খুঁজুন
, ,

জনবলের ঘাটতিতে কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি নষ্ট

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
জনবলের ঘাটতিতে কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি নষ্ট

একটি সরকারি হাসপাতালের অভ্যন্তরে চলমান জরুরি তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, কর্মী ঘাটতির কারণে বহু কোটি টাকার আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ব্যবহারহীন থেকে নষ্ট হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, প্রতি মাসে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন গর্ভবতী নারী প্রসূতি অস্ত্রোপচারের জন্য এখানে আসেন, তবে যথাযথ জনবলের অভাবে সেবা প্রদান ও যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথভাবে করা যাচ্ছে না।

হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসক জানান, গর্ভবতী নারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি শল্যচিকিৎসার চাহিদা বাড়লেও, ডাক্তারের সংখ্যা, নার্স ও টেকনিশিয়ানের ঘাটতি সরাসরি যন্ত্রপাতির ব্যবহারযোগ্যতা হ্রাস করছে। ফলে, উচ্চমূল্যের যন্ত্রপাতি দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে, যা ধুলো, আর্দ্রতা ও অন্যান্য পরিবেশগত কারণের কারণে দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে কাজ করা একজন টেকনিশিয়ান উল্লেখ করেন, “যন্ত্রপাতি চালু না থাকলে তার মেকানিক্যাল অংশে জং জমে, সফটওয়্যার আপডেট না করা হলে সিস্টেমের ত্রুটি বাড়ে। এ ধরনের সমস্যার সমাধান না করলে যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণভাবে অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়, যা আর্থিক ক্ষতির বড় কারণ।”

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই সমস্যার সমাধান না করা হয়, তবে প্রতি বছর কোটি টাকার সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর বড় ধাক্কা মারবে। তারা সুপারিশ করছেন যে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দ্রুত অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা তৈরি করে এই ঘাটতি দূর করতে হবে।

স্থানীয় স্বাস্থ্য অধিকারীও এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন যে, জনবলের ঘাটতি শুধুমাত্র যন্ত্রপাতির ক্ষতি নয়, রোগীর সেবার মানেও প্রভাব ফেলছে। “যদি যথাযথ কর্মী না থাকে, তবে জরুরি শল্যচিকিৎসা সময়মতো করা সম্ভব হয় না, যা মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক।” তিনি যোগ করেন, “এটি একটি সিস্টেমিক সমস্যা, যা সমাধান না হলে রোগীর মৃত্যুহার বাড়তে পারে।”

হাসপাতালের প্রশাসন ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। তারা অস্থায়ীভাবে কিছু যন্ত্রপাতি অন্য হাসপাতাল থেকে ধার নেওয়ার পরিকল্পনা করছে এবং শীঘ্রই অতিরিক্ত ডাক্তারের নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন প্রকাশ করবে। তদুপরি, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

এই ঘটনার পর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নজরে নিয়ে জরুরি সমন্বয় সভা আহ্বান করেছে। মন্ত্রীর মুখে স্পষ্ট হয়েছে যে, জনবলের ঘাটতি দূর করা এবং স্বাস্থ্যসেবা মান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য সুলভ ও নিরাপদ হতে হবে; এজন্যই আমরা কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেব।”

প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনে খলিফা ওমর (রা.)-এর নীতি ও পদক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
   
প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনে খলিফা ওমর (রা.)-এর নীতি ও পদক্ষেপ

মুসলিম বিশ্বের অন্যতম বিশিষ্ট নেতা খলিফা ওমর (রা.) সম্প্রতি প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনের জন্য তার দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিমালা প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে ধর্মীয় জ্যেষ্ঠতা কোনো প্রশাসনিক পদে যোগ্যতার বিকল্প হতে পারে না। ধর্মীয় জ্ঞান ও নৈতিকতা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ আলাদা বিষয় বলে তিনি জোর দিয়েছেন।

খলিফা ওমর (রা.) বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে সৎ হওয়া স্বাভাবিক, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা এনে দেয় না। তিনি এই দৃষ্টিকোণ থেকে এমন একটি নীতি প্রস্তাব করেছেন যেখানে প্রশাসনিক পদে নিয়োগের সময় ধর্মীয় মর্যাদা নয়, বরং প্রাসঙ্গিক শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিবেচনা করা হবে। এই নীতি অনুসারে, সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর মানদণ্ড স্থাপন করা হবে।

দুর্নীতির মূল কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অযোগ্য ব্যক্তিরা যখন প্রশাসনিক ক্ষমতা পায়, তখন স্বার্থপরতা ও অনৈতিক আচরণ সহজে প্রবেশ করে। তাই, তিনি প্রশাসনিক কাঠামোতে স্বচ্ছতা বাড়াতে, নিয়মিত অডিট ও তদারকি ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং দুর্নীতির অভিযোগের দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য তিনি নিম্নলিখিত কয়েকটি মূল দিকের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন: প্রথমত, সকল প্রশাসনিক পদে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা যাচাই করা হবে; দ্বিতীয়ত, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বতন্ত্র তৃতীয় পক্ষের সংস্থার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে, যাতে কোনো পক্ষপাতিত্ব না থাকে; তৃতীয়ত, নিয়মিতভাবে কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন ও অডিট পরিচালনা করে দুর্নীতির সম্ভাব্য ঝুঁকি সনাক্ত করা হবে; চতুর্থত, দুর্নীতির অভিযোগের জন্য গোপনীয় হটলাইন ও দ্রুত তদন্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

খলিফা ওমর (রা.) এই নীতিগুলোকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যম নয়, বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার উপায় হিসেবে দেখেন। তিনি উল্লেখ করেন, যখন প্রশাসন সৎ ও দক্ষ হবে, তখন সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। এভাবে, ধর্মীয় নৈতিকতা ও আধুনিক প্রশাসনিক পদ্ধতির সমন্বয় ঘটিয়ে দুর্নীতি দমন করা সম্ভব হবে।

এই ঘোষণার পর, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। অনেকেই খলিফা ওমরের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশংসা করে বলেছেন যে, ধর্মীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে সমাজে নৈতিকতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তবে কিছু সমালোচকও উল্লেখ করেছেন যে, নীতি বাস্তবায়নে যথাযথ তদারকি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা না থাকলে তা কেবল কথায়ই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তাই, খলিফা ওমর (রা.)-এর নীতিগুলোকে কার্যকর করতে সরকার ও সমাজের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে।

সারসংক্ষেপে, খলিফা ওমর (রা.) ধর্মীয় জ্যেষ্ঠতা ও প্রশাসনিক যোগ্যতার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেছেন এবং দুর্নীতি দমনের জন্য merit‑based নিয়োগ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। এই নীতি যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে প্রশাসনিক দুর্নীতি কমে সমাজে ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

আশুলিয়ার শিল্পকর্মে শ্রমিকের কর্মস্থল দাবি, পুলিশে ৫০ জন আহত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
আশুলিয়ার শিল্পকর্মে শ্রমিকের কর্মস্থল দাবি, পুলিশে ৫০ জন আহত

ঢাকা বিভাগের সাভার জেলায় অবস্থিত আশুলিয়া শিল্পকেন্দ্রের পোশাক কারখানাগুলোতে কর্মস্থল ফিরে পেতে শ্রমিকদের প্রতিবাদে বিশাল ভিড় গড়ে ওঠে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত এই প্রতিবাদে পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে প্রায় পঞ্চাশজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ও গুলিবিদ্ধ নয় এমন দুজনের অবস্থা গুরুতর, অন্যরা হালকা আঘাত পেয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছে।

পুলিশের জানামতে, কর্মরত কর্মীদের সঙ্গে মেলামেশা করার সময় কিছু কর্মী হিংসাত্মক আচরণ করে, যার ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষা হিসেবে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে দুইজনকে জরুরি সেবার মাধ্যমে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, আর বাকি আহতরা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মৌলিক চিকিৎসা পায়। মোট ৫০জনের মধ্যে অধিকাংশই হালকা আঘাতের শিকার হলেও, এই ঘটনার ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রতিবাদে জড়িত শ্রমিকদের দাবি ছিল তাদের কাজের শর্তাবলী উন্নত করা এবং বেতন বৃদ্ধি। তবে, এই দাবিগুলোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশুলিয়ার বেশ কয়েকটি বড় পোশাক কারখানা তাদের কর্মীদের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। শতাধিক কর্মীকে আজকের দিনটি ছুটি দেওয়া হয়, যাতে তারা নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে পারে এবং পরিস্থিতি শীতল হয়।

শিল্পপুলিশের মতে, ছুটির ঘোষণার পরও বেশিরভাগ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে। কিছু কারখানা কর্মীদের অনুরোধে কাজ চালিয়ে যায়, অন্যদিকে কিছু কারখানা নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। তবে, মোটামুটি উৎপাদন স্তরে কোনো বড় ধাক্কা না পড়ে, এবং বাজারে সরবরাহের ওপর প্রভাব সীমিত থাকে।

আশুলিয়া শিল্পকেন্দ্রে শ্রমিক আন্দোলনের পটভূমি দীর্ঘদিনের অনির্ধারিত বেতন, অতিরিক্ত কাজের সময় এবং নিরাপত্তা মানের অভাবের ওপর ভিত্তি করে। পূর্বে কয়েকটি ছোটখাটো প্রতিবাদ ঘটলেও, এইবারের প্রতিবাদে শ্রমিক সংগঠনগুলো আরও সংগঠিত হয়ে বৃহৎ ভিড় গড়ে তুলেছে। স্থানীয় শ্রমিক ইউনিয়নগুলো দাবি করে যে, সরকার ও শিল্পমালিকদের উচিত শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং কাজের পরিবেশ উন্নত করা।

অধিকাংশ বিশ্লেষক এই ঘটনাকে দেশের শ্রম নীতির পুনর্বিবেচনার সংকেত হিসেবে দেখছেন। সরকারী কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য মধ্যস্থতা দল গঠন করার কথা জানিয়েছেন এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। তবে, শ্রমিকদের দাবির বাস্তবায়ন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এমন সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হতে পারে। ভবিষ্যতে শ্রমিক ও শিল্পমালিকের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে কাজের পরিবেশ উন্নত করা এবং আইনগত কাঠামোকে শক্তিশালী করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন।

সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বাস উল্টে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত, সড়ক-রেলপথ অবরোধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বাস উল্টে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত, সড়ক-রেলপথ অবরোধ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) প্রধান ফটকের সামনে ডালাস পেট্রোল পাম্পের নিকটে ঘটিত এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ বছর বয়সী মাইশা মুশফিরাত নামের এক নারী শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়ে ফেলেছেন। ঘটনাটি মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর সকাল প্রায় ৯টা ২০ মিনিটে ঘটেছে বলে জানা যায়।

সকালবেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলমান একটি বাসের সামনে লরি হঠাৎ করে আঘাত করে, ফলে বাসটি উল্টে যায় এবং ভেতরে বসে থাকা শিক্ষার্থীরা ভয়াবহ আঘাত পায়। মাইশা মুশফিরাতের সঙ্গে দুইজন সহপাঠীও গাড়িতে ছিলেন; তাদের দুজনই গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।

দুর্ঘটনা ঘটার পর সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগ এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি সেবা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে মাইশা মুশফিরাতের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। লরির চালককে ঘটনাস্থলে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং গাড়ির টেকসই অবস্থা যাচাই করা হয়।

দুর্ঘটনা ঘটার পর সীতাকুণ্ডের রেলপথ এবং মহাসড়ক দুটোই অবিলম্বে বন্ধ করা হয়। রেলওয়ে বিভাগ রেললাইন পরিষ্কার করার জন্য অতিরিক্ত কর্মী পাঠায়, আর পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য বিকল্প রুটের ব্যবস্থা করে। এই অবরোধের ফলে সড়ক ও রেলপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসা ও যাত্রীদের ওপর প্রভাব পড়ে। রেলওয়ে ও সড়ক কর্তৃপক্ষের মতে, সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ বজায় থাকবে।

আইআইইউসি কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে শোক প্রকাশ করে এবং মাইশা মুশফিরাতের পরিবারকে সমবেদনা জানায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-প্রধান ড. রশিদুল ইসলাম জানান, “মাইশা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত শিক্ষার্থী ছিলেন; তার আকস্মিক মৃত্যু আমাদের সকলকে শোকাহত করেছে। আমরা তার পরিবারকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করব।” এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের মতে, সীতাকুণ্ডের এই অংশে ট্রাফিক জ্যাম এবং দ্রুত গতি বজায় রাখার প্রবণতা দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে। কিছু বাস চালক ও গাড়ি চালকের মন্তব্যে দেখা যায়, “এই রাস্তায় লরি ও বাসের মেলামেশা প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে; যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এমন ঘটনা আবার ঘটতে পারে।” পুলিশ কর্মকর্তারা তদন্ত চলাকালীন লরির রক্ষণাবেক্ষণ অবস্থা, চালকের লাইসেন্স ও গতি সীমা ইত্যাদি বিষয়গুলো যাচাই করছেন।

দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ট্রাফিক নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগের পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, রেলওয়ে বিভাগ রেললাইন পার্শ্ববর্তী সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য অতিরিক্ত সিগন্যাল ও সুরক্ষা গেট স্থাপন করবে বলে জানিয়েছে।

সর্বশেষ
প্রশাসনিক দুর্নীতি দমনে খলিফা ওমর (রা.)-এর নীতি ও পদক্ষেপ আশুলিয়ার শিল্পকর্মে শ্রমিকের কর্মস্থল দাবি, পুলিশে ৫০ জন আহত সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বাস উল্টে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহত, সড়ক-রেলপথ অবরোধ লরির ধাক্কায় মিনিবাস উল্টে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নিহত, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ, ১০ কিমি যানজট পোশাকশ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতার অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৩ সদস্য গ্রেপ্তার: ডিএমপি ভূল্লীতে প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জনবলের ঘাটতিতে কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি নষ্ট যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের লড়াই, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ডিপফেকের শিকার জাহ্নবী কাপুর ও কীর্তি সুরেশের কঠোর আইন দাবি মিরপুরের কালশীতে এক পুলিশকে গোষ্ঠী আক্রমণ, কয়েকজন মারধর
Advertisement