খুঁজুন
, ,

শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা গণঅধিকার পরিষদের

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ
শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা গণঅধিকার পরিষদের

সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হওয়ায় সরকারের নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। তিনি এই নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দায়িত্ব পালনকারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বা উদ্বেগের কথা সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মধ্যে কাজ করেছিল, তা কাটিয়ে উঠে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এবার সারাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। পূজা মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে যেসব বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল, তা সার্বিকভাবে প্রশংসার দাবি রাখে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকে। এই প্রেক্ষাপটেই গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ সরকারের গৃহীত নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রশংসা করেছেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি বাঙালির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক বড় মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রতি বছরই এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয়তা বিশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে গত কয়েক বছরের সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে এবার পূজার নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ নজরদারি ছিল লক্ষণীয়। আবু হানিফ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, উৎসবের দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মণ্ডপগুলোতে যে ধরণের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের পূজা উদযাপন করতে পেরেছেন, যা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

পূজা মণ্ডপগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক দল এবং আনসার সদস্যের পাশাপাশি পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যদের বিশেষ টহল এবারের নিরাপত্তার অন্যতম দিক ছিল। এছাড়াও প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ধর্মীয় নেতাদের নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করার বিষয়টিও ছিল উল্লেখযোগ্য। গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা মনে করেন, সরকারের দায়িত্বশীল অবস্থান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাই এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, কোনো উৎসব যদি ভয়হীন পরিবেশে পালিত হয়, তবেই তার আসল আনন্দ পাওয়া যায়। এবারের পূজায় সেই ভয়হীন পরিবেশই নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক বিভাজন থাকলেও জাতীয় উৎসবের ক্ষেত্রে সরকারের এই ধরণের ইতিবাচক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো প্রয়োজন। আবু হানিফ মনে করেন, একটি রাষ্ট্র যখন তার নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করে, তখন দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। দুর্গোৎসবের এই কয়েকদিনে দেশের প্রতিটি প্রান্তে যে উৎসবের আমেজ ছিল, তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি আরও বলেন, কেবল সরকারি উদ্যোগই নয়, সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সজাগ দৃষ্টি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধও এই উৎসবকে শান্তিপূর্ণ করতে সহায়তা করেছে।

পরিশেষে, আবু হানিফ আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতেও সকল ধর্মীয় উৎসবে সরকারের পক্ষ থেকে এমন সতর্ক ও কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা বলবৎ থাকবে। এটি দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি করে এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সুযোগ কমিয়ে দেয়। তিনি পূজা আয়োজক কমিটিসহ যারা বিভিন্নভাবে এই উৎসবকে সুন্দর ও নির্বিঘ্ন করতে কাজ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সরকারের গৃহীত এই পদক্ষেপগুলো আগামী দিনের যেকোনো বড় জাতীয় বা ধর্মীয় আয়োজনের ক্ষেত্রে একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। শান্তিপূর্ণ এই দুর্গাপূজা প্রমাণ করে যে, যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো বড় উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব।

পাবনায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন দুই আরোহী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
পাবনায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন দুই আরোহী

সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে পাবনায় আরও দুটি প্রাণ ঝরে গেল। পাবনা সদর উপজেলার জালালপুরে বেপরোয়া গতির দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আরও দুইজন আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মোটরসাইকেল দুটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিপরীত দিক থেকে আসছিল এবং নিয়ন্ত্রণ হারানোয় সংঘর্ষটি ঘটে। এই দুর্ঘটনায় নয়ন মিয়া এবং সেলিম মাহমুদ নামে দুজন মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে একজনের বয়স ২০ এবং অন্যজনের বয়স ৪০ বছর বলে জানা গেছে। আহতদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকরা এখনও আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন, তাদের ভাগ্য অনিশ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় রাস্তাটি জনাকীর্ণ ছিল না কিন্তু মোটরসাইকেলগুলোর গতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। প্রচণ্ড গতির কারণে সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে হতাহতদের উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা নয়ন মিয়া ও সেলিম মাহমুদকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহতদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে। মোটরসাইকেল দুটির অবস্থা দেখে বোঝা যায় যে আঘাতটি কতটা শক্তিশালী ছিল। এ ধরনের দুর্ঘটনা সড়কে জীবনের নিরাপত্তাকে আবারো প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে যুবসমাজের মধ্যে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালনার প্রবণতা বাড়ছে, যা প্রায়শই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা বারবার সতর্ক করার পরেও গতির নেশায় অনেকে ট্রাফিক আইন মানতে অনিচ্ছুক। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানিয়েছে, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিয়েছেন। একইসঙ্গে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পাবনার এই সড়কটি সাধারণত ব্যস্ত থাকে, তাই দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি দীর্ঘদিনের। আপাতত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আহতদের সুস্থ করে তোলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এই দুর্ঘটনাটি সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্ব নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে এবং যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সচেতন মহল। অকাল মৃত্যুর এই শোক কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় মানুষ রীতিমতো স্তম্ভিত। প্রশাসন এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

ইন্টারনেট স্বাধীনতায় সামান্য উন্নতি বাংলাদেশের, উদ্বেগের কেন্দ্রে গণমাধ্যম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ইন্টারনেট স্বাধীনতায় সামান্য উন্নতি বাংলাদেশের, উদ্বেগের কেন্দ্রে গণমাধ্যম

ইন্টারনেট ব্যবহারের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল পরিসরে নাগরিক অধিকারের চর্চা নিয়ে বিশ্বব্যাপী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ফ্রিডম হাউস। সম্প্রতি সংস্থাটির প্রকাশিত ‘ফ্রিডম অন দ্য নেট ২০২৬’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বর্তমান ডিজিটাল পরিস্থিতির একটি চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট স্বাধীনতার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আগের তুলনায় কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই উন্নতির পাশাপাশি দেশের গণমাধ্যম ও ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নানা ঝুঁকি ও উদ্বেগের বিষয়গুলোও উঠে এসেছে বিশ্লেষণে।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত কয়েক বছরের তুলনায় বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ ও প্রসারের ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। ডিজিটাল অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সূচকের নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ডে এই উন্নতির প্রতিফলন ঘটেছে। সাধারণ নাগরিকরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগও বিস্তৃত হয়েছে। তবে এই স্বাধীনতার চর্চা করতে গিয়ে দেশের ডিজিটাল ও গণমাধ্যম কর্মীরা যে ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছেন, তা নিয়ে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে ফ্রিডম হাউস।

প্রতিবেদনের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংবাদকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়টি। ফ্রিডম হাউসের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তথ্যপ্রবাহ ও সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা এখনো বিদ্যমান। গণমাধ্যমকর্মীরা প্রায়ই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা অনলাইন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে চাপের মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং সরকারের সমালোচনা করে কোনো সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পরিসরে কঠোর নজরদারি ও বাধার সম্মুখীন হতে হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে একটি বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

ইন্টারনেট স্বাধীনতার সূচকে কোনো দেশের অবস্থান কেবল প্রযুক্তিগত সুবিধার ওপর নির্ভর করে না; বরং সেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা কীভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে, সেটিই প্রধান বিবেচ্য বিষয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রসারের ফলে সূচকে কিছুটা উন্নতি হলেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে সরকার ও প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে নানা ধরনের চাপ বা নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যা সামগ্রিক ইন্টারনেট স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইন্টারনেট স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল পেতে হলে কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়। এজন্য প্রয়োজন আইনের সঠিক প্রয়োগ, ভিন্নমত প্রকাশের সুরক্ষা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে সংবাদপত্রের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। ফ্রিডম হাউসের এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে এল, যখন সারা বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল অধিকার ও তথ্যের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ইন্টারনেট স্বাধীনতার সুরক্ষা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্যও জরুরি।

প্রতিবেদনে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ডিজিটাল দুনিয়ায় সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাও এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বিভিন্ন সময় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস বা নজরদারির অভিযোগগুলো গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ডিজিটাল পরিসর যেন ভয়ের জায়গা না হয়ে বরং সৃজনশীলতা ও মত প্রকাশের উর্বর ক্ষেত্র হয়, সেদিকে নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। পরিশেষে, ফ্রিডম হাউসের এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর জন্য একটি বার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে, যাতে ডিজিটাল বিশ্বে স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতার ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নয়নের গতিকে আরও বেগবান করা যায়।

ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত ও করণীয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত ও করণীয়

একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ইবাদত। নামাজ, রোজা, দান-সদকা কিংবা মানুষের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখা—সবই নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু কেবল বাহ্যিক আমল সম্পাদন করাই যথেষ্ট নয়, বরং সেই আমল মহান আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হওয়া বা কবুল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ইবাদতের প্রকৃত সাফল্য ও পরকালীন মুক্তি নির্ভর করে আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর। ইসলামি শরিয়তে ইবাদত কবুলের জন্য কয়েকটি মৌলিক শর্ত ও মানদণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা মেনে চলা প্রতিটি মুমিনের জন্য অপরিহার্য।

ইবাদত কবুলের প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো বিশুদ্ধ ইমান। আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস, তাঁর নির্দেশনার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য এবং যেকোনো ধরনের শিরক বা অংশীদারিত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা একজন মুমিনের জীবনের ভিত্তি। ইমান ছাড়া কোনো আমলই পরকালে মুক্তি কিংবা প্রতিদান লাভের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হতে পারে না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন যে, যারা মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করবে, কেবল তারাই জান্নাতে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করবে। এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে, আল্লাহর কাছে সৎকর্মের প্রতিদান লাভের সঙ্গে ইমানের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। তাই একজন মুমিনের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো ইমানের বিশুদ্ধতা রক্ষা করা এবং ইমানের পরিপন্থী যেকোনো চিন্তা বা কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা।

দ্বিতীয়ত, আমল হতে হবে রাসুলের (সা.) সুন্নাহ বা তরিকাপন্থী। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম হিসেবে প্রতিটি ইবাদত অবশ্যই রাসুলের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। ধর্মের নামে নতুন কোনো ইবাদত বা পদ্ধতি উদ্ভাবন করা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহর বাইরে নিজের মনগড়া কোনো নিয়ম বা প্রথাকে ইবাদত হিসেবে চালিয়ে দেওয়া প্রত্যাখ্যাত বলে গণ্য হয়। সুতরাং যেকোনো নেক আমল করার আগে সেটি শরিয়তসম্মত কি না, তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি। কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণই হলো ইবাদত কবুলের অন্যতম মানদণ্ড।

তৃতীয়ত, হালাল উপার্জন ও পবিত্র আহার গ্রহণ ইবাদত কবুলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রভাবক। একজন মানুষ হয়তো নামাজ পড়ছেন, রোজা রাখছেন কিংবা নিয়মিত দান-সদকা করছেন, কিন্তু তার উপার্জন বা ভোগের উৎস যদি হারাম হয়, তবে তা তার ইবাদত কবুলের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ইসলামে উপার্জনের স্বচ্ছতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হারাম অর্থ বা খাবার গ্রহণ করে ইবাদত করলে তা আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ থাকে। পবিত্র হাদিসেও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, হারাম আহারের ওপর ভিত্তি করে গঠিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তাই মুমিনের ইবাদত যেন কবুল হয়, সে জন্য তার রুজি-রোজগার হতে হবে হালাল ও পবিত্র।

চতুর্থত, ইবাদতে নিষ্ঠা ও একনিষ্ঠতা থাকা জরুরি। ইবাদত কেবল লোকদেখানো হওয়া যাবে না। মানুষ দেখবে বা প্রশংসা করবে—এমন নিয়তে ইবাদত করলে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। যাকে বলা হয় ইখলাস বা আমলের বিশুদ্ধ নিয়ত। ইখলাস ছাড়া যেকোনো বড় ধরনের ইবাদতও শূন্যের কোঠায় নেমে যায়। একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় প্রতিটি কাজ সম্পাদন করতে হবে। এটি ইবাদতের এমন এক অভ্যন্তরীণ শক্তি, যা মুমিনের আমলকে উঁচুতে নিয়ে যায়।

পরিশেষে বলা যায়, নেক আমল কবুল হওয়ার বিষয়টি কেবল আনুষ্ঠানিকতার ওপর নির্ভর করে না। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক ইমান, সুন্নাহর অনুসরণ, হালাল রিজিক এবং খাঁটি নিয়ত। ইসলাম কেবল কিছু নিয়মের নাম নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে যদি এই শর্তগুলো যথাযথভাবে পালন করা যায়, তবেই একজন মুমিনের ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার আশা করা যায়। তাই কেবল আমলের সংখ্যা বাড়ানোই নয়, বরং আমলের গুণগত মান এবং বিশুদ্ধতা বজায় রাখাই হোক প্রতিটি মুমিনের মূল লক্ষ্য।

সর্বশেষ
পাবনায় দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন দুই আরোহী ইন্টারনেট স্বাধীনতায় সামান্য উন্নতি বাংলাদেশের, উদ্বেগের কেন্দ্রে গণমাধ্যম ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত ও করণীয় শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা গণঅধিকার পরিষদের কুমিল্লা লালমাইয়ে গ্যাং নেতার বাড়িতে অস্ত্র ও এয়ারগান জব্দ ঢাকা‑পাবনা রুটে নতুন ট্রেন চালু হবে নভেম্বরের শেষের দিকে, রেলপথ সচিবের ঘোষণায় নিউজিল্যান্ডের পাহাড়সম সংগ্রহ টপকে ভারতের দুর্দান্ত জয় কারাবন্দি বিএনপি নেতার পরিবারের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বন্ধ শিল্পের সম্পদ কাজে লাগিয়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি বাগেরহাটে প্রটোকল ভেঙে সাধারণ মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রী
Advertisement