খুঁজুন
, ,

কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে আভিজাত্যের প্রতীক ল্যান্ডফোন

রিপন কান্তি গুণঃ নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৫, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে আভিজাত্যের প্রতীক ল্যান্ডফোন

একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে কারও বাড়িতে ল্যান্ডফোন (টিঅ্যান্ডটি) লাইন থাকাটা আভিজাত্যের প্রতীক হিসাবে গণ্য ছিল। আর উপজেলা পর্যায়ে কারও বাড়িতে ল্যান্ডফোন থাকলে তো কোন কথাই নেই তার বাড়ির মূল্যায়নই আলাদা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় মোবাইল প্রযুক্তির প্রভাবে সেই আভিজাত্য এখন শুধুই অতীত।

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী পাপিয়া সারোয়ারের গাওয়া- ‘নাই টেলিফোন, নাইরে পিয়ন, নাইরে টেলিগ্রাম, বন্ধুর কাছে মনের খবর কেমনে পৌঁছাইতাম’ গানটির অর্থ বর্তমান প্রজন্ম খুঁজে না পেলেও ৯০ দশকের  মানুষের মনে আজও দোলা দেয় এ গানের সুর। বর্তমান ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সহজ যোগাযোগ বিশ্বকে হাতের মুঠোয় পেয়ে আগেকার দিনের (টিএন্ডটি) টেলিফোনের গুরুত্ব অনেকেই ভুলে গেছেন। ফলে অনেক আগেই কিছু সংখ্যক সরকারি অফিস ছাড়া সব বাসাবাড়ির অব্যবহৃত টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। একসময়ে যোগাযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সেটের জায়গা এখন স্টোর রুমের বস্তায় অথবা ভাঙারির দোকানে। তবে সারা বাংলাদেশের জেলা, উপজেলা পর্যায়ের কয়েকটি সরকারি অফিসে এখনও টেলিফোন লাইনের সংযোগ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা ব্যবহার করা হয় না। বর্তমান ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোনের দাপটে ল্যান্ডফোনের অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, বাসায় ল্যান্ডফোন রাখাটা এখন অনেকে উটকো ঝামেলা বলে মনে করেন।

জেলা সদরের সাতপাই এলাকার বাসিন্দা বিধান রায় বলেন, ১৯৯৮ সালের দিকে বাসায় ল্যান্ডফোনের (টিএন্ডটি) সংযোগ নিয়েছিলাম। তখন কারও সাথে কথা বলার জন্য উপজেলা টিঅ্যান্ডটি অফিসের নাম্বারে কল দিয়ে অপারেটরের কাছে কাঙ্ক্ষিত নাম্বারটি দিয়ে কথা বলার জন্য অপেক্ষায় থাকতাম, সংযোগ স্থাপনের পর কথা বলতাম। সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণাদায়ক ছিল মাসের বেশিরভাগ সময়েই লাইন নষ্ট থাকা। অভিযোগ দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে যেতাম। অনেক তদবিরের পর ঠিক করলেও ক’দিন পর ফের নষ্ট। দিনের পর দিন এভাবেই চলতো গ্রাহকদের ল্যান্ডলাইন (টিএন্ডটি) সেবা। বর্তমান ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোন ব্যবহারে বাসার সেই ল্যান্ডফোনটি এখন ধুলোর আস্তরে ঢাকা পড়ে আছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক জানান, বর্তমানে ব্যাংকেও ল্যান্ডফোনের ব্যবহার একেবারেই কমে গেছে। বছর পনেরো আগেও ল্যান্ডফোনের ওপর নির্ভরশীলতা ছিল সবারই। কিন্তু এখন ডিজিটাল যুগে মোবাইলেই যাবতীয় যোগাযোগ হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিটি ব্যাংকে এখন মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়ার কারণে গ্রাহকের সঙ্গে সেভাবেই সমন্বয় করছে। তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে প্রধান শাখার কর্মকর্তাদের যোগাযোগও মোবাইল ফোনেই হচ্ছে।

জিসানুল হাসান নামের এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, অফিসে ল্যান্ডফোন (টিঅ্যান্ডটি) লাইন থাকলেও সেটি এখন আর ব্যবহার হয় না। সহকর্মীদের কিংবা অফিসের অন্য কারও সঙ্গে আলাপ করতে মাঝে-মধ্যে ব্যবহার করি। এ ছাড়া সবসময়ই মোবাইল ফোনে কথা বলি। ল্যান্ডফোন এখন সম্পুর্ন অকেজোই বলা চলে।

দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি শ্যামলেন্দু পালের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, টেলিফোন একটি দূরভাষী বা দূরালাপনী যোগাযোগ মাধ্যম। তারের মাধ্যমে কয়েক গজ থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরের মানুষের সঙ্গে কথা বলার জন্য টেলিফোন ছিল এক অভিনব যন্ত্র। বর্তমানে এর অনেক উন্নতি হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত হচ্ছে। অথচ একসময়ে সহজ যোগাযোগের ক্ষেত্রে টেলিফোনই ছিল একমাত্র মাধ্যম। বর্তমান আধুনিক যুগে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়ায় মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে বর্তমানে মোবাইল ফোন ব্যবহারেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আজকাল মোবাইল-ইন্টারনেটের কল্যাণে মানুষের শুধু কথা বলাই সহজ হয়নি, হয়েছে একে অপরকে ভিডিও কলের মাধ্যমে দেখার সুযোগও।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) ল্যান্ডফোনের কলরেট সর্বনিম্ন। এর পরও যত দিন যাচ্ছে, বিটিসিএলের এই ল্যান্ডফোন ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা তত বাড়ছে। এর নেপথ্যে সেলফোন প্রযুক্তির প্রভাব যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে বিটিসিএলের সেবার মান দিন দিন হ্রাস পাওয়া। বাধ্য হয়েই গ্রাহকরা ল্যান্ডফোন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

জেলা টিএন্ডটি অফিসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী হুমায়ুন কবির জানান, এক সময়ে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল ল্যান্ডফোন (টিএন্ডটি) কানেকশন। তখন সংযোগের ভীষণ চাহিদা ছিল। এলাকার প্রভাবশালী গ্রাহকেরা সংযোগ নিতে অফিসে ভীড় করতেন। তখনকার সময়ে (দুই গ্রাহকের মাঝে সংযোগ স্থাপন, নতুন সংযোগ দেওয়া, লাইন মেরামত) ইত্যাদি কাজে আমাদের স্টাফদের ব্যস্ততার মাঝে দিন কাটতো। এখন টিএন্ডটি অফিসের খোঁজ আর কেউ নেয় না, সবার হাতে হাতে এখন শুধুই মোবাইল ফোন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন ফোনকে শুধুমাত্র কথা বলার মাধ্যম হিসেবে দেখে না৷ এখন তারা এটাকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে দেখছে৷ এর ডাটা বা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রত্যন্ত গ্রামেও সমানভাবে পাওয়া যায়৷ আর এটা সম্ভব করেছে মোবাইল ফোন। এটা মানুষের অর্থনীতি, শিক্ষা, বিনোদনসহ জীবনের প্রায় সবদিকে ভূমিকা রাখছে৷

এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা সদরের পাড়া গড়মা গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার শ্যামল দে বলেন, আগে রেল স্টেশনের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল ল্যান্ডফোন (টিএন্ডটি) ফোন। তখনকার সময়ে অনেক চেষ্টার পর পূর্ববর্তী স্টেশন মাষ্টারের সাথে সংযোগ স্থাপন করে ট্রেনের অবস্থান সম্পর্কে জেনে ট্রেন আসার সিগন্যাল দিতাম। এখন মোবাইল যোগাযোগ ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে ট্রেনের অবস্থান সম্পর্কে খুব সহজে এবং তাড়াতাড়ি জানা যায়। সব স্টেশনেই টিএন্ডটি ফোন এখন অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।

পরিবারই সব: ক্যানসারজয়ী স্ত্রীর পাশে থেকে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পেলেন টিকনার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
   
পরিবারই সব: ক্যানসারজয়ী স্ত্রীর পাশে থেকে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পেলেন টিকনার

ক্রিকেট খেলোয়াড়দের জীবনে মাঠের সাফল্য, উইকেট শিকার কিংবা জয়ের আনন্দই প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে থাকে। কিন্তু ব্লেয়ার টিকনারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিউজিল্যান্ডের এই জাতীয় দলের পেসারের কাছে এখন ক্রিকেট মাঠের চেয়েও পরিবারের সুস্থতা ও সাহচর্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের এক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর তার দৃষ্টিভঙ্গিতে এসেছে আমূল পরিবর্তন। স্ত্রীর ক্যানসার জয়ের লড়াই তাকে শিখিয়েছে মাঠের ক্রিকেট কখনোই জীবনের পরম সত্যের চেয়ে বড় নয়।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে। সেই সময় ব্লেয়ার টিকনারের স্ত্রী সারার শরীরে বাসা বাঁধে মরণব্যাধি লিউকেমিয়া বা রক্তের ক্যানসার। প্রিয়তমা স্ত্রীর এমন অসুস্থতায় পুরো পরিবারে নেমে আসে কালো ছায়া। একজন অ্যাথলেট হিসেবে নিজের ক্যারিয়ারের ব্যস্ততা এবং পরিবারের সংকটের মাঝখানে পড়ে যাওয়া টিকনারের জন্য ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। টানা আট মাস ধরে চলে চিকিৎসার দীর্ঘ ও দুর্বিষহ অধ্যায়। প্রতিটি মুহূর্ত ছিল অনিশ্চয়তায় ঘেরা, যেখানে ক্রিকেট মাঠে বল হাতে ঝাঁপিয়ে পড়ার চেয়েও অনেক বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়েছে হাসপাতালের করিডোরে।

সেই কঠিন সময়ে টিকনার ক্রিকেটের প্রতি তার চিরাচরিত আবেগ ও দৃষ্টিভঙ্গি নতুন করে বিশ্লেষণ করেছেন। পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার সুবাদে তিনি সবসময়ই জয়ের নেশায় মত্ত থাকতেন। কিন্তু সারার অসুস্থতা তাকে বুঝিয়েছে, জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে মানুষের জীবন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা স্ত্রীর জন্য লড়াই করা এবং তাকে মানসিকভাবে সমর্থন দেওয়া ছিল যেকোনো ক্রিকেট ম্যাচে জয়ের চেয়েও মহৎ। অবশেষে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ২৪ তারিখে তাদের পরিবারে আসে পরম কাঙ্ক্ষিত সেই সুখবর। দীর্ঘ লড়াই শেষে সারা ক্যানসার জয় করেন। সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি টিকনারের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে টিকনার স্বীকার করেন যে, এই ঘটনা তার ভেতরে এক গভীর উপলব্ধির জন্ম দিয়েছে। তিনি এখন প্রতিটি মুহূর্তকে নতুন করে উপভোগ করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে কাটানো সময়কে সবচেয়ে মূল্যবান মনে করেন। মাঠের সাফল্য অবশ্যই তাকে আনন্দ দেয়, কিন্তু এখন আর কোনো কিছুই তাকে পরিবারের অখন্ডতা ও ভালোবাসার চেয়ে বেশি তাড়িত করে না। তার এই ব্যক্তিগত লড়াই শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, বরং অনেক ক্রীড়াবিদের জন্য একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ যে, খেলার বাইরেও জীবনের বড় এক জগত আছে, যার যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে তিনি তার স্ত্রীর সুস্থতাকে জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য করেন এবং নতুন উদ্যমে মাঠের ক্রিকেটেও মনোনিবেশ করছেন, তবে তার চিন্তা ও চেতনায় এখন পরিবারই অগ্রাধিকার পায়।

নড়াইলে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
নড়াইলে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মাদকাসক্ত ছেলের হাতে এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মাদক কেনার টাকা না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের বাবাকে ধারালো বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে ওই তরুণ। নিহত ব্যক্তির নাম আফসার শেখ, যার বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। তিনি উপজেলার বয়রা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এই নৃশংস ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ছেলে খায়রুল শেখ পলাতক রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বেলা একটার দিকে বাড়িতে ডাব কাটার কথা বলে রান্নাঘর থেকে বঁটি সংগ্রহ করে খায়রুল। এরপর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে তার বাবাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। ঘটনার আকস্মিকতায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা স্তব্ধ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরেই মাদক কেনার টাকার জন্য বাবার ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছিল খায়রুল। ঘটনার দিনও টাকা চাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টাকা না দেওয়ার আক্রোশ থেকেই সে বাবাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, আফসার শেখ একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন, অথচ এমন নির্মম পরিণতি তাকে মেনে নিতে হচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং লাশের প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করে। এরপর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ঘাতক ছেলে খায়রুল শেখ এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। তাকে খুঁজে বের করতে এবং আইনের আওতায় আনতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত আফসার শেখের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম এবং ছেলের স্ত্রী জুঁই খানমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাটি তদন্তের স্বার্থে এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেছে। পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং মামলার প্রেক্ষিতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদকের ভয়াবহ ছোবল যে একটি পরিবারের সুখশান্তি ও জীবন কেড়ে নিতে পারে, এই ঘটনাটি আবারও তার একটি করুণ দৃষ্টান্ত হয়ে রইল। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে অভিযুক্ত খায়রুলকে দ্রুত গ্রেফতারের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ আশাবাদী। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ এলাকায় টহল জোরদার রেখেছে এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। নিহতের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বয়রা গ্রামের পরিবেশ। স্থানীয়দের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করতে হবে যেন ভবিষ্যতে আর কোনো বাবা-মা এমন পরিণতি ভোগ না করেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য গোপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে প্রকৃত অপরাধী কোনোভাবেই পার না পায়।

সাইবার যুদ্ধে কিম জং উনের গোপন অস্ত্র ও বাইন্যান্স হ্যাকের নেপথ্য কাহিনী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
সাইবার যুদ্ধে কিম জং উনের গোপন অস্ত্র ও বাইন্যান্স হ্যাকের নেপথ্য কাহিনী

সাইবার জগতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা লঙ্ঘনের ঘটনা বর্তমান সময়ে একটি বড় বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময়ের প্ল্যাটফর্মগুলোতে যেভাবে বড় ধরনের হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন তথ্যে জানা গেছে, উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব তথা কিম জং উনের প্রত্যক্ষ মদদে গড়ে ওঠা এক বিশেষ হ্যাকার বাহিনী এসব অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িত। বাইন্যান্সের মতো বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে ৬৩০ কোটি ডলারের যে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে, তার নেপথ্যে এই উত্তর কোরীয় সাইবার যোদ্ধাদের সুপরিকল্পিত অভিযানের তথ্য বেরিয়ে আসছে।

বিশ্লেষক এবং দেশত্যাগী বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি সুসংগঠিত সাইবার কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো দক্ষ সাইবার যোদ্ধা তৈরি করা, যারা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে বা অর্থাগমের প্রয়োজনে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হ্যাকিং পরিচালনা করবে। এই হ্যাকারদের উৎসাহিত করার জন্য পিয়ংইয়ং সরকার নানা ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রণোদনার ব্যবস্থা রেখেছে। জানা গেছে, সফল অভিযান শেষে ফিরে আসা হ্যাকারদের রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের অভিজাত এলাকায় প্রশস্ত অ্যাপার্টমেন্ট প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রাও উপহার হিসেবে দেওয়া হয়, যা উত্তর কোরিয়ার মতো একটি কঠোর নিয়ন্ত্রিত দেশে একজন নাগরিকের জন্য বড় ধরনের প্রাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

এই হ্যাকার বাহিনী গড়ে তোলার পদ্ধতিটিও বেশ অভিনব এবং কঠোর। দেশটির শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করাই এই প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপ। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অন্তত ২০০ জন অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হয়, যাদের শৈশব থেকেই বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসা হয়। গণিত, কোডিং এবং সাইবার নিরাপত্তার জটিল বিষয়গুলোতে তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়। এই দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে তারা হয়ে ওঠে উত্তর কোরিয়ার সাইবার যুদ্ধের এক একটি গোপন অস্ত্র।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিম জং উনের শাসনামলে এই হ্যাকারদের গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়া যখন অর্থনৈতিকভাবে চাপের মুখে পড়ে, তখন এই ডিজিটাল চুরির মাধ্যমেই দেশটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে। ডিজিটাল মুদ্রার বাজারে যে ধরনের নিরাপত্তা দুর্বলতা রয়েছে, তাকে পুঁজি করেই তারা একের পর এক বড় ধরনের সাইবার হামলা পরিচালনা করছে। বাইন্যান্সের মতো প্লাটফর্মে ৬৩০ কোটি ডলারের ওই হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি বিশাল কর্মকাণ্ডের অংশ মাত্র।

উত্তর কোরিয়ার এই কৌশলগত সাইবার অভিযানের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তবে এই হ্যাকারদের নেটওয়ার্ক অত্যন্ত জটিল এবং গোপনীয়তার আবরণে ঢাকা থাকায় তাদের শনাক্ত করা বা দমানো দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সাইবার হামলা মোকাবিলায় ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। একইসাথে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত এই হ্যাকিং কার্যক্রম বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

সর্বশেষ
পরিবারই সব: ক্যানসারজয়ী স্ত্রীর পাশে থেকে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পেলেন টিকনার নড়াইলে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ সাইবার যুদ্ধে কিম জং উনের গোপন অস্ত্র ও বাইন্যান্স হ্যাকের নেপথ্য কাহিনী রামায়ণে সূর্পণখা চরিত্রে অভিনয় নিয়ে মুখ খুললেন রাকুল প্রীত সিং বিএনপি দেশে আবারও ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি ফিরিয়ে এনেছে: ডা. শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারে ব্যবহারের উপযোগী ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ইরানকে সরবরাহ করবে রাশিয়া মাধবপুরে জাতীয় গ্রিডের পাইপলাইন ছিদ্র করে তেল চুরির ঘটনায় মামলা পোশাক শিল্পের অস্থিরতা ও জাতীয় অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব অভিনয়ে ২৮ বছর: নতুন পথে ‘জাতীয় ফুপু’ দীপা খন্দকার পরিবেশবান্ধব রাসায়নিক উৎপাদনে যুগান্তকারী পদ্ধতি উদ্ভাবন চীনা বিজ্ঞানীদের