খুঁজুন
, ,

দুবাই থেকে স্বর্ণ পাচার: দুই চীনা নাগরিককে কারাগারে পাঠালেন আদালত

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
দুবাই থেকে স্বর্ণ পাচার: দুই চীনা নাগরিককে কারাগারে পাঠালেন আদালত

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের পেস্ট বহনের দায়ে আটক দুই চীনা নাগরিককে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করা হয়েছিল। আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দেন। আটককৃত ব্যক্তিদের নাম চেন লিউন এবং মো শিয়াওইউ বলে জানা গেছে। বিমানবন্দর কাস্টমস ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছিল।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে দুবাই থেকে বিমানযোগে ঢাকায় অবতরণ করেন এই দুই বিদেশি নাগরিক। তাদের চলাফেরা ও আচরণের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি ছিল। কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে তাদের অন্তর্বাসে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মোট ১২ কেজি ওজনের স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার করেন। এটি পাচারের একটি অভিনব কৌশল বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পর গত সপ্তাহে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিল। বিচারিক আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে তাদের সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। রিমান্ড চলাকালীন সময়ে তাদের কাছ থেকে পাচার সংক্রান্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়েছেন তদন্তকারীরা। আজ বৃহস্পতিবার রিমান্ডের মেয়াদ শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের পুনরায় আদালতে হাজির করেন। এ সময় মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়। বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে দুই অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের পেস্ট তারা কোনো একটি সিন্ডিকেটের সহায়তায় পাচারের পরিকল্পনা করেছিল। উদ্ধার হওয়া এই পেস্ট থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পাওয়া সম্ভব। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তারা তদন্তকারীদের কাছে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা ও পাচার চক্রের বিষয়ে প্রাথমিক কিছু তথ্য দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এখন খতিয়ে দেখছে যে, এর পেছনে আর কারা জড়িত এবং তারা এর আগেও এই ধরনের কোনো অপকর্ম করেছে কি না। বিমানবন্দর কেন্দ্রিক কঠোর নজরদারির মধ্যেও এমন ঘটনা ঘটার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার ধারাবাহিক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হবে। বর্তমানে তারা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

দীর্ঘ ২৩ বছর পর পরিবর্তন লক্ষ্মীপুর জামায়াতের নেতৃত্বে, নতুন আমির এ আর হাফিজ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৮ পূর্বাহ্ণ
   
দীর্ঘ ২৩ বছর পর পরিবর্তন লক্ষ্মীপুর জামায়াতের নেতৃত্বে, নতুন আমির এ আর হাফিজ উল্লাহ

দীর্ঘ ২৩ বছর পর লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। জেলা শাখার আমির পদে নতুন মুখ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন এ আর হাফিজ উল্লাহ। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যে নেতৃত্বের অধীনে লক্ষ্মীপুরে দলটির কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছিল, সেখানে এই রদবদল রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত বুধবার রাতে দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তৃণমূল থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে এই পরিবর্তন নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।

এ আর হাফিজ উল্লাহ তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হলেও গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছিলেন। সেই নির্বাচনে তিনি লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) নির্বাচনী আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় তার একটি মন্তব্য দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছিল। তিনি জনসমাবেশে বলেছিলেন যে, ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত অবধারিত’। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তখন রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয় এবং অনেকেই ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহারের এই প্রবণতাকে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছিলেন। সেই বিতর্কিত অধ্যায় পার করার পর এবার জেলা আমির হিসেবে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি আবারও তাকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের মতো সুশৃঙ্খল এবং ক্যাডারভিত্তিক সংগঠনে দীর্ঘ দুই যুগের নেতৃত্বের পরিবর্তন একটি বড় সাংগঠনিক মাইলফলক। সাধারণত এমন রদবদল দলের অভ্যন্তরীণ কৌশল এবং আগামী নির্বাচনের পরিকল্পনাকে মাথায় রেখেই নেওয়া হয়ে থাকে। লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর নিজস্ব ভোট ব্যাংক ও শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরনো নেতৃত্ব থেকে সরে এসে নতুন নেতৃত্বকে দায়িত্ব দেওয়ার অর্থ হলো, আগামী দিনে দলটি তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে হয়তো ভিন্ন কোনো কৌশলের আশ্রয় নিতে যাচ্ছে। হাফিজ উল্লাহর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলের পুরনো ও নতুন নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা এবং লক্ষ্মীপুরের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

দীর্ঘ ২৩ বছরের নেতৃত্বের যে ধারাবাহিকতা ছিল, তা ভেঙে নতুন আমির দায়িত্ব নেওয়ায় সংগঠনের ভেতরেও এক ধরণের কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, হাফিজ উল্লাহর এই দায়িত্ব গ্রহণ দলের অভ্যন্তরে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে। তবে গত নির্বাচনের সময় তার বিতর্কিত মন্তব্যটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের জন্য ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে কি না, সেটি নিয়েও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। জামায়াতের মতো আদর্শিক একটি দলের জেলা আমিরের দায়িত্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাকে কেবল দলীয় কর্মকাণ্ডই নয়, বরং স্থানীয় জনমত ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সাথেও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হবে।

ভবিষ্যতের রাজনীতির মাঠে হাফিজ উল্লাহ কতটুকু দক্ষতার সাথে দলকে এগিয়ে নিতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে এটা স্পষ্ট যে, নতুন নেতৃত্বের হাতে জামায়াতে ইসলামীর জেলা ইউনিটটি এখন নতুন কোনো লক্ষ্যের দিকে এগোতে চাচ্ছে। নির্বাচনকালীন সেই বিতর্কিত বক্তব্য এবং বর্তমানের জেলা আমিরের দায়িত্ব—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে তিনি কীভাবে নিজের রাজনৈতিক ইমেজ গড়ে তোলেন এবং দলকে সংগঠিত করেন, তা স্থানীয় সচেতন মহলের নজর কেড়েছে। লক্ষ্মীপুরের রাজনীতির সমীকরণে এই পরিবর্তন আগামী দিনগুলোতে কী প্রভাব ফেলে, তা পর্যবেক্ষণ করাই এখন সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।

কপ-৩১ সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নে অনুদানের ওপর জোর দেবে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ
   
কপ-৩১ সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নে অনুদানের ওপর জোর দেবে বাংলাদেশ

আসন্ন কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে সরকার এবার বিশেষ কৌশল অবলম্বন করছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হবে জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে অনুদানের প্রবাহ বাড়ানো।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সামনের সারিতে থাকলেও, আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে নানামুখী প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, জলবায়ুজনিত অভিযোজন এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে যে অর্থায়ন প্রয়োজন, তা যেন কোনোভাবেই ঋণ হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া না হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, জলবায়ু তহবিলের নামে প্রদত্ত সহায়তা ঋণের জালে আটকে পড়ে, যা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর বাড়তি বোঝা সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ এই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে অনুদানভিত্তিক অর্থায়নকে প্রাধান্য দেওয়ার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছে।

জলবায়ু অর্থায়নের বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে যে, তহবিলের আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জোর দিয়ে বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও উন্নত দেশগুলোর উচিত এই জটিলতা নিরসন করা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এবারের সম্মেলনে দাবি জানানো হবে যেন জলবায়ু তহবিলের আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা হয়, যাতে সময়মতো অর্থায়ন পাওয়া সম্ভব হয়। সঠিক সময়ে আর্থিক সহায়তা না পেলে অভিযোজন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ যে পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তার তুলনায় আন্তর্জাতিক সহায়তা অপ্রতুল। এই বৈষম্য দূর করতে এবং জলবায়ু সুবিচারের দাবিতে বাংলাদেশ এবার অত্যন্ত সোচ্চার থাকবে।

এছাড়া, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়নে যে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন, তা কেবল অনুদানের মাধ্যমেই সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব বলে সরকার মনে করছে। উন্নত বিশ্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জলবায়ু অর্থায়নের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ কপ-৩১ সম্মেলনে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাবে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ফোরামে দেশের স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কেবল অঙ্গীকার নয়, বরং কার্যকর ও স্বচ্ছ আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারের এই উদ্যোগ দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে মধ্যরাতে সড়কে হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে মধ্যরাতে সড়কে হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা

রাজধানীর অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সে, যা আগে হোম ইকোনমিকস কলেজ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে গভীর রাতে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন্নেছার পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর দিবাগত রাত পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এই অসন্তোষ এক পর্যায়ে অধ্যক্ষের পদত্যাগের একক দাবিতে রূপ নেয়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা কলেজের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে শুরু করেন। এ সময় তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ও শ্লোগানে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা এবং ক্যাম্পাসে পুলিশি উপস্থিতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ পায়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তারা সন্দিহান। বিশেষ করে অধ্যক্ষের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মতামতের গুরুত্ব না দেওয়া এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পেছনে প্রশাসনিক ব্যর্থতা দায়ী বলে তারা মনে করছেন।

মধ্যরাতে রাজপথের এই আন্দোলনে যান চলাচল ও জনজীবনে কিছুটা প্রভাব পড়ে। স্থানীয়রা জানান, কলেজের প্রধান গেটের সামনে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অবস্থান নিতে দেখে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনরত ছাত্রীদের দাবি, যৌক্তিক দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পুলিশের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের তীব্রতা কিছুটা ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া না গেলেও, ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির বিষয়ে অটল রয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র অধ্যক্ষের পরিবর্তনই নয়, ক্যাম্পাসের সার্বিক প্রশাসনিক কাঠামোয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তারা দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার চান। বর্তমানে কলেজের সামনে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও থমথমে ভাব বজায় রয়েছে। ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক করতে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনাটি এখন শিক্ষার্থীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস পাওয়া যায় কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর রয়েছে।

সর্বশেষ
দীর্ঘ ২৩ বছর পর পরিবর্তন লক্ষ্মীপুর জামায়াতের নেতৃত্বে, নতুন আমির এ আর হাফিজ উল্লাহ কপ-৩১ সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নে অনুদানের ওপর জোর দেবে বাংলাদেশ অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে মধ্যরাতে সড়কে হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায়: মাহদী আমিন অসুস্থ মাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ছেলের জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: দুর্যোগে শিক্ষার অধিকার হারাচ্ছে দেশের ৪৯ শতাংশ শিশু দুবাই থেকে স্বর্ণ পাচার: দুই চীনা নাগরিককে কারাগারে পাঠালেন আদালত প্রশাসনিক রদবদলেও কেন ফিরছে না স্থিতিশীলতা? টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সাথে গোলাগুলি: সেনাবাহিনীর সদস্য নিহত শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি