খুঁজুন
, ,

এমআরইউ ও ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালের মধ্যে করপোরেট স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি

আলোকিত ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ
এমআরইউ ও ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালের মধ্যে করপোরেট স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি

সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য বিশেষ ডিসকাউন্টে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ

রাজধানীতে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ) ও ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের মধ্যে করপোরেট স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় এমআরইউর সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাঁদের নির্ধারিত পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালটির বিভিন্ন চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ ডিসকাউন্ট সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর মগবাজারে ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের সেমিনার কক্ষে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এমআরইউ। চুক্তি অনুযায়ী, সংগঠনটির সদস্যদের পাশাপাশি তাঁদের পিতা-মাতা, স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানরাও নির্ধারিত শর্তে এ সুবিধা পাবেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংগঠনটির সভাপতি শাহরিয়ার নাঈম ও সাধারণ সম্পাদক মিছবাহ উদ্দীন। অন্যদিকে, ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর) মো. আলতাফ হোসেন, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার) মুহা. হাফিজুর রহমান এবং সহকারী ব্যবস্থাপক (বিপণন ও মিডিয়া ইনচার্জ) এইচ এম দুলাল।

অনুষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সহসভাপতি ইসলাম উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত, কার্যনির্বাহী সদস্য আবুল খায়ের, শিমুল হাওলাদার এবং সদস্য হেদায়েতুল্লাহ তুর্কী, বাপ্পি, ইমরান, ইসা, রনিসহ সংগঠনটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

হাসপাতালের পক্ষে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেনারেল ম্যানেজার (হেড অব অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফাইন্যান্স) মোজাফফর হাসান খান মজলিস, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (করপোরেট) মো. হিরো মিয়া এবং মো. ইমরান হোসেন।

অনুষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাহরিয়ার নাঈম বলেন, “মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের যেকোনো প্রয়োজনে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি কাজ করে যাবে। স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং সাংবাদিকদের প্রয়োজনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এমআরইউ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।”

তিনি আরও বলেন, সংগঠনের সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবার অংশীদার হিসেবে যুক্ত হওয়ায় ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। এ ধরনের উদ্যোগ মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।

এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যদের পাশে থাকার এবং তাঁদের স্বাস্থ্যসেবায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ করপোরেট চুক্তির ফলে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য ও তাঁদের পরিবারের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ আরও সহজ, সুবিধাজনক এবং সাশ্রয়ী হবে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সৌদি আরবে স্বাভাবিক বিমান চলাচল, ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
সৌদি আরবে স্বাভাবিক বিমান চলাচল, ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালু

সৌদি আরবের বিমানবন্দর এলাকায় সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। রাষ্ট্রায়ত্ত এই পতাকাবাহী সংস্থাটি যাত্রীসেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের নিয়মিত শিডিউল অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বেশ কিছু এলাকায় বিমানবন্দরকেন্দ্রিক যে অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে বিশেষ করে সৌদি আরবের গন্তব্যগুলোতে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছিল, যার ফলে হাজার হাজার যাত্রী দীর্ঘ প্রতীক্ষার মুখে পড়েছিলেন। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হওয়ায় এই রুটে ফ্লাইট বন্ধ থাকা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছিল। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এখন আগের মতোই নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার সবুজ সংকেত পেয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন আটকে থাকা যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন এবং প্রবাসীদের যাতায়াতের সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের সবকটি রুটেই ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা এখন সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালুর পাশাপাশি অন্যান্য গন্তব্যেও বিমানের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কোনো গন্তব্যে ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করতে হলে তা সংশ্লিষ্ট দেশের নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করেই করা হয়। যেহেতু সৌদি আরবের পরিস্থিতির এখন উন্নতি হয়েছে, তাই যাত্রীসেবা নিশ্চিতে বাড়তি তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করার পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ আকাশসীমা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটগুলো পুনরায় দাম্মাম রুটে অবতরণ ও উড্ডয়ন করতে সক্ষম হচ্ছে। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী, যাত্রীদের তাদের ফ্লাইট সংক্রান্ত যেকোনো হালনাগাদ তথ্যের জন্য সরাসরি ওয়েবসাইট বা কল সেন্টারে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইটের সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন আছে কি না, তা যাচাই করে বিমানবন্দরে আসার জন্য যাত্রীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ফ্লাইট বন্ধ থাকার কারণে যে জট তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থাও করতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে নিয়মিত সূচি অনুযায়ীই ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হচ্ছে। সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি খবর, কারণ কর্মস্থলে ফেরা বা দেশে ফেরার ক্ষেত্রে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা এখন দূর হয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইটগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করলে খুব দ্রুতই যাত্রীদের চাপ সামলে নেওয়া সম্ভব হবে।

এর আগে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার খাতিরে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আকাশপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় বৈশ্বিক এয়ারলাইন্সগুলোর মতোই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক করেছে। এ বিষয়টি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে, যারা গত কয়েকদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সবসময়ই যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে এবং এই রুটে চলাচলকারী সকল যাত্রীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।

খেলাধুলা জাতীয় ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
খেলাধুলা জাতীয় ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, খেলাধুলা কেবল শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বা জয়ের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির সামগ্রিক মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের সমাজে সংহতি, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং দেশপ্রেমের মতো ইতিবাচক গুণাবলী ছড়িয়ে দিতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তিনি এক অনুষ্ঠানে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের গুরুত্ব তুলে ধরে এমন মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিযোগিতার মাঠ ছাড়িয়ে খেলাধুলা যখন মানবিক মূল্যবোধের চর্চায় পরিণত হয়, তখনই একটি সুন্দর সমাজ গঠন সহজতর হয়।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে দূরে রাখে এবং তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহমর্মিতার শিক্ষা খেলার মাঠ থেকেই সবচেয়ে কার্যকরভাবে শেখা সম্ভব। হারজিতের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতাকে এগিয়ে রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি খেলায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের মধ্যে যে সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি হয়, তা বৃহত্তর পরিসরে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন মেধাবী খেলোয়াড় খুঁজে বের করার ওপরও জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে আমাদের দেশের অ্যাথলেটরা বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা আরও উঁচুতে তুলে ধরতে সক্ষম হবে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্রীড়াবিদদের সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, খেলাধুলা যেন কেবল বিনোদনে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি দেশাত্মবোধক চেতনায় রূপান্তরিত হয়, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে তিনি বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে সুস্থধারার সংস্কৃতির বিকাশে খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে যখন মানুষে মানুষে দূরত্ব বাড়ছে, তখন খেলাধুলা হতে পারে সেতুবন্ধন। এটি কেবল শারীরিক কসরত নয়, বরং এটি একটি জাতির পরিচয় ও সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। সবশেষে তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন নিজেদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে নিয়মিত খেলাধুলায় মনোনিবেশ করে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির সেবায় নিয়োজিত হয়।

চলতি অর্থবছর শেষে মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
চলতি অর্থবছর শেষে মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি

বর্তমান ধারায় সরকারি ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের ওপর ঋণের বোঝা দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশের অর্থনীতির ওপর ঋণের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। সরকারের নেওয়া ঋণ বৃদ্ধির বর্তমান ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই মাথাপিছু ঋণের বোঝা দেড় লাখ টাকার মাইলফলকের কাছে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি অর্থ বিভাগের সাম্প্রতিক প্রাক্কলন ও বিশ্লেষণ থেকে এমন উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও ভবিষ্যতের আর্থিক পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুন মাস নাগাদ সরকারের মোট ঋণের স্থিতি প্রায় ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত হতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, ঘাটতি বাজেট পূরণ এবং নিয়মিত সরকারি ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে ধারাবাহিকভাবে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। ঋণের এই লাগামহীন বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে রাজস্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশের সামগ্রিক ঋণ পরিস্থিতির মধ্যে বিদেশি ঋণের পরিমাণও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত জুন মাস শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ এবং ডলারের বিনিময় হারের অস্থিরতার মধ্যে ঋণের এই উচ্চ হার অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝুঁকির বার্তা দিচ্ছে। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় ঘনিয়ে আসায় আগামী দিনগুলোতে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল ঋণের সংখ্যা বা পরিমাণ বাড়লেই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয় না, বরং সেই ঋণের ব্যবহার কতটা উৎপাদনশীল খাতে হচ্ছে, তা-ই মুখ্য। বর্তমানে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ থাকলেও তার সুফল পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়ছে। ঋণের টাকা যদি সঠিকভাবে উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় না হয়, তবে ভবিষ্যতে তা সুদসহ পরিশোধ করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

সরকার যদি বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় কেবল ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল থাকে, তবে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একইসঙ্গে বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকল্পগুলোর অর্থনৈতিক উপযোগিতা যাচাই-বাছাই করা এবং রাজস্ব আয় বাড়ানোর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

পরিশেষে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঋণের এই বোঝা সহনশীল পর্যায়ে রাখা। মাথাপিছু ঋণের দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছানোর এই প্রাক্কলন নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতের অর্থনীতির সুরক্ষায় ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

সর্বশেষ
সৌদি আরবে স্বাভাবিক বিমান চলাচল, ঢাকা-দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চালু খেলাধুলা জাতীয় ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করে: প্রধানমন্ত্রী চলতি অর্থবছর শেষে মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় গুণ যাকে বুক দেখায়, তাকে পিঠ দেখায় না — মির্জা ফয়সল প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টা: গ্রেফতার ছাত্রলীগ নেতা ইশরাকের পদত্যাগে মেয়র নির্বাচনের পথ কি সুগম হলো? এমআরইউ ও ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালের মধ্যে করপোরেট স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি ১৬০ রানে থেমে বিদায় বাংলাদেশের, ফাইনালে আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে মহাখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু ফেসবুক পেজ খুলে চাকরির নামে প্রতারণা, গ্রেফতার ২
Advertisement