এবং কঠোর বাস্তবায়ন। কক্সবাজার যেন কেবল বিনোদনের নয়, বরং নিরাপদ ভ্রমণের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে, সেটিই প্রত্যাশা। সমুদ্রের বিশালতাকে উপভোগ করার পাশাপাশি জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সৈকতে বিচরণের অভ্যাস গড়ে তোলা এখন পর্যটকদের জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সচেতনতাই পারে পর্যটকদের প্রাণহানির এই বিষাদময় তালিকা আরও দীর্ঘ হওয়া থেকে রক্ষা করতে।

ছুটি শেষে কাল থেকে খুলছে স্কুল-মাদরাসা, কলেজে ক্লাস নভেম্বরে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
   
ছুটি শেষে কাল থেকে খুলছে স্কুল-মাদরাসা, কলেজে ক্লাস নভেম্বরে

দীর্ঘ ছুটির পর আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদরাসাগুলো আগামীকাল সোমবার থেকে খুলছে। তবে কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে।

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রমের ব্যস্ততায় ফিরছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মাদরাসাগুলো আগামীকাল ২৬ অক্টোবর সোমবার থেকে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করবে। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় আবারও মুখরিত হয়ে উঠবে ক্যাম্পাসগুলো। দীর্ঘ ছুটির আমেজ কাটিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরছেন, যা শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদ্যালয় এবং মাদরাসার নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম আগামীকাল থেকেই পুনরায় শুরু হবে। এই দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর এখন স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সিলেবাস অনুযায়ী ক্লাসগুলো পরিচালনা করা হবে। নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের পড়ালেখার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা আরও কিছুদিন দীর্ঘ হচ্ছে। দেশের সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোতে সরাসরি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ১ নভেম্বর। উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই বর্ধিত সময়ের বিরতি শেষ হওয়ার পর নতুন করে পাঠদানের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১ নভেম্বরের আগেই কলেজ ক্যাম্পাসগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার কাজ সম্পন্ন করা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে।

শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে এবং যে সময়টুকু ক্লাস বন্ধ ছিল, তার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং সিলেবাস সম্পন্ন করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক ও কর্মচারীদেরও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রেখে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ছুটির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সশরীরে ক্লাস শুরু হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস থাকলেও, শিক্ষার মান বজায় রাখা এবং পিছিয়ে পড়া সিলেবাস শেষ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ১ নভেম্বর থেকে কলেজের কার্যক্রম শুরু হলে পুরো দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আবারও পূর্ণগতিতে এগিয়ে যাবে।

টানা পাঁচ দিনের ছুটি শেষে কর্মব্যস্ততায় ফিরলো অফিস-আদালত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
   
টানা পাঁচ দিনের ছুটি শেষে কর্মব্যস্ততায় ফিরলো অফিস-আদালত

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার টানা পাঁচ দিনের ছুটি শেষে আজ খুলেছে দেশের সরকারি ও বেসরকারি সব অফিস-আদালত। কর্মস্থলে যোগ দিতে শুরু করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, ফলে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরেছে প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোতে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দঘন আবহে অতিবাহিত টানা পাঁচ দিনের ছুটির ইতি ঘটেছে। দীর্ঘ বিরতির পর আজ দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস, আদালত এবং ব্যাংক-বিমা খুলেছে। উৎসবের আমেজ কাটিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। ফলে রাজধানীতে আবারও ফিরে এসেছে চিরচেনা যানজট আর ব্যস্ততা।

গত ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে দুর্গাপূজার ছুটি শুরু হয়েছিল। উৎসবের দিনগুলো ঘিরে সারাদেশে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে সময় কাটিয়ে এবং পূজা উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ রোববার সকাল থেকেই অফিসপাড়ায় দেখা গেছে ব্যস্ততার চিত্র। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্ব স্ব কর্মস্থলে যোগ দেওয়ায় কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে সচিবালয়সহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অফিসপাড়াগুলো।

সকাল থেকেই রাজধানীর মতিঝিল, দিলকুশা, সচিবালয় এলাকা ও কারওয়ান বাজারের মতো বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে মানুষের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ ছুটির পর প্রথম কার্যদিবস হওয়ায় অনেক অফিসেই জরুরি ফাইলপত্র ও দাপ্তরিক কাজ নিয়ে ব্যস্ততা দেখা গেছে। সহকর্মীদের সাথে কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে অনেকে দিনের কার্যক্রম শুরু করেছেন। ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতগুলোতেও গ্রাহকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ পাঁচ দিন লেনদেন বন্ধ থাকায় গ্রাহকদের বড় অংশের চাহিদা মেটাতে ব্যাংকগুলোতে বাড়তি চাপের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে ছুটি শেষ হওয়ার পরও রাজধানী ঢাকার রাস্তাগুলোতে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনও পুরোপুরি খোলেনি বলে সড়কে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ অন্যান্য কর্মদিবসের তুলনায় কিছুটা কম। তবুও কর্মজীবী মানুষের ব্যস্ততা এবং গণপরিবহনের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার বার্তা। সরকারি অফিস ছাড়াও দেশের বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানায় পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ধর্মীয় উৎসব ও সরকারি ছুটি মিলিয়ে টানা বিরতি পাওয়ায় অনেকেই উৎসবের আমেজ শেষে নতুন উদ্যমে কাজে ফিরেছেন। রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি অফিসে আজ উপস্থিতি সন্তোষজনক। তবে ছুটির আমেজ পুরোপুরি কাটতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজার আনন্দ ভাগাভাগি করে এবং স্বজনদের সাথে সময় কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরা মানুষগুলো এখন পেশাগত দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিন ধরে সারাদেশের মণ্ডপগুলোতে দুর্গাপূজার কার্যক্রম অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল পূজা মণ্ডপগুলো। সেই আনন্দ ও প্রশান্তি সঙ্গী করেই কর্মজীবী মানুষ আজ আবারও কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরে এসেছেন। আগামী দিনগুলোতে দাপ্তরিক কাজের গতি বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংসদ সদস্য পদ থেকে নাহিদ ইসলামের পদত্যাগ দাবি রাশেদ খাঁনের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
সংসদ সদস্য পদ থেকে নাহিদ ইসলামের পদত্যাগ দাবি রাশেদ খাঁনের

প্রধানমন্ত্রী ও সরকার নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলামের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দেশের বর্তমান সরকার ব্যবস্থা ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার জের ধরে তার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন যে, নাহিদ ইসলাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নৈতিকতার খাতিরে নিজের সংসদীয় পদ থেকে অব্যাহতি নেবেন।

গত রাতের দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক বিবৃতির মাধ্যমে এই দাবি উত্থাপন করেন রাশেদ খাঁন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন যে, নাহিদ ইসলাম কেবল প্রধানমন্ত্রীকেই নয়, বরং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কাঠামোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে তারেক রহমানের অবস্থান এবং বর্তমান জাতীয় সংসদের গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে নাহিদ ইসলামের বক্তব্যকে অসংলগ্ন ও ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। রাশেদ খাঁনের দাবি, যে সংসদের বৈধতা নিয়ে নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তুলছেন, সেই সংসদেরই একজন সদস্য হিসেবে তার অবস্থান নৈতিকভাবে টিকিয়ে রাখা কঠিন।

রাশেদ খাঁন তার প্রতিক্রিয়ায় আরও উল্লেখ করেন, নাহিদ ইসলাম জামায়াতের প্রক্সি সংগঠন হিসেবে পরিচিত একটি দলের প্রধান হিসেবে যে ধরনের রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্য করেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রের প্রধান এবং সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে এমন বক্তব্য রাখা সংসদীয় রীতির পরিপন্থী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাহিদ ইসলামের এই মন্তব্য দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। একদিকে ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকরা নাহিদ ইসলামের মতো তরুণ নেতৃত্বের এমন কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করছেন, অন্যদিকে এনসিপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় রাশেদ খাঁনের এই আল্টিমেটামকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

রাশেদ খাঁন তার বার্তায় জোর দিয়ে বলেন, নাহিদ ইসলাম যদি নিজের দেওয়া বক্তব্যের প্রতি সৎ থাকেন, তবে অবিলম্বে সংসদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত। অন্যথায় তার অবস্থান দ্বিচারিতা হিসেবে গণ্য হবে। ২৪ ঘণ্টার এই সময়সীমা রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা, বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনগুলোতে আরও উত্তাপ ছড়াতে পারে। নাহিদ ইসলাম কিংবা তার দল এই আহ্বানের বিপরীতে কী ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে। সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে আসার যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সর্বশেষ
ছুটি শেষে কাল থেকে খুলছে স্কুল-মাদরাসা, কলেজে ক্লাস নভেম্বরে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শেষে কর্মব্যস্ততায় ফিরলো অফিস-আদালত সংসদ সদস্য পদ থেকে নাহিদ ইসলামের পদত্যাগ দাবি রাশেদ খাঁনের বায়ুদূষণের কবলে রাজধানী ঢাকা, তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে ঢাকার অদূরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে পাগলার পুল ব্রণ ফাটানোর ভিডিওতে কেন অদ্ভুত প্রশান্তি পান দর্শক? আজ আন্তর্জাতিক শিল্পী দিবস: সৃজনশীলতাকে সম্মান জানানোর দিন নোয়াখালীতে চায়ের দোকানে বৃদ্ধকে গুলি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুব ওয়ানডেতে বিতর্কিত ১১ ওভারের বোলিং, আফগান বোর্ডের কাছে বিসিবির অভিযোগ ঋতুস্রাবের কঠিন সময়ে বিজয়ের যত্ন ও পাশে থাকা নিয়ে মুখ খুললেন রাশমিকা
Advertisement