খুঁজুন
, ,

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাজপথে নেমে আসা পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এলাকা। আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে এসে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার জালকুড়ি সংলগ্ন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে শ্রমিকরা তাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকদের একটি অংশ সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালালে পুলিশের সঙ্গে তাদের বাদানুবাদ শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

উত্তেজিত শ্রমিকরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ শুরু করে এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এই সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও পথচারী আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ঠিক কতজন আহত হয়েছেন বা তাদের আঘাতের ধরণ কেমন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি রোধে এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে।

শিল্পাঞ্চল এলাকায় শ্রমিকদের এই অসন্তোষের প্রভাব পড়েছে আশপাশের এলাকাতেও। দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। যদিও পুলিশ দাবি করেছে, তারা শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শ্রমিকরা তাদের ওপর চড়াও হওয়ায় বাধ্য হয়েই বলপ্রয়োগ করতে হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানা এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। মজুরি বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিকে কেন্দ্র করে এমন সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় এলাকায় এক ধরণের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, দেশের পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী মজুরি কাঠামো পুনর্নির্ধারণের দাবি দীর্ঘদিনের। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নেমে আসছেন। আজকের এই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট শিল্পমালিক এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের জরুরি আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত সুরাহা করার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। কারণ, এই ধরণের সহিংসতা দীর্ঘমেয়াদে শিল্প খাতের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে, তবে সড়কে এখনো থমথমে পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সংবিধান সংশোধন কমিটির গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ ছাত্রশক্তির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
সংবিধান সংশোধন কমিটির গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ ছাত্রশক্তির

দেশের বিদ্যমান সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটির কার্যকারিতা ও যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির সহযোগী সংগঠন ছাত্রশক্তি। গত মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা এই কমিটিকে দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী এবং এক ধরনের প্রহসন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা। ছাত্রশক্তির সভাপতি আবু বাকের মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরী বিবৃতিতে এই কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের মানুষ যে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে রক্ত দিয়েছে, বর্তমান সংবিধান সংশোধন কমিটি সেই জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। নেতারা অভিযোগ করেন, কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ নয় এবং এটি আপামর জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না। তারা মনে করেন, যেভাবে তড়িঘড়ি করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাতে জনআকাঙ্ক্ষার চেয়ে দলীয় বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের প্রতিফলন ঘটার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই ধরনের কার্যক্রম জুলাই বিপ্লবের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও দাবি করেন তারা।

ছাত্রশক্তির নেতারা তাদের দাবির সপক্ষে একটি বিকল্প প্রস্তাবনা পেশ করেছেন। তাদের মতে, সংবিধান সংস্কারের মতো একটি সংবেদনশীল ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা প্রস্তাব করেছেন যে, গণভোটের রায় অনুযায়ী একটি স্বাধীন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। এই পরিষদের মাধ্যমে দেশের সকল স্তরের মানুষের মতামত গ্রহণ করে সংবিধানের প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী সংশোধনী আনতে হবে। এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা বিশেষ কমিটির দ্বারা নয়, বরং জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমেই হওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।

সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, জুলাইয়ের আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়কে নস্যাৎ করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে ছাত্রশক্তি রুখে দেবে। তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, সংবিধান সংশোধন হতে হবে গণমানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী, কোনো আরোপিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নয়। বর্তমান কমিটি বাতিল করে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি প্রক্রিয়া চালুর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

রাজনীতি সচেতন মহলের মতে, ছাত্রশক্তির এই বিবৃতি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। সংবিধান সংশোধন একটি দীর্ঘমেয়াদী ও জাতীয় প্রভাব বিস্তারকারী প্রক্রিয়া। তাই এ ধরনের কাজে সব মহলের আস্থাশীল হওয়া প্রয়োজন। তবে ছাত্রশক্তির মতো একটি সচেতন ছাত্র সংগঠনের এই জোরালো প্রতিবাদ এবং বিকল্প প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি নিয়ে পুনরায় ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের এই দাবি ও আপত্তির প্রতি কতটা গুরুত্ব দেয় এবং আগামী দিনে সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না। আপাতত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে।

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় শ্রমিকের মৃত্যু: জীবিকার সন্ধানে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
গাজীপুরে পোশাক কারখানায় শ্রমিকের মৃত্যু: জীবিকার সন্ধানে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে

পরিবারের অভাব দূর করতে এবং বাবার অকাল মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে গাইবান্ধা থেকে গাজীপুরে পাড়ি জমিয়েছিলেন তরুণ তৌফিক হোসেন। স্বপ্ন ছিল ভালো কিছু করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। গাজীপুরে পোশাক কারখানায় শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলা আন্দোলনের উত্তাল পরিস্থিতিতে হামলায় গুরুতর আহত হয়ে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। মাত্র বাইশ বছর বয়সী এই তরুণের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জীবিকার তাগিদে বাড়ি ছাড়া সেই তরুণ এখন নিথর দেহ হয়ে নিজ গ্রামে ফিরছেন।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা তৌফিক হোসেন। বিগত কয়েক দিন ধরে কারখানা এলাকায় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন চলছিল। এই আন্দোলন চলাকালীন এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কোনো এক পর্যায়ে তৌফিক গুরুতরভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত শিন শিন জাপান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় কারখানায় কাজ নিয়েছিলেন তৌফিক। তার ওপর নির্ভর করেই চলত তাদের পরিবারের অন্নসংস্থান। কিন্তু কারখানার মজুরি আন্দোলনের জের ধরে যে সহিংসতার শিকার হতে হবে, তা কেউ ভাবেনি। তৌফিকের স্বজনরা জানিয়েছেন, বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। তার এই মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানি নয়, বরং একটি দরিদ্র পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়ভাবে তৌফিকের এই মর্মান্তিক পরিণতির খবরে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা মজুরি কাঠামো পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র বা উত্তেজনার মুখে সংঘর্ষের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। শ্রমিক সংগঠনের নেতারা দাবি জানিয়েছেন, যেন দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয় এবং শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশি প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। তৌফিকের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে।

শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে তৌফিকের মতো একজন কর্মঠ তরুণের প্রাণ ঝরে যাওয়ায় সচেতন মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। পোশাক শিল্পের এই অস্থিরতা নিরসনে মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে কার্যকর আলোচনার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজ। তৌফিকের পরিবার এখন শোকের সাগরে ভাসছে, আর তাদের চোখে মুখে এখন শুধুই হারানো স্বজনের স্মৃতি। জীবিকার তাগিদে শহরে আসা তরুণের এমন পরিণতির দায়ভার কার, সেই প্রশ্নই এখন সবার মুখে মুখে।

১ লাখ টাকায় তিন ঘাতক ভাড়া, বিএনপি নেতাসহ তিনজনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
১ লাখ টাকায় তিন ঘাতক ভাড়া, বিএনপি নেতাসহ তিনজনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম

রাজধানীর ব্যস্ততম এক জনপদে প্রকাশ্যে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন এক বিএনপি নেতা এবং তার সঙ্গে থাকা তিন ছাত্র। হামলায় অংশ নেওয়া ঘাতক চক্রটিকে অর্থের বিনিময়ে ভাড়া করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পিত এই হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে দেশি ধারালো অস্ত্র, যা মুহূর্তের মধ্যে এলাকাটিকে আতঙ্কের জনপদে পরিণত করে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাদের শারীরিক অবস্থা এখন পর্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আক্রান্ত বিএনপি নেতা দলীয় কাজে এবং নিজ এলাকা পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তিন ছাত্র। পথিমধ্যে আগে থেকে ওত পেতে থাকা তিন দুর্বৃত্ত অতর্কিতে তাদের ওপর চড়াও হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই খুনিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে। প্রকাশ্যে দিবালোকে এমন নৃশংস হামলার দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ পথচারীরা। ঘটনার পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করার চেষ্টা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন।

তদন্তকারী সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলার পেছনে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করেছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে আশপাশের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এরই মধ্যে গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, হামলাকারীদের ১ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়া করা হয়েছিল। এই অর্থের উৎস এবং কারা এই ভাড়াটে ঘাতকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিল, তা বের করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ঘটনার পরপরই এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা চলছে।

আহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, তাদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে হুমকি ছিল। তবে এমন প্রকাশ্য দিবালোকে হামলার বিষয়টি ছিল একেবারেই অভাবনীয়। দলের পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের টহল থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই হামলাকারীরা অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করতে পারল এবং নির্ভয়ে হামলা চালিয়ে পালিয়ে গেল, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি নেতার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জখম হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অপর তিন ছাত্রের অবস্থাও স্থিতিশীল নয়। পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ জগতের সঙ্গে যুক্ত চক্রগুলোকে দমন করতে তারা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে খুব দ্রুতই রহস্য উন্মোচিত হবে বলে পুলিশের তরফ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে ভীত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ
সংবিধান সংশোধন কমিটির গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ ছাত্রশক্তির গাজীপুরে পোশাক কারখানায় শ্রমিকের মৃত্যু: জীবিকার সন্ধানে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ১ লাখ টাকায় তিন ঘাতক ভাড়া, বিএনপি নেতাসহ তিনজনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলেছে সরকার: মজিবুর রহমান মঞ্জু সিউলে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে বিএনপির প্রতিনিধি দলের ঢাকা ত্যাগ শ্রমিক অসন্তোষ ও সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা নিয়ে জাতীয় শ্রমিক শক্তির কঠোর সমালোচনা চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিংকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে স্বাগত জানাল বিএনপি নারী ক্রিকেটারদের সুরক্ষা ও নিরপেক্ষ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করল বিসিবি জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
Advertisement