খুঁজুন
, ,

রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: একদিনে গ্রেফতার ৫৭৭

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: একদিনে গ্রেফতার ৫৭৭

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় বড় ধরনের সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বুধবার রাজধানীজুড়ে চালানো পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে মোট ৫৭৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একই সময়ে ৫৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এই বিশেষ তৎপরতা চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

ডিএমপির বিভিন্ন জোনের তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অপরাধ প্রবণতা এবং পুলিশের তৎপরতার ভিত্তিতে গ্রেফতারের হারে ভিন্নতা রয়েছে। এই ২৪ ঘণ্টায় প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রাজধানীর ওয়ারী বিভাগে ৯৪ জন এবং মতিঝিল বিভাগে ৮৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া লালবাগ বিভাগে ৪২ জন এবং রমনা বিভাগে ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে সকল এলাকার মধ্যে মিরপুর বিভাগে গ্রেফতারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা পুলিশের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমকে নির্দেশ করে। নগরীর প্রতিটি এলাকায় অপরাধীদের অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই আগে থেকে বিচারাধীন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, আবার অনেকেই নতুন করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার অভিযোগে আটক হয়েছেন। অভিযান চলাকালীন প্রতিটি এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকা এবং অপরাধপ্রবণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগরীতে অপরাধের ধরণ এবং কৌশল পরিবর্তনের সাথে সাথে পুলিশি অভিযানের কৌশলেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং গোয়েন্দা নজরদারি আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় অপরাধচক্র শনাক্ত করতে সহায়তা করবে বলে আশা করছে পুলিশ প্রশাসন।

নগরবাসীও মনে করছেন, পুলিশের এ ধরনের নিয়মিত অভিযান নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে পুলিশের কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফেরাতে সাহায্য করে। ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন এবং শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এ ধরনের বিশেষ অভিযানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সচেতনতা এবং তথ্য দিয়ে সহায়তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের টহল এবং নজরদারি কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মোড়: কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
   
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মোড়: কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস উভয় জায়গাতেই ডেমোক্র্যাটরা নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এই অভূতপূর্ব জয়ের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাট পার্টি ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান মেয়াদের শেষ দুই বছরের ক্ষমতার সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন আনার সুযোগ পেল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য পূরণের পথ সুগম করেছে।

নির্বাচনী ফলাফলের পরই ডেমোক্র্যাটদের শিবিরে উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের দলীয় নেতা হাকিম জেফ্রিস এই জয়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি দলের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আজকের এই দিনটি ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি এবং তাদের ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনায় এটি নতুন গতি সঞ্চার করবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে মার্কিন ভোটাররা যে রায় দিয়েছেন, তা মূলত বর্তমান প্রশাসনের কার্যক্রমের ওপর ডেমোক্র্যাটদের কঠোর নজরদারির সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা এখন আইন প্রণয়নসহ নানা বিষয়ে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারবে যা আগে তাদের জন্য কঠিন ছিল।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকায় এখন থেকে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বিল পাসের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে সক্ষম হবে। তারা চাইলে বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা, নতুন আইন প্রণয়ন কিংবা প্রশাসনিক পদক্ষেপে নিজেদের মতামত জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে পারবে। তবে এই ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সামনে যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনই চ্যালেঞ্জও কম নয়। কারণ আগামী দুই বছরের রাজনৈতিক পথচলায় সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখা তাদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—এই দুই জায়গাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ডেমোক্র্যাটরা এখন থেকে হোয়াইট হাউসের ওপর চাপ প্রয়োগের একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের বিরোধিতার পাশাপাশি বিকল্প প্রস্তাবগুলো জনগণের সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবে। তবে দীর্ঘমেয়াদী রাজনীতিতে এই নিয়ন্ত্রণের প্রভাব কেমন হবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনে ডেমোক্র্যাটরা কীভাবে তাদের এই নতুন পাওয়া ক্ষমতার প্রয়োগ করে তার ওপর। এই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও সক্ষমতা নতুন করে জানান দিল। এখন দেখার বিষয়, তারা এই সুযোগকে কীভাবে কাজে লাগিয়ে মার্কিনী জনমতকে নিজেদের পক্ষে ধরে রাখতে পারে। নির্বাচনের এই ফলাফল মার্কিন রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল, যেখানে কংগ্রেসের ভূমিকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বুদ্ধিজীবীদের দলবদলের সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
   
বুদ্ধিজীবীদের দলবদলের সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। সমাজ ও রাষ্ট্রের দর্পণ হিসেবে যাঁদের কাজ করার কথা, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁদের অনেকের কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরণের সংশয় তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বুদ্ধিজীবীদের একাংশের যে দ্রুত মতাদর্শ পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যায়, তা রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের এক কৌতূহলোদ্দীপক অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন যেদিকে হেলে পড়ে, বুদ্ধিজীবীদের একটি নির্দিষ্ট অংশ সেদিকেই তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে ফেলেন। এই প্রবণতাকে অনেকেই বসন্তের কোকিলের আগমনের সঙ্গে তুলনা করেন, তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় একে আরো গভীর পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষমতা বদলের সাথে সাথে একশ্রেণির বুদ্ধিজীবীর এই সুবিধাবাদী অবস্থানের কারণে অনেক সময় প্রকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়। তাঁদের এই আচরণকে অনেকে গিরগিটির মতো রং পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করছেন। যেকোনো রাজনৈতিক আবহাওয়া ও পতাকার রঙের সাথে মিল রেখে নিজেদের অবস্থান দ্রুত বদলে ফেলার এই কৌশল মূলত ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বার্থসিদ্ধির অংশ বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায়, অতীতের অনেক বুদ্ধিজীবী যারা এক সময় এক দলের গুণকীর্তনে ব্যস্ত ছিলেন, ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে তারাই আবার নতুন ধারার সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। এই ধারাবাহিক পরিবর্তন জনমনে এক ধরনের হতাশা তৈরি করে, কারণ বুদ্ধিজীবীরা সমাজের পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচিত হন।

বুদ্ধিজীবীদের এই দলবদলের প্রবণতা নতুন কিছু নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এটি অধিকতর দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। তথাকথিত এই বুদ্ধিজীবীরা যখন নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় রাজনীতির মাঠ গরম রাখেন, তখন সাধারণ মানুষের কাছে বুদ্ধিবৃত্তিক সততা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী বিষয়ে যাদের বলিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ কণ্ঠস্বর শোনা প্রত্যাশিত, সেখানে ক্ষমতার সাথে আপস করার এই সংস্কৃতির ফলে সমাজের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হচ্ছে। বুদ্ধির লড়াই বা যুক্তির চর্চার চেয়েও যখন ব্যক্তিগত সুবিধা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মুখ্য হয়ে ওঠে, তখন সেটি আর বুদ্ধিবৃত্তি থাকে না, বরং তা রাজনীতিরই একটি অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রকৃত বুদ্ধিজীবী তারাই, যারা ক্ষমতার পরিবর্তনের তোয়াক্কা না করে সত্যের পথে অবিচল থাকেন এবং সমাজের অসংগতিগুলো সাহসের সাথে তুলে ধরেন। অথচ বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে, বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ কেবল নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য রাজনীতির ডালপালা বা বাতাসের গতিপথ অনুসরণ করে চলছেন। এই সংকীর্ণ মানসিকতা দেশের সুস্থ রাজনৈতিক চর্চাকে ব্যাহত করছে। রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই প্রবণতা সমাজকে দ্বিধাবিভক্ত করে এবং বুদ্ধিজীবী শ্রেণির গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দেয়। তাই সময়ের প্রয়োজনে বুদ্ধিজীবীদের এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে পুনরায় জনস্বার্থে ও সত্যের পথে নিজেদের অবস্থান সুনিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সামগ্রিকভাবে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সুস্থতার জন্য বুদ্ধিজীবীদের এই নিরপেক্ষ অবস্থান ও নৈতিক দৃঢ়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
   
নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া

পূর্ব এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই নিজের সামরিক সক্ষমতা আরও একবার জানান দিলো উত্তর কোরিয়া। দেশটি নতুন মডেলের একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। আধুনিক সমরাস্ত্র উদ্ভাবন এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক এই সামরিক কর্মকাণ্ডে কেবল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়, বরং আক্রমণাত্মক সক্ষমতা প্রদর্শনেও জোর দিয়েছে পিয়ংইয়ং। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষার পাশাপাশি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আক্রমণের একটি মহড়াও পরিচালনা করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এই ধরণের মহড়া সাধারণত প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি এবং নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হয়। বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম এই খবর নিশ্চিত করেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সুনির্দিষ্ট স্থান বা সময় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য খুব একটা প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। দেশটি নিয়মিত বিরতিতে বিভিন্ন ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে নিজেদের পারমাণবিক ও প্রচলিত অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। গত কয়েক মাসে দেশটির সামরিক কৌশলে এক ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে প্রতিরক্ষামূলক এবং আক্রমণাত্মক উভয় ক্ষমতার সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও উত্তর কোরিয়া যেভাবে তাদের প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাচ্ছে, তা সামরিক বিশেষজ্ঞদের বিস্মিত করেছে। নতুন এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশটির আকাশসীমা সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যুক্ত হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শত্রুপক্ষের বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলার জন্য এই নতুন ব্যবস্থাটি কতটা কার্যকরী হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন তথ্য বিশ্লেষণ করছে। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে তারা কার্যত এই বার্তা দিতে চেয়েছে যে, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তাদের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে, এই সামরিক পরীক্ষা এবং মহড়ার পর ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়া বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের এসব কর্মকাণ্ড আত্মরক্ষার প্রয়োজনে এবং বিদেশি আগ্রাসনের মোকাবিলা করার জন্য অপরিহার্য। তবে ওয়াশিংটন এবং সিউল বরাবরই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তারা এই ধরণের কার্যক্রমকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কী ধরণের পদক্ষেপ নেয় এবং উত্তর কোরিয়া পরবর্তীতে কী ধরনের সামরিক কৌশল গ্রহণ করে, সেটাই দেখার বিষয়।

সর্বশেষ
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন মোড়: কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে বুদ্ধিজীবীদের দলবদলের সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া রাউজানে আট পিস্তল প্রদর্শন করে ফের আলোচনায় ‘বুলেট হৃদয়’ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভরাডুবি: প্রকাশ্যে ট্রাম্প-ভ্যান্সের পারস্পরিক দোষারোপ রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের বিশেষ অভিযান: একদিনে গ্রেফতার ৫৭৭ রাজধানীর কদমতলীতে ট্রাকচাপায় দুই অটোরিকশাচালক নিহত গাজীপুরের কারখানাগুলোতে কর্মচঞ্চল পরিবেশ, কাজে ফিরলেন শ্রমিকরা শরতের ছুটি কাটাতে নর্থ নরফোকের নিরিবিলি নিসর্গ কেনাকাটায় ক্যাশব্যাক: উৎসবের আমেজে সাশ্রয়ের সুযোগ