শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা গণঅধিকার পরিষদের
সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হওয়ায় সরকারের নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। তিনি এই নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দায়িত্ব পালনকারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে যে নিরাপত্তা ঝুঁকি বা উদ্বেগের কথা সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মধ্যে কাজ করেছিল, তা কাটিয়ে উঠে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এবার সারাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। পূজা মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে যেসব বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল, তা সার্বিকভাবে প্রশংসার দাবি রাখে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকে। এই প্রেক্ষাপটেই গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ সরকারের গৃহীত নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রশংসা করেছেন।
শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি বাঙালির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক বড় মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রতি বছরই এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয়তা বিশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে গত কয়েক বছরের সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে এবার পূজার নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ নজরদারি ছিল লক্ষণীয়। আবু হানিফ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, উৎসবের দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মণ্ডপগুলোতে যে ধরণের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের পূজা উদযাপন করতে পেরেছেন, যা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
পূজা মণ্ডপগুলোতে স্বেচ্ছাসেবক দল এবং আনসার সদস্যের পাশাপাশি পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের বিশেষ টহল এবারের নিরাপত্তার অন্যতম দিক ছিল। এছাড়াও প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ধর্মীয় নেতাদের নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করার বিষয়টিও ছিল উল্লেখযোগ্য। গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা মনে করেন, সরকারের দায়িত্বশীল অবস্থান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাই এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, কোনো উৎসব যদি ভয়হীন পরিবেশে পালিত হয়, তবেই তার আসল আনন্দ পাওয়া যায়। এবারের পূজায় সেই ভয়হীন পরিবেশই নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক বিভাজন থাকলেও জাতীয় উৎসবের ক্ষেত্রে সরকারের এই ধরণের ইতিবাচক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো প্রয়োজন। আবু হানিফ মনে করেন, একটি রাষ্ট্র যখন তার নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করে, তখন দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। দুর্গোৎসবের এই কয়েকদিনে দেশের প্রতিটি প্রান্তে যে উৎসবের আমেজ ছিল, তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি আরও বলেন, কেবল সরকারি উদ্যোগই নয়, সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সজাগ দৃষ্টি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধও এই উৎসবকে শান্তিপূর্ণ করতে সহায়তা করেছে।
পরিশেষে, আবু হানিফ আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতেও সকল ধর্মীয় উৎসবে সরকারের পক্ষ থেকে এমন সতর্ক ও কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা বলবৎ থাকবে। এটি দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি করে এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সুযোগ কমিয়ে দেয়। তিনি পূজা আয়োজক কমিটিসহ যারা বিভিন্নভাবে এই উৎসবকে সুন্দর ও নির্বিঘ্ন করতে কাজ করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সরকারের গৃহীত এই পদক্ষেপগুলো আগামী দিনের যেকোনো বড় জাতীয় বা ধর্মীয় আয়োজনের ক্ষেত্রে একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। শান্তিপূর্ণ এই দুর্গাপূজা প্রমাণ করে যে, যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো বড় উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]