দেশের জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারে বর্তমান সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দীর্ঘ দিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর যে ব্যক্তিগত পরিকল্পনা ছিল, তা এখন প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বুধবার এ বিষয়ে আলোকপাত করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি জানিয়েছেন, সরকারি পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মাহ্দী আমিন জানান, দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হবে যে কোন ভবন বা শিল্প-কারখানায় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করলে দ্রুত সুফল পাওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে ব্যক্তিপর্যায়ের স্থাপনা থেকে শুরু করে বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি ভবনগুলোকে বিশেষ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সক্ষমতা ও সামর্থ্য বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুতের বিকল্প নেই। বাংলাদেশ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সৌরশক্তি ব্যবহারের বিপুল সম্ভাবনাময় দেশ। এতদিন নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এই প্রযুক্তির ব্যাপক বিস্তার ঘটেনি। তবে বর্তমান সরকারের এই নতুন উদ্যোগের ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন খরচ কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত, শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং গ্রিড লাইনের ওপর চাপ কমাতে নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করছে প্রশাসন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল পরিকল্পনা গ্রহণ নয়, বরং মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন যাতে যথাযথভাবে হয়, সেজন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির কাজও চলমান রয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডির ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের বিদ্যুৎ খাতের চিত্র বদলে যাবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। মাহ্দী আমিন তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী একটি আধুনিক ও জ্বালানি সাশ্রয়ী বাংলাদেশ গড়তে সরকার তার অবস্থানে অবিচল। পর্যায়ক্রমে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ । ৭:১৫ অপরাহ্ণ