চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের, দাউদাউ করে জ্বলে উঠল বাস
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন এক বাবা ও তার মেয়ে। এ ঘটনায় বাসটিতে আগুন লেগে যায়।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাবা ও তার আদরের মেয়ে। শুক্রবার রাতে সাতকানিয়ার পাঠানিপুল এলাকায় সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর বাসটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামমুখী একটি বাস এবং বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশার মধ্যে আকস্মিক এই সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের প্রচণ্ডতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই বাবা ও মেয়ের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। অটোরিকশায় থাকা যাত্রীদের অবস্থা ভয়াবহ ছিল বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।
সংঘর্ষের পরপরই যাত্রীবাহী বাসের সামনের অংশে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাসের যাত্রীরা দ্রুত নেমে যেতে পারলেও গাড়িটি আগুনের গ্রাসে চলে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন, তবে ততক্ষণে বাসটির উল্লেখযোগ্য অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। তবে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায়।
নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতরা ওই এলাকার সিএনজি যাত্রী ছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। উদ্ধার কাজ পরিচালনায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাথে স্থানীয়রাও সহায়তা করেন। তবে দুর্ঘটনার পর বাসের চালক বা সহকারীরা পালিয়ে গেছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। হাইওয়ে থানা পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশাটি জব্দ করেছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এবং বাসে আগুন লাগার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অটোরিকশাটি বাসের নিচে চাপা পড়েছিল কি না বা যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। মহাসড়কের ওই এলাকায় প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, যার জন্য চালকদের বেপরোয়া গতিকেও দায়ী করছেন স্থানীয়রা। নিহতের মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। পরিবারের স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে আবারও গুরুত্বারোপ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]