সাভারে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ

ঢাকার সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ওই মাদ্রাসার মালিক ও প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে। এই জঘন্য অপরাধের ঘটনায় মাদ্রাসাছাত্রীর পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বুধবার ঘটেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন মাওলানা মো. আব্দুল বারী, যিনি ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এই ঘটনার সময় প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী অভিযুক্তকে সহায়তা করেছেন এবং বিষয়টি গোপন রাখার জন্য শিশুটিকে হুমকি দিয়েছেন। শিশুটির পরিবার অভিযোগ করেছে যে, ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং তাকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি এখন প্রধান বিবেচ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. আব্দুল বারী আত্মগোপনে রয়েছেন। তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের কয়েকটি দল মাঠে কাজ করছে। তার অবস্থান শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা নিয়েও কাজ চলছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এই মাদ্রাসায় এমন কর্মকাণ্ডে তারা হতবাক। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যখন শিক্ষার্থীরা জ্ঞানের আলো অন্বেষণ করতে যায়, সেখানে এমন অনভিপ্রেত ও জঘন্য ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশু ও নারী নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই মামলার তদন্তে কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শনের সুযোগ নেই। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে খুব দ্রুত গ্রেফতার করা হবে বলে পুলিশ আশ্বস্ত করেছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং তাকে মানসিকভাবে সুস্থ করে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কাউন্সেলিং ও সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন সমাজকর্মীরা।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে। পালিয়ে থাকা অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশের সীমান্ত দিয়ে যেন পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর কালিমা লেপন করে। তাই বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি করে অপরাধীকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোই এখন পুলিশের মূল লক্ষ্য।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর মধ্যকার পবিত্র সম্পর্ককে পুঁজি করে যারা এমন অপরাধ করে, তাদের সামাজিক ও আইনগতভাবে একঘরে করে দেওয়া জরুরি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন