খুঁজুন
, ,

১৪৩১ বঙ্গাব্দের শেষ দিন, আজ চৈত্র সংক্রান্তি

রিপন কান্তি গুণঃ নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
১৪৩১ বঙ্গাব্দের শেষ দিন, আজ চৈত্র সংক্রান্তি

বাংলা বর্ষপঞ্জিকার ১৪৩১ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসের শেষ দিন আজ। আজ চৈত্র সংক্রান্তি। সংক্রান্তি মানে হিন্দু দিনপঞ্জির মাসের শেষ দিন। চৈত্র মাসের শেষ দিনকে তাই চৈত্র সংক্রান্তি বলা হয়। আবহমান বাংলায় চিরাচরিত বিভিন্ন ঐতিহ্যকে ধারণ করে আসছে এই চৈত্র সংক্রান্তি। ঋতুরাজ বসন্তকে বিদায় জানিয়ে বাঙালির মাঝে হাজির হচ্ছে আরো একটি নতুন বছর। নতুন বছরের আগমনী সুরে বাংলা বর্ষপঞ্জিকায় সোমবার পহেলা বৈশাখ, নতুন বর্ষ- ১৪৩২। বাঙালি জাতি মেতে উঠবে বর্ষবরণ উৎসবে। নতুন দিনের নতুন বার্তা নিয়ে বৈশাখ আসবে বাঙালির ঘরে ঘরে।

বাংলা বর্ষপঞ্জিকায় বছরের শেষ দিন হিসেবে পুরাতনকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণ করার জন্য প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে থাকে বিভিন্ন আচার, অনুষ্ঠান ও উৎসবের আয়োজন। বিশেষ করে বাঙালি সনাতনীসহ, ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী (গারো, হাজং, কোচ, বানাই, ডালু, মান্দাই, হদি) এ বিশেষ দিনটি নিজস্ব ধর্মীয় আচারে পালন করে আসছে। শহরের যান্ত্রিক সভ্যতায় চৈত্র সংক্রান্তির রীতি রেওয়াজ কম পালন হলেও বারহাট্টা উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে নানান ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি পালন হয়। মনে করা হয়, চৈত্র সংক্রান্তিকে অনুসরণ করেই পহেলা বৈশাখ উদযাপনের এত আয়োজন। তাই চৈত্র সংক্রান্তি হচ্ছে বাঙালির বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব। এদিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শাস্ত্র মেনে স্নান, ব্রত, উপবাস করে থাকেন। নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন।

এদিকে নেত্রকোনার বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এ দিনে পালন করে ‘বৈসাবি’ উৎসব। নানা আয়োজনে চলছে চৈত্র সংক্রান্তির পার্বণ আবার ঠিক একই সঙ্গে দুয়ারে কড়া নাড়ছে নতুন বছরের শুরু পহেলা বৈশাখ। বৈশাখকে বরণ করতে সবখানেই এখন চলছে সাজসাজ রব।

এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলার বাউসী অর্দ্ধচন্দ্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (স্কুল ও কলেজ) বাংলা বিষয়ের সিনিয়র প্রভাষক বিজয় চন্দ্র দাস বলেন, ছোটবেলা থেকেই চৈত্র সংক্রান্তির দিনে সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী এখনও আমাদের এলাকায় প্রকৃতি থেকে কুড়িয়ে আনা বিভিন্ন তেতো শাক, চৈতালি মৌসুমের সবজি, পাতা, মুড়া ইত্যাদি ও তার সঙ্গে দুপুর বেলার খাবারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ‘চৌদ্দ’ রকমের শাক এবং তার সাথে কাঁচা আম তো থাকবেই। এ দিন নিরামিষ খেয়ে চৈত্র সংক্রান্তি পালন করার রীতি প্রচলিত আছে। চৈত্র সংক্রান্তির মহিমা এখানেই। তিনি আফসোস করে বলেন, আমাদের বাপ-দাদার সময়ে যা দেখেছি, কিংবা মায়েরা যে সব শাক সবজি দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি করতেন, তা এখন নাই। রাস্তাঘাট হয়েছে, বড় বড় দালান কোঠা হয়েছে, তাই অনাবাদী শাক সবজি আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, লোক প্রথা অনুযায়ী, চৈত্র সংক্রান্তিতে বিশেষ খাবার ছাতু, চিড়া, দই, মুড়ি, খই, তিল ও নারিকেলের নাড়ু ইত্যাদি খেতে হবে। অথচ কালের বিবর্তনে বাঙালি সনাতনীদের এসব খাবারের আর দেখা মিলে না।

বারহাট্টা উপজেলা সদরের পুরোহিত রুপক চক্রবর্তীর সাথে কথা বললে চৈত্র সংক্রান্তি সম্পর্কে তিনি জানান, লোক কথা অনুযায়ী, বাংলা পঞ্জিকার চৈত্র মাসের নামকরণ করা হয়েছিল ‘চিত্রা’ নক্ষত্র হতে। আদি গ্রন্থ পুরাণে আছে, সাতাশটি নক্ষত্রের নামে প্রজাপতি দক্ষ রাজ সুন্দরী কন্যাদের নামকরণ করেছিলেন। তার দুই কন্যার নাম যথাক্রমে চিত্রা ও বিশাখা। এক মাস ব্যবধানে জন্ম বলে এই দুই কন্যার নাম থেকে জন্ম নিল বাংলা দুই মাস- চিত্রার নামানুসারে চৈত্র আর বিশাখার নামানুসারে বৈশাখ। চৈত্রের শেষ আর বৈশাখের শুরু। সনাতন ধর্মালম্বী বাঙালির সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব পালিত হয় এই দুই দিনে।

বারহাট্টা উপজেলা সদরের গড়মা গ্রামে ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা করতে আসা তান্ত্রিক কালিদাস জানান, এই গ্রামে প্রতি বছরেই চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন চৈত্র সংক্রান্তির প্রধান উৎসব চড়ক পূজা। চড়ক গাজন উৎসবের একটি প্রধান অঙ্গ। নীলষষ্ঠীর পরের দিনই হয় চড়ক উৎসব। তাই অনেকেই একে শিবের গাজনের অঙ্গ হিসেবেই বিবেচনা করেন। এ উপলক্ষে গ্রামের শিবতলা থেকে শোভাযাত্রা শুরু করে অন্য গ্রামের শিবতলায় নিয়ে যাওয়া হয়।

চৈত্র সংক্রান্তির মাধ্যমে পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের সূচনায় সফলতা ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় দেখা দেবে নতুন ভোর। পুরনো বছরের সব জরাজীর্ণতা মুছে ফেলে নববর্ষে বাঙালি মিলিত হবে পহেলা বৈশাখের সর্বজনীন উৎসবে।

বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে বেইজিংয়ের প্যালেস মিউজিয়াম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
   
বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে বেইজিংয়ের প্যালেস মিউজিয়াম

সাধারণত বিশ্ব ভ্রমণের পরিকল্পনার কথা উঠলে পর্যটকদের মনে প্রথমেই ইউরোপের প্যারিস, লন্ডন কিংবা ইতালির বিভিন্ন ঐতিহাসিক জাদুঘরের নাম ভেসে ওঠে। ল্যুভর মিউজিয়াম বা ব্রিটিশ মিউজিয়ামের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় ধরে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন পর্যটকদের ভিড়ের দিক থেকে ইউরোপের জাদুঘরগুলোকে টেক্কা দিয়ে তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ার একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা।

থিমড এন্টারটেইনমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুরে দেখছেন চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত প্যালেস মিউজিয়াম। ফরবিডেন সিটি বা নিষিদ্ধ নগরী নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই স্থাপনাটি কেবল চীনের ইতিহাস নয়, বরং বিশ্ব ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন। গত কয়েক বছর ধরে পর্যটকদের কাছে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের পর্যটন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা এই বিশাল প্রাসাদে রেকর্ড সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে, যা অন্যান্য দেশের নামীদামি জাদুঘরগুলোকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

কেন বেইজিংয়ের এই প্যালেস মিউজিয়াম পর্যটকদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে, তার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, এর বিশাল স্থাপত্যশৈলী এবং সংরক্ষিত প্রাচীন ঐতিহ্যের বিশাল ভাণ্ডার পর্যটকদের সহজেই মুগ্ধ করে। মিং এবং চিং রাজবংশের শাসনামলে নির্মিত এই বিশাল প্রাসাদ কমপ্লেক্সটি কয়েকশ বছর ধরে চীনের ক্ষমতা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। সময়ের বিবর্তনে এটি এখন কেবল একটি দর্শনীয় স্থান নয়, বরং ইতিহাস প্রেমীদের কাছে তীর্থস্থানের মতো। বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে পর্যটন খাতের যে উন্নয়ন ঘটছে, তাতে চীন সরকার তাদের ঐতিহাসিক স্থানগুলো রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যটনবান্ধব করার জন্য ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে ফরবিডেন সিটিতে এখন আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউরোপের দেশগুলো যেখানে বছরের পর বছর ধরে পর্যটন খাতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল, সেখানে চীনের এই অর্জন বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, পর্যটকদের এখন কেবল শিল্পকলার জাদুঘর নয়, বরং জীবন ঘনিষ্ঠ ও বিশাল পরিসরের ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। প্যালেস মিউজিয়ামের এই জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে যে, দর্শনার্থীরা এখন এমন জায়গায় ভ্রমণ করতে পছন্দ করছেন যেখানে স্থাপত্য, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের এক অদ্ভুত মিলনমেলা দেখা যায়।

বেইজিংয়ের এই অর্জন কেবল জাদুঘরটির ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি পুরো এশীয় অঞ্চলের পর্যটন খাতের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি। একদিকে যেমন চীনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশ্বদরবারে নতুন করে সমাদৃত হচ্ছে, অন্যদিকে পর্যটন অর্থনীতিতেও এটি বড় ভূমিকা রাখছে। তবে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম সামলানো এখন কর্তৃপক্ষর জন্য একটি চ্যালেঞ্জও বটে। তাই অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে এবং দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা আরও আনন্দদায়ক করতে ডিজিটাল টিকিটিং ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব ভ্রমণের তালিকায় যারা নিজেদের নতুন করে সাজাচ্ছেন, তাদের কাছে এখন বেইজিংয়ের এই নিষিদ্ধ নগরী বা প্যালেস মিউজিয়াম অবশ্যই প্রথম সারির একটি গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

দেশকে কখনোই ক্লায়েন্ট স্টেট হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
দেশকে কখনোই ক্লায়েন্ট স্টেট হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই বিপ্লবের তাৎপর্য ও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ঘোষণা করেছেন যে, বাংলাদেশকে কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো রাষ্ট্রের ক্লায়েন্ট স্টেট বা অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশের মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

৭ নভেম্বরের সেই বিপ্লব বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পথ নির্ধারণ করে দিয়েছিল বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তার মতে, ওই ঐতিহাসিক ঘটনা দেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বদলে দিয়েছিল এবং একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মমর্যাদা নিয়ে টিকে থাকার প্রেরণা যুগিয়েছিল। সেই বিপ্লব দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে যে বার্তা বহন করেছিল, তা আজও প্রাসঙ্গিক। এই চেতনাকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটও স্পর্শ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কূটনৈতিক সম্পর্ক বা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যাই হোক না কেন, দেশের স্বকীয়তা বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য। অন্য কোনো শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না। তার এই বক্তব্যটি মূলত দেশের জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা জোরদার করার একটি বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, ইতিহাসের শিক্ষা থেকেই বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ চলতে হবে। দেশ যে গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে জনগণের মতামতের প্রতিফলন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাবে বা চাপে পড়ে দেশের নীতি নির্ধারণের দিন শেষ হয়েছে বলেও তিনি অভিমত প্রকাশ করেন। দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নে সরকার আত্মনির্ভরশীল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র কর্তব্য। কোনো চক্রান্তই বাংলাদেশের উন্নয়নের পথকে রুদ্ধ করতে পারবে না। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান প্রশাসন যেকোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা ও সম্মান রক্ষার জন্য কাজ করে যাবে। ৭ নভেম্বরের সেই বিপ্লবী চেতনা থেকেই আগামী দিনে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কাজে সরকার অবিচল থাকবে।

দেশভাগের ক্ষত ও স্মৃতির দহনে নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীকি অনুসন্ধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
দেশভাগের ক্ষত ও স্মৃতির দহনে নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীকি অনুসন্ধান

মানবজীবনের পথে এমন কিছু গভীর ক্ষত তৈরি হয়, যা সময়ের সাথে মুছে যায় না বরং স্মৃতির পাতায় আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ইতিহাস যখন রাজনীতির চশমা দিয়ে বিচার করা হয়, তখন অগণিত সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত বেদনার আখ্যানগুলো প্রায়ই আড়ালে পড়ে যায়। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এমন এক রাজনৈতিক বিভাজন, যা কেবল মানচিত্রের সীমানা নির্ধারণ করেনি, বরং চিরতরে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে হাজারো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, জীবনযাত্রা এবং পরিচয়ের ভিত্তি। ইতিহাসের পাতায় দেশভাগ একটি রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নথিভুক্ত থাকলেও, এর গভীরে লুকিয়ে থাকা মানবিক সংকটের চিত্রটি আজও অমীমাংসিত এক ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত হয়।

দেশভাগের ফলে সৃষ্ট যে ভৌগোলিক ও মানসিক সীমানা তৈরি হয়েছিল, তা মানুষের হৃদয়ের ওপর এক দীর্ঘস্থায়ী প্রলেপ ফেলে দিয়েছে। নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে অজানা ঠিকানায় পাড়ি জমানোর সেই দুঃসহ স্মৃতি আজো বহু মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। এই বিচ্ছেদের বেদনায় যারা জর্জরিত, তাদের জন্য দেশ কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং এটি শৈশবের স্মৃতি, ফেলে আসা প্রিয়জন এবং শেকড়ের টান। নীলকণ্ঠ পাখি এখানে সেই হারানো সুখ ও অজানার ঠিকানায় শান্তির প্রত্যাশার একটি প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছে। কোনো মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকা সেই ফেলে আসা স্বদেশের গল্পগুলো নতুন করে ফিরে পাওয়ার আকুতি নিয়েই যেন নীলকণ্ঠের খোঁজে মানুষ আজও অতীতে ফিরে যায়।

আমাদের সমাজে এমন অনেক আখ্যান রয়েছে যা দেশভাগের বিভীষিকাকে তুলে ধরে। সেই সব গল্পের গভীরে তাকালে দেখা যায়, দেশভাগ মানেই কেবল জায়গা পরিবর্তন নয়, বরং নিজের সত্তার একটি বড় অংশকে বিসর্জন দেওয়া। মানুষের জীবনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়, তা পূরণ করার মতো কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা আজও সেভাবে কার্যকর হয়নি। সাহিত্য ও শিল্পকলায় বারবার ফিরে আসে সেই চিরচেনা গ্রাম, নদীর বাঁক আর ফেলে আসা মানুষের মুখচ্ছবি। নীলকণ্ঠ পাখির রূপক ব্যবহার করে যেন সেই হারিয়ে যাওয়া স্বর্গের সন্ধানই করা হচ্ছে, যেখানে কোনো কাঁটাতার বা বিভেদ ছিল না।

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা যখন সেই ফেলে আসা দিনগুলোর কথা স্মরণ করি, তখন অনুধাবন করা যায়, দেশভাগের ক্ষত কেবল ব্যক্তি মানুষের নয়, তা এক পুরো প্রজন্মের সামগ্রিক ট্র্যাজেডি। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও মানুষের শিকড় খোঁজার এই আদিম বাসনা আজও অটুট। হারানো দেশ, হারিয়ে যাওয়া মানুষ এবং সেই প্রিয়জনদের সন্ধানে নীলকণ্ঠ পাখির উড়াল আসলে আমাদের সম্মিলিত চেতনার এক অংশ। এই অনুসন্ধানের মাধ্যমে মূলত আমরা নিজের পরিচয় ও অস্তিত্বের শিকড়কে নতুন করে চিনতে চেষ্টা করি। স্মৃতির এই দীর্ঘযাত্রায় নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীক যেন সেই হারানো মায়া আর ভালোবাসার জয়গান গেয়ে চলে, যা সীমানার বেড়াজাল পেরিয়ে মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে আজও স্পন্দিত হয়।

সর্বশেষ
বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে বেইজিংয়ের প্যালেস মিউজিয়াম দেশকে কখনোই ক্লায়েন্ট স্টেট হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী দেশভাগের ক্ষত ও স্মৃতির দহনে নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীকি অনুসন্ধান শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমার গানে সুর চুরির অভিযোগ, মুখ খুললেন মৌসুমী ভৌমিক রাজধানীতে সক্রিয় গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর চক্র, গ্রেফতার ৪ কক্সবাজারে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে স্থানান্তর ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি: সব প্রসাধনীতে কি এর প্রয়োজন আছে? অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়লেন হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধস, দায় চাপালেন ট্রাম্প দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু