পূর্ব এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই নিজের সামরিক সক্ষমতা আরও একবার জানান দিলো উত্তর কোরিয়া। দেশটি নতুন মডেলের একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। আধুনিক সমরাস্ত্র উদ্ভাবন এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক এই সামরিক কর্মকাণ্ডে কেবল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়, বরং আক্রমণাত্মক সক্ষমতা প্রদর্শনেও জোর দিয়েছে পিয়ংইয়ং। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষার পাশাপাশি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আক্রমণের একটি মহড়াও পরিচালনা করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। এই ধরণের মহড়া সাধারণত প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি এবং নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হয়। বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম এই খবর নিশ্চিত করেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সুনির্দিষ্ট স্থান বা সময় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য খুব একটা প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। দেশটি নিয়মিত বিরতিতে বিভিন্ন ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে নিজেদের পারমাণবিক ও প্রচলিত অস্ত্রভাণ্ডার আধুনিকায়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। গত কয়েক মাসে দেশটির সামরিক কৌশলে এক ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে প্রতিরক্ষামূলক এবং আক্রমণাত্মক উভয় ক্ষমতার সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও উত্তর কোরিয়া যেভাবে তাদের প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাচ্ছে, তা সামরিক বিশেষজ্ঞদের বিস্মিত করেছে। নতুন এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশটির আকাশসীমা সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যুক্ত হলো বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শত্রুপক্ষের বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলার জন্য এই নতুন ব্যবস্থাটি কতটা কার্যকরী হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন তথ্য বিশ্লেষণ করছে। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে তারা কার্যত এই বার্তা দিতে চেয়েছে যে, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তাদের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে, এই সামরিক পরীক্ষা এবং মহড়ার পর ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়া বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের এসব কর্মকাণ্ড আত্মরক্ষার প্রয়োজনে এবং বিদেশি আগ্রাসনের মোকাবিলা করার জন্য অপরিহার্য। তবে ওয়াশিংটন এবং সিউল বরাবরই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তারা এই ধরণের কার্যক্রমকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় কী ধরণের পদক্ষেপ নেয় এবং উত্তর কোরিয়া পরবর্তীতে কী ধরনের সামরিক কৌশল গ্রহণ করে, সেটাই দেখার বিষয়।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ১২:১৪ অপরাহ্ণ