খুঁজুন
, ,

শরতের নেদারল্যান্ডসে সাইকেল ভ্রমণ: বুনো প্রকৃতি ও ইতিহাসের মেলবন্ধন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
শরতের নেদারল্যান্ডসে সাইকেল ভ্রমণ: বুনো প্রকৃতি ও ইতিহাসের মেলবন্ধন

শরতের মৃদু রোদ আর ঝরা পাতার মচমচে শব্দে নেদারল্যান্ডসের প্রকৃতি যখন সেজে ওঠে নতুন রূপে, তখন ভ্রমণের আনন্দ যেন বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে দেশটির গেল্ডারল্যান্ড প্রদেশে অবস্থিত ভেলুভে অঞ্চলটি সাইকেল চালকদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য হয়ে ওঠে। শরতের ছুটিতে যারা প্রকৃতির নিভৃত কোণে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এটি এক চমৎকার গন্তব্য। বিস্তীর্ণ তৃণভূমির প্রান্ত থেকে শুরু করে দিগন্তজোড়া বালিয়াড়ি আর পাইনবনের আঁকাবাঁকা পথ—সব মিলিয়ে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যপট তৈরি হয় এখানে।

ভেলুভে অঞ্চলে সাইকেল চালিয়ে ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর বৈচিত্র্যময় বুনো প্রকৃতি। এখানকার বনজঙ্গল ও জাতীয় উদ্যানগুলোতে সাইকেল চালানোর সময় হঠাৎ করেই চোখে পড়তে পারে হরিণের পাল কিংবা বুনো শূকর। কাঠঠোকরা পাখির টোকা কিংবা ছোট ছোট বুনো প্রাণীদের ছুটোছুটি ভ্রমণের ক্লান্তি মুহূর্তেই দূর করে দেয়। নেদারল্যান্ডসের এই অংশটি মূলত তার শান্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত, যেখানে যান্ত্রিক কোলাহল ছাড়াই প্রকৃতির একদম কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব।

শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, ভেলুভের পথে পথে রয়েছে ইতিহাসের ছোঁয়াও। সাইকেলের প্যাডেল ঘোরাতে ঘোরাতে পর্যটকরা অনায়াসেই পৌঁছে যেতে পারেন প্রাচীন সব প্রাসাদের সামনে। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্থাপত্যগুলো শরতের সোনালী রোদে এক অন্যরকম আবহ তৈরি করে। এছাড়া স্থানীয় শিল্পকেন্দ্রগুলো ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বাড়তি পাওনা। সাইকেল চালানোর ফাঁকে ফাঁকে এসব স্থানে বিরতি নিয়ে স্থানীয় সংস্কৃতি ও শিল্পের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।

নেদারল্যান্ডসের এই অঞ্চলে সাইক্লিং ট্রেইলগুলো অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। প্রতিটি পথ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে প্রকৃতিপ্রেমীরা কোনো রকম ঝক্কি ছাড়াই বনের ভেতর দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারেন। পরিবারের সাথে হোক কিংবা একাকী, শরতের এই মৌসুমে ভেলুভে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা কেবল শরীরচর্চায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি মানসিক প্রশান্তির এক অনন্য উপলক্ষ হয়ে দাঁড়ায়। হালকা শীতের আমেজ আর শরতের ঝরা পাতা—সব মিলিয়ে নেদারল্যান্ডসের এই সাইকেল ভ্রমণ পর্যটকদের স্মৃতিপটে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে যায়।

যারা কিছুটা অ্যাডভেঞ্চার এবং কিছুটা শান্তি খুঁজছেন, তাদের জন্য শরতের নেদারল্যান্ডসের এই ভ্রমণ এক অসাধারণ পছন্দ হতে পারে। এখানকার নির্মল বাতাস এবং সবুজের সমারোহ সত্যিই অতুলনীয়। যারা সাইকেল চালানো ভালোবাসেন, তাদের জন্য ভেলুভে অঞ্চলটি যেকোনো ঋতুতেই সুন্দর, তবে শরতের উজ্জ্বল দিনগুলোতে এখানকার রূপ যেন রূপকথার মতো হয়ে ওঠে। তাই পর্যটকরা চাইলে তাদের পরবর্তী ছুটির পরিকল্পনা সাজাতে পারেন নেদারল্যান্ডসের এই বুনো প্রকৃতি ও ইতিহাসের মেলবন্ধনের এই গন্তব্যকে ঘিরে।

রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপোর শুভ উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপোর শুভ উদ্বোধন

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপো। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের গুরুত্ব এবং এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই এক্সপোর সূচনা হয়। সৌরশক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের পথ সুগম করাই এই প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য। এবারের এক্সপোর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ছাদের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় বাড়ান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সৌরশক্তির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানান। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্বের জ্বালানি সংকটের সমাধানে সৌরবিদ্যুৎ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে দাঁড়িয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করতে সৌর প্যানেলের ব্যবহার আরও বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে অব্যবহৃত ছাদগুলোকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উপযোগী করে তোলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ যে কেবল স্বাবলম্বী হতে পারে তা নয়, বরং জাতীয় গ্রিডেও অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরপরই প্রদর্শনীস্থলটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানিয়েছেন, দুই দিনব্যাপী এই এক্সপোতে সৌরবিদ্যুৎ সংক্রান্ত আধুনিক প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং উদ্ভাবনী সমাধান তুলে ধরা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা উদ্যোক্তারা, প্রযুক্তিবিদরা এবং সাধারণ মানুষ এই প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন। এক্সপো প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের স্টল সাজিয়েছে, যেখানে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টারসহ আধুনিক সব প্রযুক্তিগত পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যারা সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম স্থাপন এবং এর অর্থনৈতিক সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সৌরবিদ্যুতের রক্ষণাবেক্ষণ, সহজলভ্যতা এবং এর দীর্ঘমেয়াদী সুফল সম্পর্কে দর্শনার্থীদের নানা তথ্য প্রদান করছেন। বিশেষ করে আবাসিক ভবন এবং শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের নিয়মকানুন ও সরকারি প্রণোদনা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন তারা। সোলার এক্সপোকে ঘিরে আয়োজক কমিটি ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে যাতে সাধারণ মানুষ সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির সর্বশেষ উদ্ভাবন সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে।

উদ্বোধনী দিনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আগারগাঁও এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রদর্শনীস্থল পরিদর্শন এবং বিভিন্ন স্টলে প্রযুক্তি পণ্য পর্যবেক্ষণ ছিল উদ্বোধনী দিনের অন্যতম আকর্ষণ। আয়োজক কমিটির প্রত্যাশা, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার উৎসাহিত হবে। আগামী দিনে দেশের প্রতিটি বাড়িতে সৌরশক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই ধরণের প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন সৌরবিদ্যুৎ সেক্টরের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইলন মাস্কের নিউরালিংক প্রযুক্তিতে চিন্তার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ডিজিটাল ডিভাইস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
ইলন মাস্কের নিউরালিংক প্রযুক্তিতে চিন্তার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ডিজিটাল ডিভাইস

প্রযুক্তি বিশ্বে আবারও বড় ধরনের চমক নিয়ে হাজির হয়েছে ইলন মাস্কের নিউরোটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান নিউরালিংক। প্রতিষ্ঠানটি টেলিপ্যাথি নামক এক বিশেষ ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মানুষের ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের ধরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো, হাত বা শরীরের অন্য কোনো অঙ্গের সাহায্য ছাড়াই কেবল মানুষের মস্তিষ্কের চিন্তা ও সংকেত ব্যবহার করে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটারের মতো ডিভাইসগুলো নিয়ন্ত্রণ করা। এখনকার এই ব্যস্ত যুগে যেখানে দ্রুতগতির প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে, সেখানে এই উদ্ভাবনটি বিশেষ করে শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।

নিউরালিংকের প্রকৌশলীরা যে প্রযুক্তিটি তৈরি করছেন, তা মূলত মস্তিষ্কের নিউরন বা স্নায়ুকোষ থেকে আসা বৈদ্যুতিক সংকেতগুলোকে শনাক্ত করতে সক্ষম। এরপর এই সংকেতগুলোকে একটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের উপযোগী ডিজিটাল নির্দেশে রূপান্তর করা হয়। ফলে একজন ব্যবহারকারী যখন কেবল একটি ক্লিক করা বা কার্সর সরানোর চিন্তা করেন, ডিভাইসটি মুহূর্তেই সেই নির্দেশ পালন করে ফেলে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টাইপিং থেকে শুরু করে স্ক্রলিং কিংবা মেনু নেভিগেশনের মতো কাজগুলো কোনো শারীরিক কসরত ছাড়াই সম্পন্ন করা যাবে।

গবেষণা ও উন্নয়নের এই পর্যায়ে নিউরালিংক শুধু টেলিপ্যাথি নিয়েই কাজ করছে না, বরং ব্লাইন্ডসাইট বা দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারের প্রযুক্তির দিকেও নজর দিচ্ছে। এটি এমন একটি ব্যবস্থা যা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের সরাসরি উদ্দীপনার মাধ্যমে বাইরের জগৎ দেখার সুযোগ করে দিতে পারে। যদিও প্রযুক্তিটি এখনো পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে, তবে ইতিমধ্যে এটি বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মস্তিষ্কের সাথে প্রযুক্তির এমন মেলবন্ধন চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

নিউরালিংকের এই উদ্ভাবন কেবল সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য নয়, বরং পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য এটি আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে। এতদিন পর্যন্ত পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিরা যারা তাদের হাত নাড়াতে পারেন না, তারা কম্পিউটার বা যোগাযোগের মাধ্যম থেকে বঞ্চিত ছিলেন। নিউরালিংকের এই ইন্টারফেস তাদের সেই ডিজিটাল জগতের সাথে পুনরায় সংযুক্ত করবে। তবে প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের হাতে আসার আগে এর নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা নিয়ে আরও দীর্ঘমেয়াদী পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মস্তিষ্কের ভেতরে চিপ বসানোর প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব নিয়ে নৈতিক ও চিকিৎসাগত বিতর্কও রয়েছে। সব মিলিয়ে ইলন মাস্কের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প সফল হলে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সাথে প্রযুক্তির মিথস্ক্রিয়া এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে, যেখানে চিন্তাই হবে ডিভাইস পরিচালনার প্রধান মাধ্যম।

মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, মেট্রোরেল চলাচল সাময়িক বন্ধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, মেট্রোরেল চলাচল সাময়িক বন্ধ

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালের দিকে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের দাবির মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো তাদের মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করা। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মিরপুরের প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাদের একটি অংশ রাস্তা অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের পক্ষ থেকেও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের সময় এলাকাটিতে যান চলাচল পুরোপুরি থমকে যায়, যার ফলে অফিসগামী ও সাধারণ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে তারা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসলেও মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাতে সাড়া দিচ্ছে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না। অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়লে যাত্রী নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মিরপুর এলাকার মেট্রোরেল স্টেশনগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনরায় মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। বর্তমানে মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, এর আগে পোশাক খাতের অস্থিরতা নিরসনে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানও এই অস্থিরতা নিরসনে এবং শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা আসায় মিরপুরের জনজীবন এখনো কিছুটা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে সময় নিচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রমিক প্রতিনিধিদের আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকাটির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও থমথমে ভাব বিরাজ করছে। স্থানীয় দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্কতার সাথে খোলা রাখা হয়েছে।

সর্বশেষ
রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপোর শুভ উদ্বোধন ইলন মাস্কের নিউরালিংক প্রযুক্তিতে চিন্তার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে ডিজিটাল ডিভাইস মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, মেট্রোরেল চলাচল সাময়িক বন্ধ সোলার এক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারী ক্রিকেটারদের জন্য স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ বিসিবির শরতের নেদারল্যান্ডসে সাইকেল ভ্রমণ: বুনো প্রকৃতি ও ইতিহাসের মেলবন্ধন কেন নিজেদের সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে ইউরোপের মানুষ? সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে আগুন, ১৫টি বসতঘর পুড়ে গিয়েছে ইরানে মার্কিন হামলার পর জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায় রাঙামাটির পাহাড়ি গ্রামে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত নারী উদ্যোক্তারা
Advertisement