চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) প্রধান ফটকের সামনে ডালাস পেট্রোল পাম্পের নিকটে ঘটিত এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ বছর বয়সী মাইশা মুশফিরাত নামের এক নারী শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়ে ফেলেছেন। ঘটনাটি মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর সকাল প্রায় ৯টা ২০ মিনিটে ঘটেছে বলে জানা যায়।
সকালবেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলমান একটি বাসের সামনে লরি হঠাৎ করে আঘাত করে, ফলে বাসটি উল্টে যায় এবং ভেতরে বসে থাকা শিক্ষার্থীরা ভয়াবহ আঘাত পায়। মাইশা মুশফিরাতের সঙ্গে দুইজন সহপাঠীও গাড়িতে ছিলেন; তাদের দুজনই গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগ এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি সেবা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে মাইশা মুশফিরাতের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। লরির চালককে ঘটনাস্থলে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং গাড়ির টেকসই অবস্থা যাচাই করা হয়।
দুর্ঘটনা ঘটার পর সীতাকুণ্ডের রেলপথ এবং মহাসড়ক দুটোই অবিলম্বে বন্ধ করা হয়। রেলওয়ে বিভাগ রেললাইন পরিষ্কার করার জন্য অতিরিক্ত কর্মী পাঠায়, আর পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য বিকল্প রুটের ব্যবস্থা করে। এই অবরোধের ফলে সড়ক ও রেলপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসা ও যাত্রীদের ওপর প্রভাব পড়ে। রেলওয়ে ও সড়ক কর্তৃপক্ষের মতে, সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ বজায় থাকবে।
আইআইইউসি কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে শোক প্রকাশ করে এবং মাইশা মুশফিরাতের পরিবারকে সমবেদনা জানায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-প্রধান ড. রশিদুল ইসলাম জানান, “মাইশা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত শিক্ষার্থী ছিলেন; তার আকস্মিক মৃত্যু আমাদের সকলকে শোকাহত করেছে। আমরা তার পরিবারকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করব।” এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের মতে, সীতাকুণ্ডের এই অংশে ট্রাফিক জ্যাম এবং দ্রুত গতি বজায় রাখার প্রবণতা দুর্ঘটনার মূল কারণ হতে পারে। কিছু বাস চালক ও গাড়ি চালকের মন্তব্যে দেখা যায়, “এই রাস্তায় লরি ও বাসের মেলামেশা প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে; যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এমন ঘটনা আবার ঘটতে পারে।” পুলিশ কর্মকর্তারা তদন্ত চলাকালীন লরির রক্ষণাবেক্ষণ অবস্থা, চালকের লাইসেন্স ও গতি সীমা ইত্যাদি বিষয়গুলো যাচাই করছেন।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ট্রাফিক নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগের পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, রেলওয়ে বিভাগ রেললাইন পার্শ্ববর্তী সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য অতিরিক্ত সিগন্যাল ও সুরক্ষা গেট স্থাপন করবে বলে জানিয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ । ৪:১৪ অপরাহ্ণ