পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মসজিদের মিম্বারে বসে দুর্গাদেবীর প্রশংসা করেছেন—এমন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে। ভিডিওতে তাঁকে মসজিদের মিম্বারের মতো স্থানে বসে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তবে দৃশ্যের সঙ্গে যুক্ত বক্তব্যটি ওই মসজিদে দেওয়ার নয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরের চৌপল্লী বারাহী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তিনি বক্তব্যটি দিয়েছিলেন।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, ইমামকে নিচে বসিয়ে মন্ত্রী মসজিদের মিম্বারে বসে দুর্গার প্রশংসা করেছেন। এভাবে উপস্থাপনের ফলে বক্তব্যের স্থান ও প্রেক্ষাপট নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ভিডিওটি খুঁটিয়ে দেখলে দৃশ্য এবং শোনা বক্তব্যের মধ্যে কয়েকটি অসংগতি চোখে পড়ে। বক্তব্যের শব্দের সঙ্গে মন্ত্রীর ঠোঁটের নড়াচড়া পুরোপুরি মেলে না; কিছু জায়গায় তাঁর মুখের অভিব্যক্তি ও শারীরিক অঙ্গভঙ্গির সঙ্গেও অডিওর সামঞ্জস্য নেই।
ভিডিওতে আশপাশের নানা ধরনের আওয়াজও শোনা যায়। বক্তব্যের সঙ্গে কিছু অস্বাভাবিক শব্দ থাকার বিষয়টি দৃশ্যটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এসব অসংগতি একা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি নয়, তবে ভিডিওটি সম্পাদিত কি না, তা যাচাইয়ের প্রয়োজন স্পষ্ট করে। দৃশ্য ও বক্তব্যের তুলনায় দেখা যায়, একই ব্যক্তির আলাদা সময়ে ধারণ করা দুই ধরনের ভিডিওকে একসঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এর মধ্যে একটি ভিডিওতে মন্ত্রীকে মসজিদের মিম্বারে বসে কথা বলতে দেখা যায়। ওই দৃশ্যের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন একটি ভিডিও গত মাসের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলছিলেন। আলোচিত ভিডিওতে মসজিদের ওই দৃশ্য ব্যবহার করা হলেও তার সঙ্গে শোনা বক্তব্যটি আলাদা।
অন্যদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে চৌপল্লী বারাহী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের একটি অংশ আলোচিত ভিডিওতে যুক্ত করা হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ফলে ভিডিওটিতে মসজিদের দৃশ্যের ওপর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময়কার বক্তব্য বসিয়ে এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে, যাতে মনে হয় বক্তব্যটি মসজিদে বসেই দেওয়া হয়েছে। এই দুই ঘটনার স্থান ও উপলক্ষ এক নয়।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়েছে। শুধু ফেসবুকেই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত ৯০টির বেশি পেজ ও প্রোফাইল থেকে এটি প্রকাশ করা হয়েছিল। একই দাবি নানা অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়ায় অনেকের কাছে ভিডিওটি স্বতন্ত্রভাবে ধারণ করা ঘটনা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু কোনো ভিডিওর সঙ্গে ক্যাপশনে দেওয়া দাবি মিলে গেলেই সেটি সত্য হয়ে যায় না; দৃশ্য, শব্দ, সময় ও ঘটনার প্রেক্ষাপট মিলিয়ে দেখা জরুরি।
এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিডিওর মসজিদের দৃশ্যটি এবং দুর্গার প্রশংসা-সংক্রান্ত বক্তব্য একই সময় বা একই স্থানের নয়। মন্ত্রীর বক্তব্যটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত। আর মসজিদের মিম্বারে বসে কথা বলার দৃশ্যটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলাবদ্ধতা নিয়ে তাঁর অন্য একটি বক্তব্যের ভিডিওতে পাওয়া যায়। এ দুই অংশ জুড়ে দেওয়ায় বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট আড়াল হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তি বা জনপরিচিত মানুষের বক্তব্য ঘিরে ভিডিও ছড়ালে মূল রেকর্ডিং, দৃশ্যের পটভূমি এবং বক্তব্যের ধারাবাহিকতা যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ভিডিওর শব্দ ও ঠোঁটের নড়াচড়ায় অমিল থাকলে, কিংবা পরিবেশের সঙ্গে শব্দ না মিললে, সেটিকে সরাসরি প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আলোচিত ভিডিওর ক্ষেত্রেও ক্যাপশনের দাবি ও প্রকৃত ঘটনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
অতএব, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মসজিদের মিম্বারে বসে দুর্গার প্রশংসা করেছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এই উপস্থাপন সঠিক নয়। তিনি দুর্গাপূজা উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরের চৌপল্লী বারাহী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় বক্তব্য দিয়েছিলেন; সেই বক্তব্যের অংশ অন্য একটি মসজিদের ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে জুড়ে প্রচার করা হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:১৪ অপরাহ্ণ