খুঁজুন
, ,

সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ: তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ: তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার

রাঙামাটি জেলার পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে এক অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় গঙ্গারাম বাজার এলাকায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যরা পর্যটকবাহী যানবাহন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ করেছে বলে নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। এই হামলার ফলে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে সেখানে বেড়াতে আসা প্রায় তিন হাজার পর্যটক দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েন। পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর যৌথ তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার সকালের দিকে। সাজেকে পর্যটকদের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং তাদের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ নিয়মিত টহল দিয়ে আসছিল। আইএসপিআর-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকালে অবরোধকারীরা সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় ইউপিডিএফের স্থানীয় সদস্যরা সাধারণ জনগণকে জোরপূর্বক মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এটি ছিল পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর পথে এক বড় ধরণের প্রতিবন্ধকতা। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে সেনাবাহিনীর টহল দল ও পুলিশ সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে আলোচনার মাধ্যমে অবরোধকারীদের রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও জনদুর্ভোগ লাঘব করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

পরিস্থিতি যখন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে ছিল, ঠিক তখনই পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। আইএসপিআর-এর ভাষ্যমতে, সকাল পৌনে ১১টার দিকে ইউপিডিএফের প্ররোচনায় অবরোধকারীরা হঠাৎ করেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এই অতর্কিত হামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে এবং অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল পর্যটকদের যানবাহনের জন্য রাস্তা পুনরায় উন্মুক্ত করা।

তবে পরিস্থিতি এখানেই শেষ হয়নি। সকাল ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটকদের জীবনের নিরাপত্তা ও নিজেদের আত্মরক্ষার স্বার্থে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয়। এরপর সশস্ত্র ব্যক্তিরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। এরপর সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে সড়ক থেকে প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নেওয়া হয় এবং অবরুদ্ধ তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে খাগড়াছড়ির দিকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

পর্যটন মৌসুমে সাজেকে এই ধরণের সহিংসতা ও পর্যটকদের জিম্মি করার ঘটনা জনমনে গভীর শঙ্কা তৈরি করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি বজায় রাখতে এবং পর্যটনের মতো একটি সম্ভাবনাময় শিল্পের নিরাপত্তায় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বদ্ধপরিকর। পর্যটকদের কোনো প্রকার ক্ষতি ছাড়াই উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, পাহাড়ি এলাকায় এ ধরনের সশস্ত্র তৎপরতা পর্যটন খাতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পর্যটকদের অবাধ চলাচল বজায় রাখতে তারা সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পর্যটকরা যেন নির্ভয়ে ভ্রমণ করতে পারেন, সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি পাহাড়ি অঞ্চলের বর্তমান অস্থিরতার চিত্র তুলে ধরেছে এবং এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

চীনে আন্তর্জাতিক কোল্ড চেইন এক্সপোতে নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁওয়ের রবিন

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
   
চীনে আন্তর্জাতিক কোল্ড চেইন এক্সপোতে নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁওয়ের রবিন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের ব্যবসায়ী নেতা গোলাম সারোয়ার রবিন। চীনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোল্ড চেইন এক্সপো RACC China 2026 এ বাংলাদেশের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে ফিতা কাটার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

আজ আয়োজক কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে।

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক গোলাম সারোয়ার রবিন। তিনি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সদস্য এবং ঠাকুরগাঁও চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।


আন্তর্জাতিক এ আয়োজনে তাঁর অংশগ্রহণ ঠাকুরগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মহলের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। কোল্ড চেইন প্রযুক্তি, হিমাগার ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণ খাতের আধুনিকায়নে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রতিনিধি দলে গোলাম সারোয়ার রবিনের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও ঠাকুরগাঁও চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গীর আলম খোকন, রাজশাহী চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শামসুর রহমান শান্তন, রাহাবার হিমাগার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গণি সুলতান হাসান ইমরোজ, এসবি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম সুমন ও নুরুল ইসলাম স্বপন এবং ঠাকুরগাঁও চেম্বারের পরিচালক মনোয়ার হোসেন কামালসহ অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য সদস্য।


সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ধরনের প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আধুনিক কোল্ড চেইন প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য সংরক্ষণে নতুন পদ্ধতি এবং ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও তৈরি হয়।

বাংলাদেশের কোল্ড স্টোরেজ খাতের প্রতিনিধিত্বকারী এ দলের অংশগ্রহণ দেশের কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক খাতে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উপনির্বাচন ঘিরে ভূল্লীতে বিসিডিএসের ঔষধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
   
উপনির্বাচন ঘিরে ভূল্লীতে বিসিডিএসের ঔষধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে ঔষধ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাজার কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে সমর্থন ও ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১টায় ভূল্লী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির (বিসিডিএস) নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় ঔষধ ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ভূল্লী পল্লী ডেন্টাল কেয়ারের স্বত্বাধিকারী মোস্তাফিজুর রহমান লিটন।

সভায় বক্তব্যে মির্জা আবু তাহের বলেন, আসন্ন উপনির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। গত নির্বাচনের তুলনায় এবার বেশি ভোট দিয়ে প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ঔষধ ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ২৯ তারিখের নির্বাচনে তাঁকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে স্থানীয় পর্যায়ে সবার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

ভূল্লী উপজেলার উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরে মির্জা আবু তাহের বলেন, উপজেলা প্রতিষ্ঠার ফলে এ অঞ্চলে নতুন নতুন সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল-কলেজ, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় জনগণ নিজ এলাকাতেই প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রশাসনিক কাজে ঠাকুরগাঁও শহরে যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সভায় বিসিডিএসের সভাপতি ডা. ইহসান ঔষধ ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সদস্য হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সমস্যা চিহ্নিত করা, সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এবং সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন বাজারে মতবিনিময় করা হচ্ছে। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১০ শতাংশ ভোট দেওয়ার বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঔষধ ব্যবসার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি দোকানের লাইসেন্স সংরক্ষণ, ব্যবসা পরিচালনার নিয়মকানুন অনুসরণ এবং প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় স্থানীয় বাজার কমিটির প্রতিনিধি, বিসিডিএসের নেতৃবৃন্দ এবং ভূল্লী বাজারের ঔষধ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

মসজিদে নয়, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় বক্তব্য দিয়েছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
মসজিদে নয়, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় বক্তব্য দিয়েছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মসজিদের মিম্বারে বসে দুর্গাদেবীর প্রশংসা করেছেন—এমন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে। ভিডিওতে তাঁকে মসজিদের মিম্বারের মতো স্থানে বসে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তবে দৃশ্যের সঙ্গে যুক্ত বক্তব্যটি ওই মসজিদে দেওয়ার নয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরের চৌপল্লী বারাহী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তিনি বক্তব্যটি দিয়েছিলেন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, ইমামকে নিচে বসিয়ে মন্ত্রী মসজিদের মিম্বারে বসে দুর্গার প্রশংসা করেছেন। এভাবে উপস্থাপনের ফলে বক্তব্যের স্থান ও প্রেক্ষাপট নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ভিডিওটি খুঁটিয়ে দেখলে দৃশ্য এবং শোনা বক্তব্যের মধ্যে কয়েকটি অসংগতি চোখে পড়ে। বক্তব্যের শব্দের সঙ্গে মন্ত্রীর ঠোঁটের নড়াচড়া পুরোপুরি মেলে না; কিছু জায়গায় তাঁর মুখের অভিব্যক্তি ও শারীরিক অঙ্গভঙ্গির সঙ্গেও অডিওর সামঞ্জস্য নেই।

ভিডিওতে আশপাশের নানা ধরনের আওয়াজও শোনা যায়। বক্তব্যের সঙ্গে কিছু অস্বাভাবিক শব্দ থাকার বিষয়টি দৃশ্যটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এসব অসংগতি একা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি নয়, তবে ভিডিওটি সম্পাদিত কি না, তা যাচাইয়ের প্রয়োজন স্পষ্ট করে। দৃশ্য ও বক্তব্যের তুলনায় দেখা যায়, একই ব্যক্তির আলাদা সময়ে ধারণ করা দুই ধরনের ভিডিওকে একসঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এর মধ্যে একটি ভিডিওতে মন্ত্রীকে মসজিদের মিম্বারে বসে কথা বলতে দেখা যায়। ওই দৃশ্যের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন একটি ভিডিও গত মাসের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলছিলেন। আলোচিত ভিডিওতে মসজিদের ওই দৃশ্য ব্যবহার করা হলেও তার সঙ্গে শোনা বক্তব্যটি আলাদা।

অন্যদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে চৌপল্লী বারাহী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের একটি অংশ আলোচিত ভিডিওতে যুক্ত করা হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ফলে ভিডিওটিতে মসজিদের দৃশ্যের ওপর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময়কার বক্তব্য বসিয়ে এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে, যাতে মনে হয় বক্তব্যটি মসজিদে বসেই দেওয়া হয়েছে। এই দুই ঘটনার স্থান ও উপলক্ষ এক নয়।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়েছে। শুধু ফেসবুকেই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত ৯০টির বেশি পেজ ও প্রোফাইল থেকে এটি প্রকাশ করা হয়েছিল। একই দাবি নানা অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়ায় অনেকের কাছে ভিডিওটি স্বতন্ত্রভাবে ধারণ করা ঘটনা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু কোনো ভিডিওর সঙ্গে ক্যাপশনে দেওয়া দাবি মিলে গেলেই সেটি সত্য হয়ে যায় না; দৃশ্য, শব্দ, সময় ও ঘটনার প্রেক্ষাপট মিলিয়ে দেখা জরুরি।

এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিডিওর মসজিদের দৃশ্যটি এবং দুর্গার প্রশংসা-সংক্রান্ত বক্তব্য একই সময় বা একই স্থানের নয়। মন্ত্রীর বক্তব্যটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত। আর মসজিদের মিম্বারে বসে কথা বলার দৃশ্যটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলাবদ্ধতা নিয়ে তাঁর অন্য একটি বক্তব্যের ভিডিওতে পাওয়া যায়। এ দুই অংশ জুড়ে দেওয়ায় বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট আড়াল হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তি বা জনপরিচিত মানুষের বক্তব্য ঘিরে ভিডিও ছড়ালে মূল রেকর্ডিং, দৃশ্যের পটভূমি এবং বক্তব্যের ধারাবাহিকতা যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ভিডিওর শব্দ ও ঠোঁটের নড়াচড়ায় অমিল থাকলে, কিংবা পরিবেশের সঙ্গে শব্দ না মিললে, সেটিকে সরাসরি প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আলোচিত ভিডিওর ক্ষেত্রেও ক্যাপশনের দাবি ও প্রকৃত ঘটনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

অতএব, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মসজিদের মিম্বারে বসে দুর্গার প্রশংসা করেছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এই উপস্থাপন সঠিক নয়। তিনি দুর্গাপূজা উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরের চৌপল্লী বারাহী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় বক্তব্য দিয়েছিলেন; সেই বক্তব্যের অংশ অন্য একটি মসজিদের ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে জুড়ে প্রচার করা হয়েছে।

সর্বশেষ
চীনে আন্তর্জাতিক কোল্ড চেইন এক্সপোতে নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁওয়ের রবিন উপনির্বাচন ঘিরে ভূল্লীতে বিসিডিএসের ঔষধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা মসজিদে নয়, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় বক্তব্য দিয়েছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী লিপ সেকেন্ড থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বিশ্ব: ২০২৭ সালে কার্যকর হবে নতুন সময় গণনা শরৎ ঋতুতেও তানজিয়া মিথিলার ফ্যাশন সচেতনতা নজর কেড়েছে ভক্তদের উত্তরায় ‘দে লাড়া’ কিশোরগ্যাং গ্রুপের মূলহোতা পিচ্চি সানি গ্রেপ্তার ময়মনসিংহে ব্যাংক লুটের চেষ্টার সময় আটক এক সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ: তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার কুরআনের আলো ছড়িয়ে দিতে ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান গণতন্ত্রের প্রধান স্তম্ভ গণমাধ্যম: রাষ্ট্রপতি
Advertisement