খুঁজুন
, ,

কুরআনের আলো ছড়িয়ে দিতে ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
কুরআনের আলো ছড়িয়ে দিতে ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :পবিত্র কুরআনের হিফজ ও সুমধুর তিলাওয়াতের চর্চা ছড়িয়ে দিতে ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে মারকাযুল হুফফাজ বাংলাদেশের রংপুর বিভাগীয় ২য় হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতার জেলা বাছাইপর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও রোডের বায়তুল আমান ইজাব উদ্দীন হাফেজিয়া মাদ্রাসা মসজিদ কমপ্লেক্সে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ১৭২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

প্রতিযোগিতা শেষে প্রতিটি ক্যাটাগরি থেকে ৭ জন করে মোট ২১ জন শিক্ষার্থী পরবর্তী পর্বের জন্য নির্বাচিত হয়।

আগামী ২১ নভেম্বর ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে পরবর্তী পর্ব। এতে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলার নির্বাচিতসহ মোট ৮৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

প্রতিযোগিতায় প্রধান বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন দিনাজপুর নিউটাউন মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের প্রধান হাফেজ ক্বারী আবু সায়েম, দিনাজপুর দারুল আরকাম লি-তাহফিজিল কুরআন মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ ক্বারী আব্দুল্লাহ, নীলফামারীর দারুল উলুম হামিউস সুন্নাহ মাদ্রাসার পরিচালক ক্বারী আব্দুস সালাম এবং মারকাযুল হুফফাজ বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ ক্বারী রাফিউল ইসলাম রাফি।

এছাড়াও সহকারী বিচারক হিসেবে ছিলেন মারকাযুল হুফ্ফাজ বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় বিচারক মন্ডলী
হাফেজ ক্বারী মাওলানা সুহাইল আহমাদ, হাফেজ মাওলানা মুহাইমিন ইসলাম, এইচ. এম. মুহিব্বুল্লাহ, হাফেজ মাওলানা হাবিবুর রহমান, হাফেজ রাজু আহমেদ, হাফেজ আরিফুল ইসলাম,

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল ইসলাম শরীফ। প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. মাহমুদ হাসান রাজু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ মো. ইউনুস আলী, আলহাজ মো. আবু সালাম, মো. ইয়াকুব আলী ও ক্বারী মো. আব্দুল মোমিন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মারকাযুল হুফফাজ বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের শুরা প্রধান হযরত মাওলানা এমদাদুল হক (শাহী হুজুর)।

মারকাযুল হুফফাজ বাংলাদেশের রংপুর বিভাগীয় মজলিসে শুরার সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কুরআন হিফজ ও সুমধুর কণ্ঠে তিলাওয়াতের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুভেচ্ছান্তে ছিলেন মারকাযুল হুফফাজ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাফেজ ক্বারী আব্দুস সামাদ আজাদী।
আয়োজনে ছিলেন, মারকাযুল হুফফাজ বাংলাদেশ।

উপনির্বাচন ঘিরে ভূল্লীতে বিসিডিএসের ঔষধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৭ অপরাহ্ণ
   
উপনির্বাচন ঘিরে ভূল্লীতে বিসিডিএসের ঔষধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে ঔষধ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাজার কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষে সমর্থন ও ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১টায় ভূল্লী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির (বিসিডিএস) নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় ঔষধ ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ভূল্লী পল্লী ডেন্টাল কেয়ারের স্বত্বাধিকারী মোস্তাফিজুর রহমান লিটন।

সভায় বক্তব্যে মির্জা আবু তাহের বলেন, আসন্ন উপনির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। গত নির্বাচনের তুলনায় এবার বেশি ভোট দিয়ে প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ঔষধ ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ২৯ তারিখের নির্বাচনে তাঁকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে স্থানীয় পর্যায়ে সবার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

ভূল্লী উপজেলার উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরে মির্জা আবু তাহের বলেন, উপজেলা প্রতিষ্ঠার ফলে এ অঞ্চলে নতুন নতুন সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল-কলেজ, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় জনগণ নিজ এলাকাতেই প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রশাসনিক কাজে ঠাকুরগাঁও শহরে যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সভায় বিসিডিএসের সভাপতি ডা. ইহসান ঔষধ ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সদস্য হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সমস্যা চিহ্নিত করা, সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এবং সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন বাজারে মতবিনিময় করা হচ্ছে। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১০ শতাংশ ভোট দেওয়ার বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঔষধ ব্যবসার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি দোকানের লাইসেন্স সংরক্ষণ, ব্যবসা পরিচালনার নিয়মকানুন অনুসরণ এবং প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় স্থানীয় বাজার কমিটির প্রতিনিধি, বিসিডিএসের নেতৃবৃন্দ এবং ভূল্লী বাজারের ঔষধ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

মসজিদে নয়, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় বক্তব্য দিয়েছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
মসজিদে নয়, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় বক্তব্য দিয়েছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মসজিদের মিম্বারে বসে দুর্গাদেবীর প্রশংসা করেছেন—এমন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে। ভিডিওতে তাঁকে মসজিদের মিম্বারের মতো স্থানে বসে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তবে দৃশ্যের সঙ্গে যুক্ত বক্তব্যটি ওই মসজিদে দেওয়ার নয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরের চৌপল্লী বারাহী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তিনি বক্তব্যটি দিয়েছিলেন।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, ইমামকে নিচে বসিয়ে মন্ত্রী মসজিদের মিম্বারে বসে দুর্গার প্রশংসা করেছেন। এভাবে উপস্থাপনের ফলে বক্তব্যের স্থান ও প্রেক্ষাপট নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ভিডিওটি খুঁটিয়ে দেখলে দৃশ্য এবং শোনা বক্তব্যের মধ্যে কয়েকটি অসংগতি চোখে পড়ে। বক্তব্যের শব্দের সঙ্গে মন্ত্রীর ঠোঁটের নড়াচড়া পুরোপুরি মেলে না; কিছু জায়গায় তাঁর মুখের অভিব্যক্তি ও শারীরিক অঙ্গভঙ্গির সঙ্গেও অডিওর সামঞ্জস্য নেই।

ভিডিওতে আশপাশের নানা ধরনের আওয়াজও শোনা যায়। বক্তব্যের সঙ্গে কিছু অস্বাভাবিক শব্দ থাকার বিষয়টি দৃশ্যটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এসব অসংগতি একা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি নয়, তবে ভিডিওটি সম্পাদিত কি না, তা যাচাইয়ের প্রয়োজন স্পষ্ট করে। দৃশ্য ও বক্তব্যের তুলনায় দেখা যায়, একই ব্যক্তির আলাদা সময়ে ধারণ করা দুই ধরনের ভিডিওকে একসঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এর মধ্যে একটি ভিডিওতে মন্ত্রীকে মসজিদের মিম্বারে বসে কথা বলতে দেখা যায়। ওই দৃশ্যের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন একটি ভিডিও গত মাসের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলছিলেন। আলোচিত ভিডিওতে মসজিদের ওই দৃশ্য ব্যবহার করা হলেও তার সঙ্গে শোনা বক্তব্যটি আলাদা।

অন্যদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে চৌপল্লী বারাহী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের একটি অংশ আলোচিত ভিডিওতে যুক্ত করা হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ফলে ভিডিওটিতে মসজিদের দৃশ্যের ওপর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময়কার বক্তব্য বসিয়ে এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে, যাতে মনে হয় বক্তব্যটি মসজিদে বসেই দেওয়া হয়েছে। এই দুই ঘটনার স্থান ও উপলক্ষ এক নয়।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়েছে। শুধু ফেসবুকেই প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত ৯০টির বেশি পেজ ও প্রোফাইল থেকে এটি প্রকাশ করা হয়েছিল। একই দাবি নানা অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়ায় অনেকের কাছে ভিডিওটি স্বতন্ত্রভাবে ধারণ করা ঘটনা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু কোনো ভিডিওর সঙ্গে ক্যাপশনে দেওয়া দাবি মিলে গেলেই সেটি সত্য হয়ে যায় না; দৃশ্য, শব্দ, সময় ও ঘটনার প্রেক্ষাপট মিলিয়ে দেখা জরুরি।

এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিডিওর মসজিদের দৃশ্যটি এবং দুর্গার প্রশংসা-সংক্রান্ত বক্তব্য একই সময় বা একই স্থানের নয়। মন্ত্রীর বক্তব্যটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত। আর মসজিদের মিম্বারে বসে কথা বলার দৃশ্যটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলাবদ্ধতা নিয়ে তাঁর অন্য একটি বক্তব্যের ভিডিওতে পাওয়া যায়। এ দুই অংশ জুড়ে দেওয়ায় বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট আড়াল হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তি বা জনপরিচিত মানুষের বক্তব্য ঘিরে ভিডিও ছড়ালে মূল রেকর্ডিং, দৃশ্যের পটভূমি এবং বক্তব্যের ধারাবাহিকতা যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ভিডিওর শব্দ ও ঠোঁটের নড়াচড়ায় অমিল থাকলে, কিংবা পরিবেশের সঙ্গে শব্দ না মিললে, সেটিকে সরাসরি প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আলোচিত ভিডিওর ক্ষেত্রেও ক্যাপশনের দাবি ও প্রকৃত ঘটনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

অতএব, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মসজিদের মিম্বারে বসে দুর্গার প্রশংসা করেছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এই উপস্থাপন সঠিক নয়। তিনি দুর্গাপূজা উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরের চৌপল্লী বারাহী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় বক্তব্য দিয়েছিলেন; সেই বক্তব্যের অংশ অন্য একটি মসজিদের ভিডিওর দৃশ্যের সঙ্গে জুড়ে প্রচার করা হয়েছে।

লিপ সেকেন্ড থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বিশ্ব: ২০২৭ সালে কার্যকর হবে নতুন সময় গণনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
লিপ সেকেন্ড থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বিশ্ব: ২০২৭ সালে কার্যকর হবে নতুন সময় গণনা

সময়ের সূক্ষ্ম হিসাব নিয়ে গত কয়েক দশক ধরে চলে আসা বিতর্ক ও আলোচনার ইতি টানতে যাচ্ছে বিশ্ব। ঘড়ির কাঁটায় সময় সমন্বয় করার জন্য যে লিপ সেকেন্ডের ধারণাটি প্রচলিত ছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আগামী ২০২৭ সালের পর থেকে আর লিপ সেকেন্ডের প্রয়োজন হবে না এবং এই পদ্ধতি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইন্টারন্যাশন্যাল ব্যুরো অফ ওয়েটস অ্যান্ড মেজারমেন্টস-এর সাম্প্রতিক এই ঘোষণা বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি ও যোগাযোগ খাতের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

লিপ সেকেন্ড মূলত পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির সঙ্গে পারমাণবিক ঘড়ির সময়ের সামঞ্জস্য বজায় রাখার একটি প্রক্রিয়া ছিল। পৃথিবী তার অক্ষে সবসময় সমান গতিতে ঘোরে না। কখনও এর ঘূর্ণন গতি সামান্য ধীর হয়ে যায়, আবার কখনও গতি বাড়ে। পৃথিবীর ঘূর্ণন ও পারমাণবিক ঘড়ির এই পার্থক্যের কারণে সময়ের হিসাবে গরমিল দেখা দেয়। এই সূক্ষ্ম পার্থক্য দূর করতে ১৯৭২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩২ বার বৈশ্বিক সময়ের সঙ্গে অতিরিক্ত এক সেকেন্ড যোগ করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত এক সেকেন্ডটিই পরিচিত ‘লিপ সেকেন্ড’ নামে। তবে এই সামান্য মনে হওয়া এক সেকেন্ড প্রযুক্তি বিশ্বে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে সক্ষম।

বর্তমান যুগে ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, জিপিএস সিস্টেম, আধুনিক ব্যাংকিং লেনদেন এবং বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিটি খুঁটিনাটি ডিজিটাল নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল। এই নেটওয়ার্কগুলো অত্যন্ত নিখুঁত পারমাণবিক ঘড়ির সময়ের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। লিপ সেকেন্ড যখন যোগ করা হয়, তখন বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল অবকাঠামোতে এক ধরনের অস্থিরতা বা ট্রাফিক জ্যামের মতো পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। যদিও সাধারণ ব্যবহারকারী হিসেবে আমরা এটি টেরই পাই না, কিন্তু সফটওয়্যার সিস্টেমের জন্য এই বিরতি বা বাড়তি সেকেন্ড বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। কখনো কখনো এই প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও থাকে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘নেগেটিভ লিপ সেকেন্ড’ বা নেতিবাচক লিপ সেকেন্ডের ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ গবেষণার সারমর্ম হলো, বর্তমান প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের যুগে এভাবে বারবার সময়ের সঙ্গে হেরফের করা আর নিরাপদ নয়। প্রযুক্তির এই জটিল নেটওয়ার্ককে নির্বিঘ্ন রাখতে লিপ সেকেন্ডের মতো অসামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা বাদ দেওয়া এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ২০২৭ সালের মে মাসের পর থেকে এই নিয়মটি আর কার্যকর থাকবে না। অর্থাৎ তখন থেকে ঘড়ির কাঁটা আর নতুন করে লিপ সেকেন্ডের কারণে বাধাগ্রস্ত হবে না বা নতুন কোনো সেকেন্ড যুক্ত হবে না।

এই পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বড় সুবিধা পাবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। জিপিএস ন্যাভিগেশন, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল এবং ডিজিটাল লেনদেনের সার্ভারগুলো এখন অনেক বেশি স্থিতিশীল থাকবে। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে যে সামান্য সময়ের বিচ্যুতি ঘটবে, তা প্রযুক্তিগত সমাধানের মাধ্যমে সামঞ্জস্য করার পরিকল্পনা রয়েছে বিজ্ঞানীদের। অর্থাৎ মানবসভ্যতা এমন এক যুগে প্রবেশ করছে যেখানে সময়ের হিসাব হবে আরও বেশি ডিজিটাল ও গাণিতিক, যেখানে প্রথাগত ঘড়ির সঙ্গে পৃথিবীর ঘূর্ণনের সামান্য অমিল আর প্রযুক্তির পথ রোধ করবে না। লিপ সেকেন্ডের বিদায় নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকে একটি মসৃণ ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত সময়ের দিকে এগিয়ে নেবে।

সর্বশেষ
উপনির্বাচন ঘিরে ভূল্লীতে বিসিডিএসের ঔষধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা মসজিদে নয়, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় বক্তব্য দিয়েছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী লিপ সেকেন্ড থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বিশ্ব: ২০২৭ সালে কার্যকর হবে নতুন সময় গণনা শরৎ ঋতুতেও তানজিয়া মিথিলার ফ্যাশন সচেতনতা নজর কেড়েছে ভক্তদের উত্তরায় ‘দে লাড়া’ কিশোরগ্যাং গ্রুপের মূলহোতা পিচ্চি সানি গ্রেপ্তার ময়মনসিংহে ব্যাংক লুটের চেষ্টার সময় আটক এক সাজেকে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ইউপিডিএফের গুলিবর্ষণ: তিন হাজার পর্যটক উদ্ধার কুরআনের আলো ছড়িয়ে দিতে ঠাকুরগাঁওয়ে হিফজুল কুরআন ও হুসনে সওত প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান গণতন্ত্রের প্রধান স্তম্ভ গণমাধ্যম: রাষ্ট্রপতি গাজায় ভয়াবহ খাদ্যসংকট: ত্রাণ সহায়তা কমিয়ে দিল ডাব্লিউএফপি
Advertisement