বড়দিন পালনে আবেদনকৃত অর্থের চেয়ে বেশি অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী
খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন যথাযথ উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপনের লক্ষ্যে সরকারিভাবে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উৎসব আয়োজনের জন্য খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দুই কোটি টাকা অনুদানের আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার এই আবেদনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে এবং খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে চাওয়ার প্রেক্ষাপটে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের আবেদনের বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন কোটি টাকা অনুদান প্রদানের অনুমোদন দিয়েছেন। অর্থাৎ, ট্রাস্টের চাহিদা অনুযায়ী দুই কোটি টাকার বিপরীতে অতিরিক্ত এক কোটি টাকা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এই সংক্রান্ত সারসংক্ষেপটি প্রধানমন্ত্রী গত সোমবার দুই নভেম্বর অনুমোদন করেন। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ধর্মীয় উৎসব ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানকে ঘিরে সরকার বরাবরই উদার ও সহযোগী মনোভাব প্রদর্শন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের এই বৃহৎ উৎসবটি যাতে অত্যন্ত আড়ম্বরের সঙ্গে এবং কোনো আর্থিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই পালন করা যায়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী এই বাড়তি অর্থ বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছেন।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই অনুদানের অর্থ খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কাছে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি এই আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ফলে বড়দিন উৎসবকে ঘিরে সারা দেশে যেসব কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, তা আরও ব্যাপক আকারে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উদারতা উৎসবের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রতি বছরই বড়দিনকে সামনে রেখে বিশেষ সরকারি অনুদান প্রদান করা হয়। কিন্তু এবার আবেদনের চেয়ে বেশি অর্থ প্রদানের বিষয়টি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উৎসবের গুরুত্বকে সরকারের পক্ষ থেকে যে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তারই প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আগামী ২৫ ডিসেম্বর সারা দেশে বড়দিন পালিত হবে। এই উৎসবকে ঘিরে গির্জাগুলো সাজানো, প্রার্থনার আয়োজন এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির জন্য এই অনুদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারি এই বাড়তি বরাদ্দের ফলে এবার বড়দিন উদযাপনে বিশেষ মাত্রা যুক্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এখন এই অর্থ তৃণমূল পর্যায়ে উৎসব উদযাপনের সঙ্গে যুক্ত খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বণ্টন করার কার্যক্রম শুরু করবে। বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন মহলে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে এবং উৎসবের প্রস্তুতিতে গতি সঞ্চারিত হয়েছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]