মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের সক্রিয়তা নিয়ে গবেষণায় চিকিৎসায় নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী
মস্তিষ্কের পৃথক স্নায়ুকোষ কীভাবে সক্রিয় হয় এবং কীভাবে আবার নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়—এ প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে এ বছরের চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। মস্তিষ্কের কার্যক্রম ও স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত এই গবেষণা স্নায়ুকোষের কাজ বোঝার ক্ষেত্রে নতুন গুরুত্ব তৈরি করেছে।
প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুরস্কারের কেন্দ্রে রয়েছে মস্তিষ্কের একক স্নায়ুকোষের সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তার ধরন। স্নায়ুকোষ বা নিউরন মস্তিষ্কে তথ্য গ্রহণ ও আদান-প্রদানে ভূমিকা রাখে। তবে কোন পরিস্থিতিতে একটি কোষ সক্রিয় হয়, কীভাবে তার কার্যক্রম বদলায় এবং কখন তা কমে আসে—এসব প্রশ্নের উত্তর একটিমাত্র পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধ নয়। কোষের আচরণ ও তার পারস্পরিক যোগাযোগ বোঝার জন্য নানা দিক থেকে গবেষণা প্রয়োজন।
স্মৃতি কীভাবে গড়ে ওঠে, কীভাবে মস্তিষ্কে তথ্য ধরে রাখা হয়—এ প্রশ্নের সঙ্গে স্নায়ুকোষের সক্রিয়তার সম্পর্ক রয়েছে। কোনো অভিজ্ঞতা মস্তিষ্কে কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হয়, সেই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন কোষের কার্যক্রম কী ভূমিকা রাখে, তা স্নায়ুবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানের ক্ষেত্র। পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষণার মূল বিষয় হিসেবে স্নায়ুকোষের সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় হওয়ার প্রক্রিয়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট আবিষ্কারটি স্মৃতির কোন ধাপ বা কোন ধরনের স্নায়বিক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখানে নিশ্চিত করা যায়নি।
মস্তিষ্কের কাজকে শুধু একটি কোষের কার্যক্রম দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। অসংখ্য স্নায়ুকোষের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে জটিল মানসিক ও শারীরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই একটি কোষ কখন সংকেত পাঠায়, কখন তার কার্যকলাপ কমে আসে এবং অন্য কোষের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী—এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর মস্তিষ্ক সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা তৈরিতে সহায়তা করে। এই গবেষণা সেই বৃহত্তর অনুসন্ধানের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার সাধারণত এমন গবেষণাকে স্বীকৃতি দেয়, যা জীববিজ্ঞান বা চিকিৎসা সম্পর্কে বোঝাপড়ায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। এ বছরের পুরস্কারের ক্ষেত্রেও মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের কার্যপ্রণালি নিয়ে গবেষণার গুরুত্ব সামনে এসেছে। তবে শুধু পুরস্কারের বিষয়বস্তু জানলেই গবেষণার পুরো তাৎপর্য বোঝা যায় না; কোন পদ্ধতিতে কাজটি হয়েছে, আগের জ্ঞানের সঙ্গে এর পার্থক্য কী এবং ভবিষ্যৎ গবেষণায় এটি কীভাবে কাজে লাগতে পারে—এসবের বিস্তারিত জানা জরুরি।
উপলভ্য তথ্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণে বিজয়ী তিন বিজ্ঞানীর নাম, তাঁদের কর্মস্থল, গবেষণার নির্দিষ্ট পদ্ধতি কিংবা পুরস্কার ঘোষণার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা উল্লেখ নেই। এসব পরিচয় ও তথ্য নিশ্চিত না হওয়ায় প্রতিবেদনে সেগুলো যোগ করা হয়নি। একই কারণে তাঁদের গবেষণার নির্দিষ্ট ফলাফল বা সম্ভাব্য চিকিৎসা-প্রয়োগ সম্পর্কেও কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না। পুরস্কার পাওয়া মানেই গবেষণাটি সরাসরি কোনো নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি তৈরি করেছে—এমন দাবি করার ভিত্তিও দেওয়া তথ্যের মধ্যে নেই।
স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ে গবেষণার গুরুত্ব কেবল স্মৃতি বোঝার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মস্তিষ্ক কীভাবে তথ্য গ্রহণ ও প্রক্রিয়াজাত করে, তার বিভিন্ন দিক অনুধাবনেও কোষের আচরণ পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ধরনের গবেষণার ফলকে রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসায় প্রয়োগ করতে হলে আরও পরীক্ষা, যাচাই এবং বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান তথ্য থেকে কোনো নির্দিষ্ট রোগ, চিকিৎসা বা রোগীর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের কথা বলা যায় না।
তিন বিজ্ঞানীর কাজকে ঘিরে ঘোষণাটি মস্তিষ্কের ক্ষুদ্রতম কার্যকর এককগুলোর ভূমিকার দিকে নতুন করে মনোযোগ এনেছে। পৃথক স্নায়ুকোষের সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তা কীভাবে বৃহত্তর মস্তিষ্কীয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত, তা অনুসন্ধান করতে পারলে স্মৃতি ও স্নায়বিক যোগাযোগ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব। তবে এই গবেষণার পূর্ণ বিবরণ, বিজয়ীদের পরিচয় এবং আবিষ্কারের নির্দিষ্ট প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পরই এর তাৎপর্য আরও নির্দিষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]