খুঁজুন
, ,

বেপরোয়া গতি কেড়ে নিল প্রাণ, মোটরসাইকেল আরোহীসহ নিহত দুই

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
বেপরোয়া গতি কেড়ে নিল প্রাণ, মোটরসাইকেল আরোহীসহ নিহত দুই

মহাসড়কে বেপরোয়া গতির বলি হলেন মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মহাসড়কে আবারও বেপরোয়া গতির বলি হতে হলো সাধারণ মানুষকে। অত্যন্ত মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় চিকিৎসকরা শঙ্কিত বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোটরসাইকেলটি মহাসড়কের পাশ দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি দ্রুতগামী যানবাহনের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের প্রচণ্ড শব্দে আশপাশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে রাস্তার একপাশে ছিটকে পড়ে। এর ফলে আরোহীদের মধ্যে দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে আহতাবস্থায় অন্য দুইজনকে উদ্ধার করেন এবং জরুরি সেবা নম্বরে কল করে অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্য চান। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক যানবাহনটির চালক দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বিঘ্নিত হয়, তবে পুলিশের তৎপরতায় দ্রুত তা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি এবং অসতর্কতার কারণেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে অন্য কোনো যানবাহনের ত্রুটি ছিল কি না, তা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

সড়ক ও মহাসড়কে এই ধরনের দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, চালকদের অসতর্কতা, বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে জীবন দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য মহাসড়কগুলো ক্রমশ অনিরাপদ হয়ে উঠছে। হেলমেট পরিধান বা গতিসীমা মেনে চলার মতো সাধারণ নিয়মগুলো না মানার ফলে অনেক সময় ছোটখাটো ভুলও বড় ধরণের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মহাসড়কে পুলিশি টহল আরও জোরদার করা এবং গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। অন্যথায় এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

বর্তমানে আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পুলিশ পলাতক চালককে শনাক্ত করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে। পাশাপাশি সাধারণ চালকদের উদ্দেশ্যে বারবার সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হলেও বেপরোয়া মনোভাবের পরিবর্তন না হওয়ায় এমন অকাল মৃত্যুর মিছিল বাড়ছেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও কার্যকরী পদক্ষেপই কেবল এমন ভয়াবহতা কমিয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
   
শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে

তীব্র অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ রনিল বিক্রমাসিংহে। দেশটির পার্লামেন্টের সদস্যদের ভোটে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের দেশত্যাগের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই নির্বাচন শ্রীলঙ্কার রাজনীতির নতুন মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। টানা ছয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বিক্রমাসিংহে এখন দেশের শীর্ষ নির্বাহী পদে আসীন হলেন।

নির্বাচন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে দেশটির পার্লামেন্টের অভ্যন্তরে ভোটাভুটির মাধ্যমে। রাজাপাকসে পরিবারের ঘনিষ্ঠ দল হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক জোটের সমর্থন নিয়ে তিনি এই জয় নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগে প্রবল গণআন্দোলনের মুখে গোতাবায়া রাজাপাকসে তার সরকারি বাসভবন ত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে বিদেশে পালিয়ে যান। রাজাপাকসের সেই দেশত্যাগের ঘটনা এবং তার পদত্যাগের পর শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে এক বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। সেই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যে সংবিধান অনুযায়ী নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিক্রমাসিংহের জয়লাভের বিষয়টি এমন এক সময়ে এল, যখন দেশটি তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, খাদ্য ও ওষুধের অভাব এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিক্রমাসিংহের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো জনরোষ প্রশমিত করা এবং দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রনিল বিক্রমাসিংহের এই জয় তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের একটি নতুন অধ্যায়। তিনি একদিকে যেমন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে রাজাপাকসে পরিবারের মিত্র হিসেবে তার এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ দেশটির একাংশের মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। যারা গত কয়েক মাস ধরে রাজাপাকসে বিরোধী আন্দোলনে রাজপথে ছিলেন, তাদের মধ্যে বিক্রমাসিংহের নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে দেশের স্থিতিশীলতা ফেরানোর ক্ষেত্রে পার্লামেন্টের এই সিদ্ধান্তকে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রেসিডেন্ট বিক্রমাসিংহেকে দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ঋণ সহায়তা নিয়ে সমঝোতা করতে হবে। দেশটিতে শান্তি বজায় রাখা এবং রাজপথের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করাও তার জন্য বড় পরীক্ষা। দেশটির স্পিকার আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, গোতাবায়ার পদত্যাগের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পন্ন হবে, যা এখন বাস্তবে রূপ নিল। এখন দেখার বিষয়, নতুন এই প্রেসিডেন্ট কত দ্রুত শ্রীলঙ্কার বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারেন।

পত্রিকার দাম বাড়াল নোয়াব, ২৫ জুলাই থেকে কার্যকর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
পত্রিকার দাম বাড়াল নোয়াব, ২৫ জুলাই থেকে কার্যকর

দেশের বাজারে ছাপা কাগজের আকাশচুম্বী দাম এবং প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদপত্রের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা নোয়াব-এর সদস্যভুক্ত সব পত্রিকার বিক্রয়মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৫ জুলাই থেকে প্রতিটি পত্রিকার সাধারণ সংস্করণের দাম ন্যূনতম দুই টাকা করে বৃদ্ধি পাবে।

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদপত্রের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত নিউজেরিন বা ছাপা কাগজের দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। করোনা অতিমারির সময় থেকেই বিশ্ববাজারে কাগজ তৈরির মণ্ড বা পাল্পের সংকট তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। এর ফলে মুদ্রণ শিল্পে চরম অস্থিরতা দেখা দেয় এবং প্রকাশনা ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে এবং সংবাদপত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। নোয়াব সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে কাগজের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে পত্রিকার মান ও নিয়মিত প্রকাশনা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাজারে কাগজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে গত কয়েক মাস ধরেই প্রকাশনা শিল্পে সংকট ঘনীভূত হচ্ছিল। বিশেষ করে সংবাদপত্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন যে, তাদের উৎপাদনে যে পরিমাণ খরচ বেড়ে গেছে, তা সংবাদপত্রের বর্তমান বিক্রয়মূল্য দিয়ে পুষিয়ে নেওয়া অসম্ভব। এই বাস্তবতায় পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে নোয়াব। সংগঠনের সদস্যদের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সব সংবাদপত্র ২৫ জুলাই থেকে নির্ধারিত বাড়তি মূল্যে বিক্রি হবে।

সংবাদপত্রের দাম বাড়ানোর বিষয়টি কেবল এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কৌশল নয়, বরং দেশের সংবাদমাধ্যম শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুদ্রণ খরচ ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায়, টিকে থাকার খাতিরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পত্রিকাটি হাতে পাওয়ার জন্য সাধারণ পাঠককে এখন থেকে কিছুটা বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে সংবাদপত্রের গুণগত মান ও সংবাদ পরিবেশনে কোনো আপস করা হবে না বলেই সংশ্লিষ্ট মহল আশাবাদী।

উল্লেখ্য, সংবাদপত্র শিল্পের সংকটের কথা বেশ কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন ফোরামে আলোচিত হচ্ছিল। বিশেষ করে নিউজপ্রিন্টের দাম লাগামহীন হওয়ার কারণে ছোট-বড় সব ধরনের পত্রিকা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিল। অনেক পত্রিকা ইতিমধ্যে পৃষ্ঠা সংখ্যা কমানোসহ ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করেছে। সবশেষে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নোয়াব সদস্যভুক্ত সব পত্রিকা অভিন্নভাবে দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিল। আশা করা হচ্ছে, এই মূল্য সমন্বয়ের ফলে সংবাদপত্র শিল্প পুনরায় কিছুটা স্বস্তিতে ফিরতে পারবে এবং পাঠকের কাছে সঠিক ও নিরপেক্ষ সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

দেশের বর্তমান অর্থনীতিতে যেসব মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি, তা স্থগিতের পরামর্শ অর্থনীতিবিদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
   
দেশের বর্তমান অর্থনীতিতে যেসব মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি, তা স্থগিতের পরামর্শ অর্থনীতিবিদের

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে সরকারের উচিত সেইসব বড় বা মেগা প্রকল্পগুলো আপাতত স্থগিত রাখার চিন্তা করা, যেগুলোর বাস্তবিক বা ভৌত নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি। বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় অপ্রয়োজনীয় বা দেরি করা যায় এমন ব্যয় সংকোচনের ওপর জোর দিয়ে এই পরামর্শ দিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, সরকার যদি এখনো শুরু হয়নি এমন প্রকল্পগুলো এখনই বন্ধ বা স্থগিত না করে, তবে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রকল্পের কাজ এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বা এখনো কোনো ধরনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়নি, সেগুলোতে বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ না করে সেই অর্থ অন্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থাকে, কিন্তু বর্তমান সময়ে মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য বিপুল পরিমাণ বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়া এবং বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার আভাস থাকায় ঋণের বোঝা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে সাধারণত ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা ধরনের প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজ অনেক সময়সাপেক্ষ হয়। যেসব প্রকল্পের কাজ এখনো এই পর্যায় বা তার নিচে রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে নতুন করে বিনিয়োগের পরিবর্তে বর্তমান সংকটময় সময়ে অর্থের অপচয় রোধ করা জরুরি। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, রাষ্ট্রের স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সরকারি ব্যয়ে শৃঙ্খলা আনা এখন সময়ের দাবি। যেসব প্রকল্পের প্রয়োজন এখনকার মতো নেই, সেগুলো স্থগিত করলে সরকারের ওপর থেকে আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও কমবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও নানা সময়ে সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন করার কথা বলা হয়েছে। তবে কেবল নির্দেশনা নয়, বরং কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে মেগা প্রকল্পের তালিকা পুনরায় যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। অতীতে দেখা গেছে, অনেক বড় প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বারবার বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত বোঝা তৈরি করেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তাই নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল নীতি অবলম্বন করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কেবল মেগা প্রকল্প নয়, বরং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা প্রয়োজন। নাগরিক সেবার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয় এমন প্রকল্পগুলো আপাতত তালিকা থেকে বাদ দিলে বা স্থগিত রাখলে তা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে। অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন প্রয়োজন সুচিন্তিত পরিকল্পনা এবং যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।

সর্বশেষ
শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে পত্রিকার দাম বাড়াল নোয়াব, ২৫ জুলাই থেকে কার্যকর দেশের বর্তমান অর্থনীতিতে যেসব মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি, তা স্থগিতের পরামর্শ অর্থনীতিবিদের ট্রাকের ধাক্কায় আহত রাবি শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরার মৃত্যু বেপরোয়া গতি কেড়ে নিল প্রাণ, মোটরসাইকেল আরোহীসহ নিহত দুই পূর্বাচলে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই বন্ধুর প্রাণহানি, চিকিৎসাধীন এক জার্মানির ডুসেলডর্ফে প্রবাসী বাঙালিদের বর্ণিল শারদীয় উৎসব চট্টগ্রামে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযান, ১০টির বেশি মোবাইল ফোন জব্দ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস-প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে আহত ৫ শনিবার ডিআরইউতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘এমআরইউ মিডিয়া ডে ২০২৬’
Advertisement