আগামীকাল থেকে রাজধানী ঢাকার মাঠে শুরু হতে যাচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মহারণ। এই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের পারদ এখন তুঙ্গে। মাঠের লড়াই শুরুর আগের দিনগুলোতে প্রতিটি দল তাদের নিজেদের শক্তি ও কৌশল নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে থাকেন। তবে এবারের আসরে মূল লড়াইয়ের উত্তাপ ছড়ানোর আগেই এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রীলঙ্কার দলের কোচের এক অদ্ভুত ও কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য নজর কাড়ল সবার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে শ্রীলঙ্কার কোচ মুতাইরি বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলার ফারহানকে নিয়ে এমন এক মন্তব্য করলেন, যা মুহূর্তেই হাসির ফোয়ারা ছড়িয়ে দেয়। তিনি সরাসরি জানিয়ে দিলেন, যদি কোনো খেলোয়াড় ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের উদীয়মান এই তারকার জার্সি নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে তাকে এক বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি কৌতুক হিসেবে মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের প্রতি এক ধরনের সমীহ এবং ফুটবলের মজার সম্পর্কের রসায়ন। সাধারণত আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগে নানারকম উত্তেজনা আর কথার লড়াই লেগেই থাকে। কিন্তু মুতাইরির এই মন্তব্য প্রথাগত সেই উত্তেজনার বাইরে গিয়ে এক ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। ফারহান বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন এক আশার আলো হিসেবে নিজেকে মেলে ধরছেন। মাঠের খেলায় তার ক্ষিপ্রতা আর বলের ওপর নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এখন অনেকেরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। শ্রীলঙ্কার কোচ হয়তো পরোক্ষভাবে ফারহানের প্রতিভাকেই স্বীকৃতি দিতে চেয়েছেন এই মজার ছলে। একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে কোচের এমন সরস মন্তব্য মাঠের খেলার পরিবেশকে অনেকটাই হালকা করে দেয়। ফুটবল শুধু মাঠের লড়াই নয়, এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও শ্রদ্ধারও জায়গা। একজন বিদেশি কোচের মুখে স্থানীয় কোনো তরুণ খেলোয়াড়ের প্রশংসা বা তার জার্সি নিয়ে এমন মজাদার হুঁশিয়ারি খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত হওয়ার রসদ জোগায়। যদিও কোচের এই বক্তব্যকে গুরুতর কোনো হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, তবুও এটি যে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সবার মুখে হাসি ফুটিয়েছে তা বলাই বাহুল্য। সাফের এই আসরে শ্রীলঙ্কা দলটি বেশ ভালো প্রস্তুতি নিয়েই এসেছে। তাদের লক্ষ্য নিজেদের সেরাটা দিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকা। দলের কোচ হিসেবে মুতাইরি নিজেও খুব সতর্ক এবং তার খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে সবসময় তৎপর থাকেন। সংবাদ সম্মেলনের সেই মুহূর্তে যখন তিনি এমন কথা বললেন, তখন পুরো কক্ষ জুড়ে এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের ভিড়ে এমন একটি মুহূর্ত খেলার বাইরের মানবিক দিকটিকেও সামনে নিয়ে আসে। বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য এটি সত্যিই ইতিবাচক। একজন উঠতি খেলোয়াড় যখন প্রতিপক্ষের কোচের নজরে থাকেন এবং তাকে নিয়ে এমন আলোচনা হয়, তা খেলোয়াড়ের আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আগামীকালকের উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নামার আগে এমন সব ছোট ছোট ঘটনা টুর্নামেন্টকে এক দারুণ আমেজ দিচ্ছে। ঢাকার স্টেডিয়ামগুলোতে দর্শকদের ঢল নামার প্রতীক্ষায় রয়েছে ফুটবল প্রেমীরা। মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে হাসবে তা সময়ই বলে দেবে, তবে শ্রীলঙ্কার কোচের এই মন্তব্যের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের শুরুটা যে বেশ প্রাণবন্ত হয়ে উঠল তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। ফুটবলীয় প্রতিভাকে সম্মান জানানোর এমন কৌতুকপূর্ণ ভঙ্গি টুর্নামেন্টকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ । ৬:১৭ অপরাহ্ণ