খুঁজুন
, ,

আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার পরবর্তী ধাপের পথে যাত্রা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার পরবর্তী ধাপের পথে যাত্রা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর যে বর্বরতা ও নিপীড়ন চালানো হয়েছে, তা নিয়ে দায়ের করা গণহত্যা মামলার আইনি কার্যক্রম সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত। দীর্ঘ সময় ধরে চলা আইনি লড়াই এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের তোলা বিভিন্ন আপত্তি খতিয়ে দেখার পর আন্তর্জাতিক আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত ঘটনাটি গণহত্যার বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত হওয়ার মতো যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে।

ঘটনার শুরু থেকেই মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক আদালতের এক্তিয়ার এবং এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছিল। দেশটির সামরিক জান্তা বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক প্যানেল মিয়ানমারের সেসব আপত্তি ও যুক্তিকে আইনি মানদণ্ডে টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। আদালতের এদিনের রায়ের ফলে মামলাটি এখন মূল শুনানির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।

২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর সমন্বয়ে চালানো অভিযানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ হারান। জীবন বাঁচাতে প্রাণভয়ে প্রায় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এই ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হতে থাকে। গাম্বিয়ার মতো দেশগুলো গণহত্যার বিচারের দাবিতে সরব হয় এবং আন্তর্জাতিক আদালতে মামলাটি দায়ের করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য ছিল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার পুনরুদ্ধার করা।

আন্তর্জাতিক আদালতের এই আদেশকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মী এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিশেষজ্ঞরা একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, মিয়ানমার যে দাবিই করুক না কেন, গণহত্যা মামলার প্রতিটি উপাদান ও তথ্যের বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। মামলার কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন আনুষ্ঠানিক শুনানির মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের সুযোগ পাবে। মিয়ানমার সরকার বিভিন্ন সময় নিজেদের পক্ষে নানা প্রমাণ দাখিলের দাবি করলেও, আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেল আদালতের নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো আপস করতে রাজি হয়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আদালতের এই রায় মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ওপর বড় ধরনের কূটনৈতিক ও আইনি চাপ সৃষ্টি করবে। যদিও মিয়ানমারের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী শুরু থেকেই গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে, তবে আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায় তাদের সেই অবস্থানের আইনি দুর্বলতাকে উন্মোচিত করেছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে মিয়ানমারকে আরও শক্ত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, যেখানে তাদের প্রতিটি দাবি ও তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে।

এদিকে, এই মামলার কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং মিয়ানমারে তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। আদালতের নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে ভুক্তভোগী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাঝে ন্যায়বিচারের আশা কিছুটা হলেও জেগে উঠেছে। তবে মামলার চূড়ান্ত রায় আসতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে এবং এর প্রতিটি পর্যায়ে মিয়ানমার পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এখন বিশ্ববাসীর চোখ আন্তর্জাতিক আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে।

মাত্র ৫ টাকায় পূজার বাজার তবু অসহায় মানুষের চোখে আনন্দের অশ্রু

মোঃ সুজন আলী
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
   
মাত্র ৫ টাকায় পূজার বাজার তবু অসহায় মানুষের চোখে আনন্দের অশ্রু

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: উৎসবের আনন্দ সবার জন্য হলেও সামর্থ্যহীন মানুষের জীবনে তা অনেক সময়ই থেকে যায় অধরা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খেতে হয় নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে, সেখানে শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দ যেন তাদের কাছে বিলাসিতা। এমন বাস্তবতায় মাত্র পাঁচ টাকার বিনিময়ে পূজার বাজার হাতে পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের দুই শতাধিক অসহায় ও নিম্নআয়ের হিন্দু পরিবারের সদস্যদের।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সহায়’-এর উদ্যোগে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন করা হয়। মাত্র পাঁচ টাকায় পাঁচ ধরনের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার সুযোগ পান সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো।

আয়োজনে প্রতিটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি করে টোকেনের মাধ্যমে পাঁচ টাকার বিনিময়ে পাঁচটি পণ্য পোলার চাল, চিনি, তেল, নারকেল ও একটি মুরগি। নামমাত্র মূল্যে এসব পণ্য পেয়ে অনেকের কাছে এবারের পূজার প্রস্তুতি হয়ে উঠেছে কিছুটা সহজ, আর উৎসবের আনন্দ পেয়েছে নতুন মাত্রা।

আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সহায় সংগঠনের উপদেষ্টা মো. কাজল রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. সাগর, সায়মুনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও অতিথিরা।

বাজার হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত রমেশ বলেন, পাঁচ টাকায় এতগুলো বাজার পাব, কখনো চিন্তা করিনি। যারা এমন আয়োজন করেছেন, তাঁদের অনেক ধন্যবাদ। এই বাজার দিয়ে আমরা এবারের পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারব।

রমেশের এই কথায় ফুটে ওঠে সীমিত সামর্থ্যের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা আর সামান্য সহায়তায় আনন্দ খুঁজে পাওয়ার গল্প। যে উৎসবের বাজার অনেক পরিবারের কাছে বড় আর্থিক চাপ, সেই বাজারই পাঁচ টাকায় হাতে পেয়ে তাঁর মতো মানুষের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি।

এ আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য কেবল আলোকসজ্জা, নতুন পোশাক কিংবা ভোজের আয়োজনে নয়; বরং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই নিহিত। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে উৎসবের আনন্দ আরও বেশি মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

তাঁরা মনে করেন, সমাজের প্রতিটি মানুষের উচিত আশপাশের অসহায় পরিবারগুলোর খোঁজখবর রাখা। কারও সামর্থ্য বেশি, কারও কম কিন্তু আন্তরিকতা থাকলে সামান্য সহযোগিতাও একটি পরিবারের উৎসবের আনন্দ ফিরিয়ে দিতে পারে। সম্মিলিত মানবিক উদ্যোগেই গড়ে উঠতে পারে বৈষম্যহীন, সহমর্মী ও সুন্দর সমাজ।

সহায় সংগঠনের উপদেষ্টা কাজল রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাগরও এ উদ্যোগের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা তুলে ধরেন।

কাজল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের এই আয়োজন সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রেখে গেছে উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। একদিকে যখন অনেক পরিবার পূজার কেনাকাটায় সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতায় পড়ে, অন্যদিকে তখন সামান্য উদ্যোগও তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সাগর বলেন, পাঁচ টাকার বিনিময়ে পাঁচটি পণ্য পাওয়ার এই আয়োজন কেবল বাজার বিতরণের ঘটনা নয়  এটি অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এমন উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়ুক পাড়া-মহল্লা থেকে গ্রাম, গ্রাম থেকে শহরে। সামর্থ্যবানরা এগিয়ে এলে কোনো পরিবারকেই যেন উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকতে না হয়। আমরা প্রত্যেক বছর এই আয়োজন করে থাকি।

রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট: নীরব দর্শক হওয়া যায় না

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
   
রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট: নীরব দর্শক হওয়া যায় না

বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবার মান, টিকিট কালোবাজারি এবং যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে হাইকোর্ট। সম্প্রতি এক শুনানিকালে আদালত বাংলাদেশ রেলওয়ের এমন অব্যবস্থাপনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে অভিহিত করেছে। আদালত স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, রেল কর্তৃপক্ষ এই অনিয়ম দেখেও নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। মূলত ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহন এবং টিকিট কালোবাজারি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আদালত।

দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে রেলওয়ে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই রেলের যাত্রীসেবা এবং টিকিট ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ তুঙ্গে। ট্রেনের ছাদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি নতুন নয়, কিন্তু বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও এটি বন্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হাইকোর্ট এদিন শুনানিতে প্রশ্ন তোলে, কীভাবে ট্রেনের ছাদে মানুষ চড়ে যাতায়াত করে এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই দৃশ্য দেখার পরেও কেন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে না? আদালতের মতে, এটি কেবল অবহেলা নয়, বরং দায়িত্বহীনতার চরম নিদর্শন।

টিকিট কালোবাজারি রেলওয়ের আরেকটি বড় সংকট। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, অনলাইনে কিংবা স্টেশনের কাউন্টারে টিকিট পাওয়া দুষ্কর, অথচ অতিরিক্ত মূল্যে তা সহজেই মিলছে কালোবাজারে। এর পেছনে রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। হাইকোর্ট এই টিকিট সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং যাত্রীদের হয়রানি কমাতে কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা রেল কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব, যা কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, যাত্রী সাধারণের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ। ট্রেনের ছাদে যাত্রী পরিবহন কেবল আইনবিরোধীই নয়, এটি অত্যন্ত বিপজ্জনকও বটে। সামান্য ভুলের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। এমন অবস্থায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা অগ্রহণযোগ্য। হাইকোর্ট রেলওয়েকে অবিলম্বে এমন অনিয়ম বন্ধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে।

শুনানিকালে আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, রেলওয়ে একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এই সংস্থায় সেবার মান নিশ্চিত করা ও দুর্নীতিমুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বারবার একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে, কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক তদারকির অভাব রয়েছে। ভবিষ্যতে রেলওয়েকে তাদের সেবার মানোন্নয়নে এবং সকল প্রকার টিকিট জালিয়াতি রোধে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে বলেও আদালত মত প্রকাশ করেছে।

পরিশেষে, রেলওয়ের এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে হাইকোর্টের এই মন্তব্য সাধারণ যাত্রী ও সচেতন মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। আশা করা হচ্ছে, আদালতের এই নির্দেশনার ফলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে যাত্রীদের নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা প্রদানে আরও তৎপর হবে। দুর্নীতি ও অনিয়ম নির্মূলে দায়িত্বশীলরা যদি এখন থেকেই কঠোর অবস্থান না নেয়, তবে জনদুর্ভোগ কমানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নিপীড়ন: অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
   
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নিপীড়ন: অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় উত্তাল ক্যাম্পাস। পুলিশ ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সূত্র বলছে, অভিযুক্তরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৭ জুলাই রাতে ঘটে যাওয়া এই ন্যক্কারজনক ঘটনার রেশ ধরে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্র এবং ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ তথ্যে উঠে এসেছে যে, এই ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও যৌন নিপীড়নের যে অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্ত করতে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নাম বেরিয়ে আসছে। গোয়েন্দা তথ্যেও একই ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনার দিন রাতে ক্যাম্পাসের সংশ্লিষ্ট এলাকায় যারা সক্রিয় ছিল এবং ভুক্তভোগীর ওপর চড়াও হয়েছিল, তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্যাম্পাসে এই ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগ কর্মীদের নাম আসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক ও সচেতন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত, সেই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই রাতের ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বিচার চেয়েছেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার কিংবা তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের গতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, অপরাধী যেই হোক না কেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় ক্যাম্পাসে পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রাথমিকভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে বলে পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ যেন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পার না পেয়ে যায়, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি এখন থমথমে। ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা দোষীদের বিচার দাবিতে সরব রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিরা। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই স্পর্শকাতর ঘটনায় কতটা দ্রুততার সাথে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে সক্ষম হয়।

সর্বশেষ
মাত্র ৫ টাকায় পূজার বাজার তবু অসহায় মানুষের চোখে আনন্দের অশ্রু রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট: নীরব দর্শক হওয়া যায় না চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নিপীড়ন: অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা চবিতে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দুজনকে শনাক্তের দাবি আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার পরবর্তী ধাপের পথে যাত্রা দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের সুশৃঙ্খল সময়সূচী বাস্তবায়নে এক সপ্তাহের সময় চাইলেন নসরুল হামিদ কে২ জয় করে অনন্য ইতিহাস গড়লেন ওয়াসফিয়া নাজরিন লক্ষ্মীপুরে প্রবাসী দম্পতিকে জিম্মি ও মারধরের ঘটনায় কৃষক দল নেতা আটক শরীয়তপুরে আবাসিক হোটেল থেকে স্কুলশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার খুলনায় নদী পার করার প্রলোভনে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩
Advertisement