বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অক্টোবর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য ১,৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। এই দামের কাঠামোতে আমদানিকারক বা অপারেটরের জন্য নির্ধারিত মূল্য ১,৭৪২ টাকা, পরিবেশকের কমিশন ৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ টাকা অন্তর্ভুক্ত। এসব উপাদান মিলিয়ে মোট অনুমোদিত মূল্য ১,৮৩৭ টাকা হয়ে দাঁড়ায়।
তবে বাজারে দেখা যাচ্ছে, ভোক্তারা একই সিলিন্ডার কিনতে ২,৩০০ টাকা থেকে ২,৪০০ টাকার মধ্যে পরিশোধ করছেন। অর্থাৎ, নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৪৬৩ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এই পার্থক্যটি ভোক্তাদের গৃহস্থালির বাজেটের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য।
বিইআরসির মূল্য নির্ধারণের উদ্দেশ্য ছিল এলপিজি বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত মুনাফা সীমাবদ্ধ করা। তবে বাস্তবে, সিলিন্ডার বিক্রেতা, পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতা প্রত্যেকেরই নির্ধারিত কমিশন পাওয়ার পরও অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণের পেছনে কী কারণ রয়েছে তা স্পষ্ট নয়। কিছু বিশ্লেষক দাবি করছেন, সরবরাহ শৃঙ্খলে লজিস্টিক খরচ, সঞ্চয় ও পরিবহন সংক্রান্ত অতিরিক্ত ব্যয় এবং অনিয়মিত বাজার নিয়ন্ত্রণের ফলে এই অতিরিক্ত মূল্য গঠন হতে পারে।
এলপিজি বাজারে এই ধরনের মূল্য পার্থক্য ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। গ্রাহকরা সামাজিক মিডিয়া ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশ করছেন যে, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিতে হচ্ছে, যদিও সরকারী নিয়মাবলী স্পষ্টভাবে কম দামের নির্দেশ দিচ্ছে। কিছু গ্রাহক উল্লেখ করেছেন, একই এলাকার দুইটি বিক্রয় পয়েন্টে দামের পার্থক্য ১০০ টাকার বেশি হতে পারে, যা বাজারে স্বচ্ছতার অভাবের ইঙ্গিত দেয়।
বিইআরসি এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে। কমিশন সদস্যরা বলেছেন, তারা বাজারে অনিয়মিত মূল্য নির্ধারণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি আরোপ করবে। তদুপরি, তারা বিক্রেতা ও পরিবেশকদের সঙ্গে সমন্বয় করে সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরে মূল্য নির্ধারণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটর সংস্থাগুলোও বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা যুক্তি দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক গ্যাসের দাম, শিপিং খরচ এবং স্থানীয় ট্যাক্সের পরিবর্তন তাদের মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা কখনো কখনো নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত খরচের কারণ হতে পারে। তবে, এই ব্যাখ্যাগুলোকে ভোক্তারা যথেষ্ট সন্তোষজনক বলে মনে করেন না, কারণ তারা সরাসরি বেশি দামের মুখোমুখি হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে বাজারে সরাসরি পর্যবেক্ষণ বাড়িয়ে, অনিয়মিত বিক্রয় পয়েন্টগুলোকে চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তি প্রদান করা উচিত। এছাড়া, ভোক্তাদের জন্য একটি হটলাইন বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করা যেতে পারে, যেখানে তারা অতিরিক্ত দামের অভিযোগ জানাতে পারবে এবং তাৎক্ষণিক তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারসংক্ষেপে, বি.ই.আর.সির নির্ধারিত ১,৮৩৭ টাকার দামের তুলনায় ভোক্তারা ২,৩০০‑২,৪০০ টাকার মধ্যে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৪৬৩ টাকার অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি করছে। এই পার্থক্যটি বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার অভাবের ইঙ্গিত দেয় এবং ভোক্তাদের আর্থিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি বাড়ানো, বিক্রেতা-পরিবেশক-খুচরা বিক্রেতা সকল স্তরে মূল্য নির্ধারণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের অভিযোগের দ্রুত সমাধান এই সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:১৪ অপরাহ্ণ