বিয়ের মাত্র ২৩ দিনের মাথায় স্বর্ণালংকার নিয়ে ড্রাইভারের সঙ্গে উধাও বিএনপি নেতার স্ত্রী
জামালপুরের মেলান্দহে এক বিএনপি নেতার সংসার করার মাত্র ২৩ দিনের মাথায় তার স্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে পালিয়ে গেছেন। স্থানীয় পৌর বর্জ্যবাহী গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে স্বর্ণালংকারসহ তাকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বিয়ের মাত্র ২৩ দিনের মাথায় এক বিএনপি নেতার স্ত্রী পরিবারের কোনো সদস্যকে না জানিয়েই ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিখোঁজ গৃহবধূর সঙ্গে স্থানীয় পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়ির চালকের হাত রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই বিএনপি নেতার ভাষ্যমতে, বেশ কিছুদিন আগেই তিনি বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। নতুন সংসার শুরুর আনন্দ যখন কাটেনি, ঠিক তখনই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। বিয়ের ২৩ দিনের মাথায় বাড়ির লোকজনের অগোচরে তার স্ত্রী ঘর থেকে বেরিয়ে যান। প্রাথমিকভাবে বাড়ির সদস্যরা তাকে আশেপাশে খুঁজেও পাননি। পরে পরিবারের লোকজনের নজরে আসে যে, ওই গৃহবধূ যাওয়ার সময় আলমারিতে রাখা মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন।
ঘটনার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, নিখোঁজ ওই গৃহবধূর সঙ্গে মেলান্দহ পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়ির চালক এমদাদুল হক অরচনের দীর্ঘদিনের পরিচয় ও সখ্যতা ছিল। ঘটনার দিন ওই চালককেও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয়দের ধারণা, পূর্বপরিকল্পিতভাবেই তারা একসঙ্গে এলাকা ত্যাগ করেছেন। এই ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত চালক এমদাদুল হক পৌরসভায় অত্যন্ত সাধারণ কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় পৌর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যেও অস্বস্তি বিরাজ করছে। পলাতক ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এই বিষয়ে খুব একটা মুখ খুলছেন না। তবে ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে কারণ বিষয়টি এখন পুলিশের নজরে এসেছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে, ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। তিনি থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং অভিযুক্ত চালক ও গৃহবধূকে উদ্ধারের জন্য সম্ভাব্য স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করেও তাদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মানুষজন বিয়ের স্বল্প সময়ের মধ্যে এমন ঘটনার নেপথ্যের কারণ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা করছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনকে দায়ী করছেন, আবার কেউ পারিবারিক অসঙ্গতিকে সামনে নিয়ে আসছেন। তবে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয়।
মেলান্দহ থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ মাঠে নেমেছে। এটি একটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা হিসেবে মনে হলেও এর সঙ্গে চুরির অভিযোগ যুক্ত থাকায় বিষয়টি আইনত অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে পুলিশ। এখন দেখার বিষয়, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই রহস্যময় উধাও হওয়ার ঘটনার কূলকিনারা কত দ্রুত করতে পারে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]