খুঁজুন
, ,

প্রকৃতি জুড়ে রাজত্ব ‘মধুমাস’ জ্যৈষ্ঠের

রিপন কান্তি গুণঃ নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ মে, ২০২৫, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
প্রকৃতি জুড়ে রাজত্ব ‘মধুমাস’ জ্যৈষ্ঠের

ষড়ঋতুর বাংলায় জ্যৈষ্ঠ মাস আসে হরেক রকম ফলের সমাহার নিয়ে। সারা বছর বিদেশি ফলে দাপট থাকলেও জ্যৈষ্ঠ মাসে পুরো বাজার থাকে দেশীয় ফলের নিয়ন্ত্রণে। কেননা এ সময়ে বাঙালির পছন্দের দেশীয় ফলের প্রতি তীব্র আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায়। তাই তো পল্লী কবি জসিম উদ্দিন দেশীয় ফলের প্রতি শৈশবের অফুরন্ত ভালবাসা জড়িয়ে ‘মামার বাড়ি’ কবিতায় লিখেছেন- “ঝড়ের দিনে মামার দেশে; আম কুড়াতে সুখ; পাকা জামের শাখায় উঠিরঙিন করি মুখ।” গ্রীষ্মের খরতাপে জ্যৈষ্ঠের প্রকৃতি আমাদের জন্য ডালিতে সাজিয়ে রেখেছে- আম, লিচু, কাঁঠাল, জাম, আনারস, করমচা, জামরুল, আতা, গাব, আমড়া, তরমুজ, বাঙি, বেল, তালশাঁস, খেজুর ইত্যাদি দেশীয় রসালো ও সুস্বাদু ফল দিয়ে। এক সাথে এত ফলের আধিক্য অন্য কোনো মাসে নজরে পড়ে না। আর তাই জ্যৈষ্ঠকেই বাঙালি ‘মধুমাস’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

সপ্তাহ জুড়ে নেত্রকোনা জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখাগেছে, উপজেলা সদরসহ প্রতিটি গ্রামের গাছে গাছে ঝুলছে বিভিন্ন রঙের পাকা আম। কোনোটা সিঁদুরে, কোনোটা হলদে, কোনোটা সবুজ কোনোটা আবার উভয়েরই মিশ্রণে রাঙানো।  একেক আমের একেক নাম। আর আমই হল জ্যৈষ্ঠের প্রধান অমৃত ফল। চারিদিকে থরে বিথরে সাজানো নানা ফলের সমারোহে বিশেষ করে আমাদের প্রকৃতিতে জ্যৈষ্ঠ মাসে ফলের রাজা আম।জ্যৈষ্ঠ মাসে পূর্ণতা পেয়ে বিনা বাতাসে ধুপধাপ ঝরে পড়ছে। জাতীয় ফল কাঁঠাল হলুদ বর্ণে ঝুলছে গাছের ডালে। সাথেই পেকেছে লিচু। লিচুর গাছে দিনে পাখি আর রাতে বাদুড়ের কোলাহল। কালো পাকা জামও থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ পাতার ফাঁকে। সেই জামের মধুর রসে মুখ রঙিন করার স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছে মনে।

বারহাট্টা সরকারি ডিগ্রি কলেজের বাংলা সাহিত্য বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক লুৎফুন্নাহার লায়লার সাথে কথা বললে তিনি সকালের সময়কে বলেন, বাংলা বর্ষ পঞ্জিকার শাসন অনুযায়ী বছরের প্রথম মাস বৈশাখের বিদায়ে প্রকৃতির বুকে জ্যৈষ্ঠের শুরু। গ্রীষ্মের শেষ মাস জ্যৈষ্ঠ, এ মাসে ফল পেকে রসের ভারে টইটম্বুর হয়। গাছ থেকে সদ্য পেড়ে আনা তাজা ফলের পরশ অসাধারণ এক অনুভূতির জন্ম দেয়। এ মধুমাসে তাজা ফলের স্বাদ নিতে কে না চায়! জ্যৈষ্ঠের সঙ্গে ‘মধুমাস’ বিশেষণটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। কারণ এ মাসে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, তরমুজ, লটকন, গোলাপ জাম, বেতফল, গাব, জামরুল, আতাফলসহ নানা ধরনের রসালো ফল প্রকৃতি আমাদের উপহার দেয়। ফলের এই ম-ম ঘ্রাণে জ্যৈষ্ঠ হয়ে উঠে মধুময়।

তিনি আরও বলেন, জ্যৈষ্ঠের সঙ্গে ‘মধুমাস’ শব্দটি বসানো নিয়ে অনেক দ্বিমত রয়েছে। কারণ বাংলা অভিধান অনুযায়ী, ‘চৈত্র মাস’ হচ্ছে মধুমাস। রামলাল শীলের খনার বচনেও মধুমাস বলতে চৈত্র মাসকেই বোঝানো হয়েছে। তার খনার বচনে- “মধুমাসে প্রথম দিনে হয় যেই বার। রবি শোষে মঙ্গল বর্ষে, দুর্ভিক্ষ বুধবার।। সোম শুক্র শুরু আর, পৃথ্বী সয় না শস্যের ভার।। পাঁচ শনি পায় নীনে। শকুনি মাংস না খায় ঘুণে।” প্রাচীন কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীও চৈত্র মাস অর্থেই ‘মধুমাস’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তার ভাষায়-  “মধুমাসে মলয় মারুত মন্দ মন্দ। মালতীর মধুকর পিয়ে মকরন্দ।” এদিকে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে বৈষ্ণব পদাবলি রচিয়তা চণ্ডীদাসও চৈত্র মাস বা বসন্তকাল অর্থে মধুমাস শব্দটি ব্যবহার করেছেন- “মধুমাস আপায় মাধব পরশে।” এখানে আপায় মানে ‘গত হয়’। অনেক দ্বিমত থাকা স্বত্বেও ফলপ্রিয় বাঙালি জ্যৈষ্ঠ মাসকেই ‘মধুমাস’ বলে চিনে আসছে। তাদের মুখে, জিভে ও বিশ্বাসে জ্যৈষ্ঠই যেন ‘মধুমাস’।

দেনিক ইত্তেফাক পত্রিকার জেলা সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পালের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, চৈত্র-বৈশাখের খরতাপের মাঝে চলে আসে অনেক ফল ফলারী। আর জ্যৈষ্ঠে আম, কাঁঠাল, লিচুর আগমন দিয়ে তা পরিপূর্ণতা লাভ করে। গ্রীষ্ম মৌসুমে খরাক্লিষ্ট মানুষের তৃষ্ণা মেটাতে প্রকৃতি আমাদের উপহার দেয় নানা জাতের বাহারি রসালো সুস্বাদু ফল। জ্যৈষ্ঠ মাসেকে ফলের মাস হিসাবে বিবেচনা করেই আমাদের দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকে গ্রীষ্মকালীন ছুটি। সাধারণভাবে ‘আম-কাঁঠালের ছুটি’ হিসেবে এর বিশেষ পরিচিতি। কোথাও কোথাও আবার এই মধুমাসকে কেন্দ্র করে মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনিরা ‘নাইওর’ যায়, তারা আপ্যায়িত হয় চিরচেনা রসালো সব ফলে। বিশেষ করে আম-কাঁঠালের সাথে অনেক ক্ষেত্রেই যোগ হয় চিঁড়া-মুড়ি, খই সাথে দুধ-দই। রঙবাহারি ফল আর সুমিষ্ট ঘ্রাণসমৃদ্ধ জ্যৈষ্ঠ তাই বাঙালি জীবনে এক অনন্য মাস হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে।

ঋণের দায়ে ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিকের আত্মহনন: চিরকুটে ছয় সুদখোরের নাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ঋণের দায়ে ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিকের আত্মহনন: চিরকুটে ছয় সুদখোরের নাম

গাইবান্ধায় ভয়াবহ ঋণের চাপে পিষ্ট হয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক বিপুল নামের এক চা ব্যবসায়ী মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসার খাতিরে বিভিন্ন সময়ে তিনি বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে চড়া সুদে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ঋণের আসল ও সুদের পাহাড়সম বোঝা বহন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত পাওনাদারদের ক্রমাগত চাপ ও হুমকির মুখে বিপর্যস্ত হয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন। রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।

ঘটনার পর আবু বক্কর সিদ্দিকের কাছে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে, যা এই আত্মহত্যার করুণ চিত্র সামনে এনেছে। চিরকুটটিতে তিনি স্পষ্টভাবে ছয়জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরেই বিপুলকে সুদের টাকার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। শুধু চাপ দিয়েই তারা ক্ষান্ত হননি, তাকে নিয়মিত ভয়ভীতি প্রদর্শনও করা হচ্ছিল। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী তার চিরকুটে আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছিলেন যে, ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারলে এক পর্যায়ে তাকে ভিটেমাটি হারাতে হতে পারে। এই চরম মানসিক অস্থিরতা ও সামাজিক লাঞ্ছনার ভয়ে তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীর এই আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দাবি তুলেছেন, যারা সুদের ব্যবসা করে সাধারণ মানুষকে এভাবে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ ধরনের মহাজনদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে আরও অনেক ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষ একইভাবে নিঃস্ব হওয়ার পাশাপাশি জীবন হারাবেন বলে মনে করছেন অনেকে। রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং চিরকুটে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ব্যবসায়ী বিপুলের পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে। পুরো ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার এই করুণ পরিণতি নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহল আশা করছে, চিরকুটে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন চড়া সুদের ফাঁদে পড়ে আর কাউকে অকালে প্রাণ দিতে না হয়।

সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতি বিশ্বজুড়ে। বিপুলসংখ্যক পর্যটক প্রতিবছর কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন সৈকতে ভিড় জমান। তবে এই পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রায়শই ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি, যা একটি পর্যটনবান্ধব দেশের জন্য কাম্য নয়। সমুদ্রসৈকতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পর্যটকদের সচেতনতার অভাব এই প্রাণহানির পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও পর্যটকদের মধ্যে তা মানার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে কম, যার ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।

পর্যটনশিল্পের প্রসারে থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের অনেক দেশ যে সাফল্য দেখিয়েছে, তার মূলে রয়েছে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে দেখা যায়, সৈকতের বিশাল এলাকা জুড়ে পর্যাপ্ত লাইফগার্ডের অভাব, সতর্কতামূলক সংকেত অমান্য করার প্রবণতা এবং জরুরি উদ্ধারকাজে ধীরগতি পর্যটন অভিজ্ঞতাকে ম্লান করে দিচ্ছে। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও কঠোর করা প্রয়োজন। কেবল আইন প্রয়োগ নয়, পর্যটকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সমুদ্রে নামার আগে জোয়ার-ভাটার সময় সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং লাইফগার্ডের নির্দেশনা মেনে চলা জীবনের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ও দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো দরকার। সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে সতর্কবার্তা বড় করে টাঙানো এবং পর্যটকদের নিয়মিত সচেতন করার প্রচারণা চালানো জরুরি। অসচেতন পর্যটকদের সামলাতে ও দুর্ঘটনা রোধে টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হলে প্রাণহানির ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে। পর্যটন বিকাশের প্রাথমিক শর্তই হলো নিরাপত্তা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে পর্যটনশিল্পের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ ও বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করা কঠিন হবে।

আমাদের পর্যটন খাতের সম্ভাবনার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হলে সৈকতের অব্যবস্থাপনা দূর করার কোনো বিকল্প নেই। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির পাশাপাশি পর্যটকদের সচেতনতা তৈরিতে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ পর্যটন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পর্যটক—এই তিন পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সৈকত এলাকাগুলোকে পর্যটকদের জন্য আরও বেশি নিরাপদ ও আনন্দময় করে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এখনই দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রাণের বিনিময়ে বিনোদন—এই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে একটি নিরাপদ পর্যটন সংস্কৃতি গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। যথাযথ পদক্ষেপ ও জনসচেতনতাই পারে সৈকতের নিরাপত্তা-ঘাটতি দূর করে পর্যটন খাতের হারানো সম্ভাবনা ফিরিয়ে আনতে।

মুখে বরফ ঘষলে কি সত্যিই ওপেন পোরস কমে? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মুখে বরফ ঘষলে কি সত্যিই ওপেন পোরস কমে? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে রূপচর্চার নানান ঘরোয়া উপায় বা হ্যাকস আমাদের হাতের নাগালে চলে এসেছে। এসবের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো মুখে বরফ ঘষা। অনেক রূপচর্চাবিদ বা ইনফ্লুয়েন্সার দাবি করেন, প্রতিদিন নিয়ম করে মুখে বরফের টুকরো ঘষলে ত্বকের ওপেন পোরস বা রোমকূপের ছিদ্র ছোট হয়ে আসে এবং ত্বকে প্রাকৃতিক জেল্লা ফিরে পাওয়া যায়। কিন্তু এই ধারণাটি কি আদৌ বিজ্ঞানসম্মত, নাকি এটি নিছকই একটি ইন্টারনেটের মিথ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতামত বিশ্লেষণ করলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে।

চিকিৎসকদের মতে, আমাদের ত্বকের রোমকূপের আকার জিনগত কারণ বা হরমোনের পরিবর্তনের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। চাইলেই বরফ ঘষে এই প্রাকৃতিক ছিদ্রগুলোকে চিরতরে ছোট করে ফেলা সম্ভব নয়। যখন আমরা ত্বকে বরফ ঘষি, তখন ঠান্ডার প্রভাবে সাময়িকভাবে রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়। এর ফলে ত্বক কিছুটা টানটান মনে হতে পারে এবং রোমকূপগুলোও সংকুচিত দেখায়। তবে এই প্রভাবটি অত্যন্ত সাময়িক। বরফ সরিয়ে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ত্বক স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসে এবং রোমকূপগুলো আবার আগের অবস্থায় চলে যায়। অর্থাৎ, এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করছেন যে, বরফ ব্যবহারের পদ্ধতি ভুল হলে উপকারের চেয়ে অপকার হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সরাসরি ত্বকে বরফ ঘষা অনেকের ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হতে পারে। বরফের অতিরিক্ত শীতলতা ত্বকের সূক্ষ্ম টিস্যুগুলোর ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিকর হতে পারে। এমনকি দীর্ঘক্ষণ বরফ ধরে রাখলে বরফপোড়া বা কোল্ড বার্ন হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এছাড়া রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও সরাসরি বরফের প্রয়োগ বিপজ্জনক হতে পারে।

রূপচর্চার ক্ষেত্রে কোনো নতুন পদ্ধতি অনুসরণের আগে তা ত্বকের প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা জরুরি। বরফ ব্যবহারের যে চলটি জনপ্রিয় হয়েছে, তা মূলত ত্বকের সাময়িক সতেজতা বা ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে, তবে ওপেন পোরস বা ত্বকের গভীর কোনো সমস্যার সমাধানে এটি কার্যকরী নয়। ত্বকের যত্নে সঠিক ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং রুটিন অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

পরিশেষে বলা যায়, ইন্টারনেটে ছড়ানো সব রূপচর্চার টিপস অন্ধভাবে অনুসরণ করা উচিত নয়। বরফ ঘষলে ত্বক সাময়িকভাবে সজীব মনে হতে পারে, কিন্তু এটিকে ওপেন পোরস দূর করার কোনো জাদুকরী ওষুধ হিসেবে দেখা ভুল। যদি ত্বকের রোমকূপের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগের কারণ থাকে, তবে কোনো বিশেষজ্ঞ চর্মরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ঘরোয়া উপায়ের নামে ভুল অভ্যাস ত্বকের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিসাধন করতে পারে, তাই যে কোনো রুটিন শুরুর আগে সজাগ থাকা প্রয়োজন।

সর্বশেষ
ঋণের দায়ে ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিকের আত্মহনন: চিরকুটে ছয় সুদখোরের নাম সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান মুখে বরফ ঘষলে কি সত্যিই ওপেন পোরস কমে? বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন ধারাভাষ্য কক্ষের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে ইয়ান বিশপের বার্তা শীতলক্ষ্যার পাড়ে রাতের বেলা ডাঙায় উঠে আসা রহস্যময় মাছের সন্ধানে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য ও চীনের চ্যালেঞ্জ: একটি বৈশ্বিক পরিবর্তনের সমীকরণ আজকের খেলার সূচি: টিভিতে চোখ রাখবেন যেভাবে (২ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যা নামলেই ছাতিমের সুবাস কেন ছড়ায় বাতাসে বেলে মাছের বালির নিচে লুকিয়ে থাকার রহস্য মস্কোর পার্কে হামলার ছক, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কিশোর আটক
Advertisement