খুঁজুন
, ,

শ্রীলঙ্কার কোচের কৌতুকপূর্ণ হুঁশিয়ারি: ফারহানের জার্সি নিলে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
শ্রীলঙ্কার কোচের কৌতুকপূর্ণ হুঁশিয়ারি: ফারহানের জার্সি নিলে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা

আগামীকাল থেকে রাজধানী ঢাকার মাঠে শুরু হতে যাচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মহারণ। এই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের পারদ এখন তুঙ্গে। মাঠের লড়াই শুরুর আগের দিনগুলোতে প্রতিটি দল তাদের নিজেদের শক্তি ও কৌশল নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে থাকেন। তবে এবারের আসরে মূল লড়াইয়ের উত্তাপ ছড়ানোর আগেই এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রীলঙ্কার দলের কোচের এক অদ্ভুত ও কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য নজর কাড়ল সবার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে শ্রীলঙ্কার কোচ মুতাইরি বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলার ফারহানকে নিয়ে এমন এক মন্তব্য করলেন, যা মুহূর্তেই হাসির ফোয়ারা ছড়িয়ে দেয়। তিনি সরাসরি জানিয়ে দিলেন, যদি কোনো খেলোয়াড় ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের উদীয়মান এই তারকার জার্সি নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে তাকে এক বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি কৌতুক হিসেবে মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের প্রতি এক ধরনের সমীহ এবং ফুটবলের মজার সম্পর্কের রসায়ন। সাধারণত আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে নানারকম উত্তেজনা আর কথার লড়াই লেগেই থাকে। কিন্তু মুতাইরির এই মন্তব্য প্রথাগত সেই উত্তেজনার বাইরে গিয়ে এক ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। ফারহান বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন এক আশার আলো হিসেবে নিজেকে মেলে ধরছেন। মাঠের খেলায় তার ক্ষিপ্রতা আর বলের ওপর নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এখন অনেকেরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। শ্রীলঙ্কার কোচ হয়তো পরোক্ষভাবে ফারহানের প্রতিভাকেই স্বীকৃতি দিতে চেয়েছেন এই মজার ছলে। একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে কোচের এমন সরস মন্তব্য মাঠের খেলার পরিবেশকে অনেকটাই হালকা করে দেয়। ফুটবল শুধু মাঠের লড়াই নয়, এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও শ্রদ্ধারও জায়গা। একজন বিদেশি কোচের মুখে স্থানীয় কোনো তরুণ খেলোয়াড়ের প্রশংসা বা তার জার্সি নিয়ে এমন মজাদার হুঁশিয়ারি খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত হওয়ার রসদ জোগায়। যদিও কোচের এই বক্তব্যকে গুরুতর কোনো হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, তবুও এটি যে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সবার মুখে হাসি ফুটিয়েছে তা বলাই বাহুল্য। সাফের এই আসরে শ্রীলঙ্কা দলটি বেশ ভালো প্রস্তুতি নিয়েই এসেছে। তাদের লক্ষ্য নিজেদের সেরাটা দিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকা। দলের কোচ হিসেবে মুতাইরি নিজেও খুব সতর্ক এবং তার খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে সবসময় তৎপর থাকেন। সংবাদ সম্মেলনের সেই মুহূর্তে যখন তিনি এমন কথা বললেন, তখন পুরো কক্ষ জুড়ে এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের ভিড়ে এমন একটি মুহূর্ত খেলার বাইরের মানবিক দিকটিকেও সামনে নিয়ে আসে। বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এটি সত্যিই ইতিবাচক। একজন উঠতি খেলোয়াড় যখন প্রতিপক্ষের কোচের নজরে থাকেন এবং তাকে নিয়ে এমন আলোচনা হয়, তা খেলোয়াড়ের আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আগামীকালকের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামার আগে এমন সব ছোট ছোট ঘটনা টুর্নামেন্টকে এক দারুণ আমেজ দিচ্ছে। ঢাকার স্টেডিয়ামগুলোতে দর্শকদের ঢল নামার প্রতীক্ষায় রয়েছে ফুটবল প্রেমীরা। মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে হাসবে তা সময়ই বলে দেবে, তবে শ্রীলঙ্কার কোচের এই মন্তব্যের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের শুরুটা যে বেশ প্রাণবন্ত হয়ে উঠল তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। ফুটবলীয় প্রতিভাকে সম্মান জানানোর এমন কৌতুকপূর্ণ ভঙ্গি টুর্নামেন্টকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

শিল্প ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ প্রসারে সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতি সরকারের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
   
শিল্প ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ প্রসারে সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতি সরকারের

দেশের জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারে বর্তমান সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দীর্ঘ দিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর যে ব্যক্তিগত পরিকল্পনা ছিল, তা এখন প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার এ বিষয়ে আলোকপাত করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি জানিয়েছেন, সরকারি পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মাহ্দী আমিন জানান, দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে যে কোন ভবন বা শিল্প-কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করলে দ্রুত সুফল পাওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে ব্যক্তিপর্যায়ের স্থাপনা থেকে শুরু করে বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি ভবনগুলোকে বিশেষ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সক্ষমতা ও সামর্থ্য বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুতের বিকল্প নেই। বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সৌরশক্তি ব্যবহারের বিপুল সম্ভাবনাময় দেশ। এতদিন নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এই প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তার ঘটেনি। তবে বর্তমান সরকারের এই নতুন উদ্যোগের ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন খরচ কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত, শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং গ্রিড লাইনের ওপর চাপ কমাতে নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করছে প্রশাসন।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল পরিকল্পনা গ্রহণ নয়, বরং মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন যাতে যথাযথভাবে হয়, সেজন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির কাজও চলমান রয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডির ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের বিদ্যুৎ খাতের চিত্র বদলে যাবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। মাহ্দী আমিন তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী একটি আধুনিক ও জ্বালানি সাশ্রয়ী বাংলাদেশ গড়তে সরকার তার অবস্থানে অবিচল। পর্যায়ক্রমে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

সমুদ্র-পাহাড়ের বাইরে নতুন গন্তব্যের খোঁজ, ভ্রমণে বদলাচ্ছে তরুণদের পছন্দ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
সমুদ্র-পাহাড়ের বাইরে নতুন গন্তব্যের খোঁজ, ভ্রমণে বদলাচ্ছে তরুণদের পছন্দ

সাম্প্রতিক সময়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা করার পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আর দীর্ঘ ছুটি বা উৎসবের মৌসুমের অপেক্ষা না করে, সুযোগ পেলেই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন তরুণ প্রজন্ম। এই পরিবর্তন কেবল ভ্রমণের ফ্রিকোয়েন্সিতে নয়, গন্তব্যের পছন্দেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অনলাইন ভ্রমণ ও আবাস বুকিং সংস্থার সংগ্রহ করা ডেটা অনুযায়ী, সমুদ্রসৈকত ও পাহাড়ি শহরের পাশাপাশি এখন ছোট শহর, গ্রামীণ এলাকা এবং কম পরিচিত পর্যটন স্থানে বুকিংয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট শতাংশ প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংস্থাগুলো একমত যে এই প্রবণতা গত কয়েক মাসে স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়েছে।

তরুণ ভ্রমণকারীরা নতুন অভিজ্ঞতা, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং স্বতন্ত্র পরিবেশের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। তারা প্রায়ই সামাজিক মিডিয়ায় এমন গন্তব্যের ছবি শেয়ার করে, যেখানে ভিড় কম এবং স্বাভাবিক জীবনধারা দেখা যায়। ফলে, ঐ অঞ্চলের হোটেল, গেস্টহাউস এবং স্থানীয় গাইডের চাহিদা বাড়ছে।

এই প্রবণতার পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা যায়। প্রথমত, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজে তথ্য ও সেবা পাওয়া যায়, যা দূরবর্তী গন্তব্যেও পরিকল্পনা করা সহজ করে তুলেছে। দ্বিতীয়ত, টেকসই ভ্রমণ এবং স্থানীয় অর্থনীতির সমর্থন নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে ভ্রমণকারীরা বড় পর্যটন কেন্দ্রের বদলে কম পরিচিত স্থানে যাওয়ার দিকে ঝুঁকছেন। তৃতীয়ত, কাজের নমনীয়তা ও রিমোট কাজের সুযোগের ফলে তরুণরা স্বল্প সময়ের মধ্যে যেকোনো সময় ভ্রমণ করতে পারছেন।

বাজারে দেখা যাচ্ছে, ছোট শহরের হোটেল ও হোমস্টে এখন বিশেষ প্যাকেজ এবং স্থানীয় অভিজ্ঞতা ভিত্তিক সেবা প্রদান করছে। কিছু উদ্যোগে স্থানীয় খাবার, হস্তশিল্প কর্মশালা এবং ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সঙ্গে ভ্রমণকে সংযুক্ত করা হয়েছে, যা তরুণদের নতুন আকর্ষণ হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে, পরিবহন সংস্থাগুলোও ছোট শহরে সরাসরি সংযোগ বাড়াচ্ছে, যাতে ভ্রমণ সহজ হয়।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে পর্যটন শিল্পের গঠনমূলক পরিবর্তন আনতে পারে। বড় শহর ও জনপ্রিয় গন্তব্যের অতিরিক্ত ভিড় কমে যাবে, আর কম পরিচিত এলাকায় পর্যটন অবকাঠামো উন্নত হবে। তবে, এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় পরিবেশ ও সংস্কৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে পর্যটনের অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হয়।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আক্রমণ: ভারত ও পাকিস্তানের মুখে কী চ্যালেঞ্জ?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আক্রমণ: ভারত ও পাকিস্তানের মুখে কী চ্যালেঞ্জ?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পারমাণবিক আক্রমণ ইরানের পিকঅ্যাক্স পারমাণবিক কেন্দ্রে চালানোর কথা সাম্প্রতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। টাকার কার্লসন, যিনি ট্রাম্পের সমর্থক এবং পূর্বে ফক্স নিউজে কাজ করেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এই সম্ভাবনা সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেননি, তবু তার অনুগামীদের মন্তব্যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

ইরানের পিকঅ্যাক্স পারমাণবিক সুবিধা ভূগর্ভস্থ এবং উচ্চ নিরাপত্তা স্তরে গড়ে তোলা, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হতে পারে। যদি এই ধরনের আক্রমণ বাস্তবায়িত হয়, তবে তা শুধু ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শক্তি ভারসাম্যকেও পরিবর্তন করবে। বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের জন্য এই পরিবর্তনটি নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সূচনা হতে পারে।

প্রথমত, ভারত তার নিরাপত্তা নীতি দীর্ঘদিন থেকে চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাড়তি সামরিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছে। ইরানের পারমাণবিক সুবিধায় সম্ভাব্য পারমাণবিক আঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা বাড়লে, তা তেল ও গ্যাসের সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলবে। তেল মূল্যের উত্থান ভারতীয় অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে, যা বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জকে তীব্র করবে। তদুপরি, পারমাণবিক হুমকি বাড়লে ভারতকে তার পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিবেশে চীনের প্রভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।

দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানও একইভাবে প্রভাবিত হবে। পাকিস্তান তার নিরাপত্তা কৌশলকে প্রধানত ভারতকে প্রধান হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে গড়ে তুলেছে, তবে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ তার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারে। যদি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা বাড়ায়, তবে পাকিস্তানকে তার নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে হতে পারে। একই সঙ্গে, পারমাণবিক হুমকি বাড়লে পাকিস্তানের নিজস্ব পারমাণবিক নীতি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

অঞ্চলীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আক্রমণ ইরানের সঙ্গে তার সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে, যা পরোক্ষভাবে ভারত ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক মঞ্চে নতুন সমন্বয় প্রয়োজন করবে। দু’দেশের কূটনৈতিক মন্ত্রীরা ইতিমধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে গোপনীয়ভাবে পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার ফলে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

অধিকন্তু, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এবং জাতিসংঘের ভূমিকা এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হবে। যদি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক হুমকি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা বৈশ্বিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আহ্বান করতে পারে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ ভারত ও পাকিস্তানকে তাদের কূটনৈতিক কৌশল পুনর্গঠন করতে বাধ্য করবে, যাতে তারা উভয়ই বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে নিজেদের অবস্থান রক্ষা করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আক্রমণ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিবেশকেও প্রভাবিত করবে। ভারত ও পাকিস্তানকে এই পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক দৃশ্যপটে তাদের কূটনৈতিক ও সামরিক নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যাতে অপ্রত্যাশিত পারমাণবিক হুমকি থেকে নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করা যায়। ভবিষ্যতে কীভাবে এই পরিস্থিতি বিকশিত হবে, তা নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত, ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর।

সর্বশেষ
শিল্প ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ প্রসারে সর্বাত্মক সহায়তার প্রতিশ্রুতি সরকারের সমুদ্র-পাহাড়ের বাইরে নতুন গন্তব্যের খোঁজ, ভ্রমণে বদলাচ্ছে তরুণদের পছন্দ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আক্রমণ: ভারত ও পাকিস্তানের মুখে কী চ্যালেঞ্জ? শ্রীলঙ্কার কোচের কৌতুকপূর্ণ হুঁশিয়ারি: ফারহানের জার্সি নিলে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা পাকিস্তানের অনুশীলন বাতিল, ভারতীয় ম্যাচের আগে সমর্থন চাইছেন অধিনায়ক যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সাইয়েদ: প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে জয়ের নেপথ্যে ইরানি কমান্ডারদের ওপর হামলা হলে শত্রুপক্ষকে চরম মূল্য দেওয়ার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রী সফরে খুলনা, খানা‑খন্দে ভরা মহাসড়ক বদলে গেল নতুন রূপে ভুটানকে পরাজিত করে হামজা চৌধুরীর স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশে নতুন আশার সঞ্চার ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কংগ্রেসের দু’চেম্বার দখল, ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধাক্কা পায়
Advertisement