খুঁজুন
, ,

শরীয়তপুরে আবাসিক হোটেল থেকে স্কুলশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
শরীয়তপুরে আবাসিক হোটেল থেকে স্কুলশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা সদরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার একটি আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশার নামে এক স্কুলশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর একটার দিকে ভেদরগঞ্জ থানা সংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে নিথর দেহটি উদ্ধার করা হয়। এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবুল বাশার একজন স্কুলশিক্ষক ছিলেন। মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে তার পরিবারের কাছে একটি মুক্তিপণ দাবির বার্তা আসে। অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে শিক্ষকের রক্তাক্ত অবস্থার ছবি পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা দ্রুত প্রশাসনের দ্বারস্থ হন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর থেকে হোটেলটির ব্যবস্থাপক মামুন পলাতক রয়েছেন। হোটেল কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতা এবং ব্যবস্থাপকের পালিয়ে যাওয়া ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে শিক্ষক আবুল বাশারের এমন মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আত্মীয়স্বজনদের মাঝে। স্থানীয়রা দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। হোটেল সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য যে, অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের বিশেষ দল কাজ করছে। ঘটনার সময় হোটেলটিতে আর কারা অবস্থান করছিলেন এবং হোটেলের রেজিস্টার খাতায় কোনো অসঙ্গতি আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিক্ষক আবুল বাশার নিখোঁজ ছিলেন কিনা বা অপহরণের ঘটনার সাথে হোটেল কর্তৃপক্ষের কোনো যোগসাজশ আছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মামলার প্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেছেন যে, অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য সব জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার।

আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার পরবর্তী ধাপের পথে যাত্রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
   
আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার পরবর্তী ধাপের পথে যাত্রা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর যে বর্বরতা ও নিপীড়ন চালানো হয়েছে, তা নিয়ে দায়ের করা গণহত্যা মামলার আইনি কার্যক্রম সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত। দীর্ঘ সময় ধরে চলা আইনি লড়াই এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের তোলা বিভিন্ন আপত্তি খতিয়ে দেখার পর আন্তর্জাতিক আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত ঘটনাটি গণহত্যার বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত হওয়ার মতো যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে।

ঘটনার শুরু থেকেই মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক আদালতের এক্তিয়ার এবং এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছিল। দেশটির সামরিক জান্তা বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক প্যানেল মিয়ানমারের সেসব আপত্তি ও যুক্তিকে আইনি মানদণ্ডে টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। আদালতের এদিনের রায়ের ফলে মামলাটি এখন মূল শুনানির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।

২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর সমন্বয়ে চালানো অভিযানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ হারান। জীবন বাঁচাতে প্রাণভয়ে প্রায় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এই ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হতে থাকে। গাম্বিয়ার মতো দেশগুলো গণহত্যার বিচারের দাবিতে সরব হয় এবং আন্তর্জাতিক আদালতে মামলাটি দায়ের করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য ছিল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার পুনরুদ্ধার করা।

আন্তর্জাতিক আদালতের এই আদেশকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মী এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিশেষজ্ঞরা একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, মিয়ানমার যে দাবিই করুক না কেন, গণহত্যা মামলার প্রতিটি উপাদান ও তথ্যের বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। মামলার কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন আনুষ্ঠানিক শুনানির মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের সুযোগ পাবে। মিয়ানমার সরকার বিভিন্ন সময় নিজেদের পক্ষে নানা প্রমাণ দাখিলের দাবি করলেও, আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেল আদালতের নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো আপস করতে রাজি হয়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আদালতের এই রায় মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ওপর বড় ধরনের কূটনৈতিক ও আইনি চাপ সৃষ্টি করবে। যদিও মিয়ানমারের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী শুরু থেকেই গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে, তবে আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায় তাদের সেই অবস্থানের আইনি দুর্বলতাকে উন্মোচিত করেছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে মিয়ানমারকে আরও শক্ত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, যেখানে তাদের প্রতিটি দাবি ও তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে।

এদিকে, এই মামলার কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং মিয়ানমারে তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। আদালতের নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে ভুক্তভোগী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাঝে ন্যায়বিচারের আশা কিছুটা হলেও জেগে উঠেছে। তবে মামলার চূড়ান্ত রায় আসতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে এবং এর প্রতিটি পর্যায়ে মিয়ানমার পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এখন বিশ্ববাসীর চোখ আন্তর্জাতিক আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে।

দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের সুশৃঙ্খল সময়সূচী বাস্তবায়নে এক সপ্তাহের সময় চাইলেন নসরুল হামিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
   
দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের সুশৃঙ্খল সময়সূচী বাস্তবায়নে এক সপ্তাহের সময় চাইলেন নসরুল হামিদ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশব্যাপী যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। বিশেষ করে সারা দেশে যেভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিংয়ের সময়সূচী মানার কথা ছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে স্বীকার করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসতে আরও এক সপ্তাহের সময় প্রয়োজন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল যে, ঘোষিত সময়সূচী অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎহীন থাকার ফলে দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, তা নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে যে জ্বালানি সংকট বিশ্ববাজারে রয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতেও পড়েছে। এর ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ স্পষ্ট করে বলেন যে, সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তবে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে বরং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করাটাই এখন বড় অগ্রাধিকার। তিনি জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান সীমাবদ্ধতাগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে এবং এর পরেই একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সময়সূচী ঘোষণা করা হবে, যা দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমানভাবে পালনের চেষ্টা করা হবে।

বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি তেল ও কয়লা সরবরাহে বৈশ্বিক অস্থিরতা সরাসরি দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ও সক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ এখন চেষ্টা করছে যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা যায়। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আগামী সাত দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির একটি যৌক্তিক এবং স্থিতিশীল রূপরেখা জনগণের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছে মন্ত্রণালয়। সরকারি ও বেসরকারি অফিসে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে আগেই। এছাড়া শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও পৃথক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী এক সপ্তাহের কঠোর পর্যবেক্ষণ ও পরিকল্পনার পর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান অসামঞ্জস্যতাগুলো অনেকটাই দূর করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির দ্রুত কোনো উন্নতি না হওয়ায় দেশের ভেতরে লোডশেডিংয়ের এই সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের এই সময় চাওয়ার বিষয়টি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রণালয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কতটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়।

কে২ জয় করে অনন্য ইতিহাস গড়লেন ওয়াসফিয়া নাজরিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
কে২ জয় করে অনন্য ইতিহাস গড়লেন ওয়াসফিয়া নাজরিন

বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কে২ জয় করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলেন বাংলাদেশি পর্বতারোহী ওয়াসফিয়া নাজরিন। পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালায় অবস্থিত এই শৃঙ্গটি পর্বতারোহীদের কাছে অত্যন্ত দুর্গম ও বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত। সেই দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে চূড়ায় আরোহণের মাধ্যমে ওয়াসফিয়া প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এক বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলেন। তার এই সাফল্য দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ও পর্বতারোহণের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পাকিস্তান ও চীনের সীমান্তে অবস্থিত এই পর্বতশৃঙ্গটি উচ্চতার দিক থেকে মাউন্ট এভারেস্টের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তবে পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে এর গঠনগত জটিলতা, খাড়া ঢাল এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এটি আরোহণের জন্য মাউন্ট এভারেস্টের চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে গণ্য করা হয়। বিশ্বের নামিদামি পর্বতারোহীদের কাছেও কে২ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই ওয়াসফিয়া সাফল্যের শিখরে পৌঁছালেন।

ওয়াসফিয়ার এই অর্জন কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের জন্য গৌরবের। এর আগে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গগুলো জয় করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছেন এবং সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো পৃথিবীর অন্যতম কঠিন এই শৃঙ্গ জয়ের গৌরব। তার এই যাত্রাপথ অত্যন্ত ধৈর্য এবং সাহসিকতার পরিচয় বহন করে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রশিক্ষণ এবং মানসিক প্রস্তুতির পরই তিনি এই অভিযানে নামেন এবং অবশেষে সফলতার মুখ দেখেন।

এই পর্বতশৃঙ্গ জয়ের পথে তিনি প্রতিকূল আবহাওয়া এবং শারীরিক ধকলের মুখোমুখি হয়েছেন। কে২ শৃঙ্গটি সাধারণত বছরের খুব কম সময় আরোহণের উপযোগী থাকে, যেখানে অক্সিজেন স্বল্পতা এবং হিমাঙ্কের অনেক নিচে তাপমাত্রা বিরাজ করে। এমন পরিস্থিতি কাটিয়ে চূড়ায় ওঠা যেকোনো পর্বতারোহীর জন্যই পরম সাহসের প্রতীক। তার এই জয়ের সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে খুশির আমেজ বয়ে যাচ্ছে এবং তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ ও শুভানুধ্যায়ীরা।

ওয়াসফিয়ার এই সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রশংসিত হচ্ছে তার এই কীর্তি। পর্বতারোহণের জগতে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করার মাধ্যমে তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন। যারা অ্যাডভেঞ্চার এবং পর্বতারোহণে আগ্রহী, তাদের জন্য ওয়াসফিয়ার এই দৃঢ় সংকল্প ও সাফল্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, শৃঙ্গ জয়ের পরবর্তী কার্যক্রম ও নিচে নেমে আসার প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করার পর তিনি নিরাপদে ফিরে আসবেন। তার এই সাহসী অভিযানে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছা শক্তির প্রতিফলন ঘটেছে। এর আগে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি যেভাবে একের পর এক শৃঙ্গ জয় করেছেন, কে২ জয়ের মাধ্যমে সেই সাফল্যের ধারাই অব্যাহত থাকল। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পর্বতারোহণের ইতিহাসে ওয়াসফিয়া নাজরিনের এই অর্জনের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

সর্বশেষ
আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার পরবর্তী ধাপের পথে যাত্রা দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের সুশৃঙ্খল সময়সূচী বাস্তবায়নে এক সপ্তাহের সময় চাইলেন নসরুল হামিদ কে২ জয় করে অনন্য ইতিহাস গড়লেন ওয়াসফিয়া নাজরিন লক্ষ্মীপুরে প্রবাসী দম্পতিকে জিম্মি ও মারধরের ঘটনায় কৃষক দল নেতা আটক শরীয়তপুরে আবাসিক হোটেল থেকে স্কুলশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার খুলনায় নদী পার করার প্রলোভনে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩ বাংলাদেশি রোগীদের জাপানে চিকিৎসার সুযোগ সহজ করতে সমঝোতা দেশে ধর্মের নামে যেন কোনো বিভেদ না থাকে: প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় নির্বাচনে গ্রহণযোগ্য ও বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাময় প্রার্থী বাছাইয়ের আহ্বান তারেক রহমানের ৩৪ বছরে পদার্পণ করলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
Advertisement