আসন্ন কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে সরকার এবার বিশেষ কৌশল অবলম্বন করছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হবে জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে অনুদানের প্রবাহ বাড়ানো।
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সামনের সারিতে থাকলেও, আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে নানামুখী প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, জলবায়ুজনিত অভিযোজন এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে যে অর্থায়ন প্রয়োজন, তা যেন কোনোভাবেই ঋণ হিসেবে চাপিয়ে দেওয়া না হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, জলবায়ু তহবিলের নামে প্রদত্ত সহায়তা ঋণের জালে আটকে পড়ে, যা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর বাড়তি বোঝা সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ এই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে অনুদানভিত্তিক অর্থায়নকে প্রাধান্য দেওয়ার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছে।
জলবায়ু অর্থায়নের বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে যে, তহবিলের আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জোর দিয়ে বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও উন্নত দেশগুলোর উচিত এই জটিলতা নিরসন করা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এবারের সম্মেলনে দাবি জানানো হবে যেন জলবায়ু তহবিলের আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা হয়, যাতে সময়মতো অর্থায়ন পাওয়া সম্ভব হয়। সঠিক সময়ে আর্থিক সহায়তা না পেলে অভিযোজন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ যে পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তার তুলনায় আন্তর্জাতিক সহায়তা অপ্রতুল। এই বৈষম্য দূর করতে এবং জলবায়ু সুবিচারের দাবিতে বাংলাদেশ এবার অত্যন্ত সোচ্চার থাকবে।
এছাড়া, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়নে যে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন, তা কেবল অনুদানের মাধ্যমেই সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব বলে সরকার মনে করছে। উন্নত বিশ্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জলবায়ু অর্থায়নের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ কপ-৩১ সম্মেলনে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাবে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ফোরামে দেশের স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কেবল অঙ্গীকার নয়, বরং কার্যকর ও স্বচ্ছ আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারের এই উদ্যোগ দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ । ২:১৭ পূর্বাহ্ণ