জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ৭ নভেম্বর বন্ধ থাকবে দেশের সব ব্যাংক
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ কারণে সেদিন দেশের সব ব্যাংক বন্ধ থাকবে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। সরকারি ছুটির কারণে ওই দিন দেশের সব ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে নিয়মিত লেনদেন বা সেবা নেওয়া যাবে না। ব্যাংকিং কাজের জন্য ওই তারিখের ওপর নির্ভরশীল গ্রাহকদের আগেভাগে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৭ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের আলোকে সরকার এ ছুটি ঘোষণা করেছে। ঘোষণার সঙ্গে মিল রেখে ৭ নভেম্বর ব্যাংক বন্ধ রাখার বিষয়টি জানানো হয়েছে। ছুটির দিনটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালিত হবে। তবে এ উপলক্ষে ব্যাংকের কোন কোন সেবা কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে আলাদা কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই নির্দিষ্ট সেবা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে গ্রাহকদের নিজ নিজ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
ব্যাংক শাখা বন্ধ থাকলে কাউন্টারনির্ভর কাজ নির্ধারিত দিনে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। যেমন, কোনো গ্রাহকের শাখায় গিয়ে আবেদন জমা দেওয়া, কাগজপত্র যাচাই করানো বা সরাসরি কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন থাকলে ছুটির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা দরকার। জরুরি কোনো ব্যাংকিং কাজ থাকলে তা ৭ নভেম্বরের আগে বা ছুটির পরের কর্মদিবসে করার জন্য সময়সূচি মিলিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
ব্যাংক বন্ধ থাকার ঘোষণা থেকে ডিজিটাল বা স্বয়ংক্রিয় সেবার প্রাপ্যতা সম্পর্কে আলাদা সিদ্ধান্ত অনুমান করা ঠিক হবে না। বিভিন্ন ধরনের সেবার নিয়ম ও ছুটির দিনের কার্যক্রম ব্যাংকভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই টাকা তোলা, স্থানান্তর, বিল পরিশোধ কিংবা অন্য কোনো লেনদেনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রকাশিত নির্দেশনা দেখে নেওয়া ভালো। কোনো সেবা চালু থাকবে কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে জরুরি লেনদেনের জন্য সেটির ওপর নির্ভর না করাই বিচক্ষণতা।
ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক লেনদেনের সময়সীমা থাকলে গ্রাহকদের তারিখটি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। ৭ নভেম্বরের কাছাকাছি সময়ে কোনো কাগজপত্র জমা, অর্থ পরিশোধ বা ব্যাংকের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সময়সীমা আগেই যাচাই করা যেতে পারে। ব্যাংক বন্ধের দিনে শাখাভিত্তিক কাজ সম্পন্ন করা যাবে না—এ বিষয়টি মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিলে শেষ মুহূর্তের অসুবিধা এড়ানো সহজ হবে।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যেসব গ্রাহকের নিয়মিত ব্যাংকিং লেনদেন রয়েছে, তাদেরও ছুটির দিনটি বিবেচনায় রেখে আর্থিক কাজের পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। তবে কোনো ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট লেনদেনের সময়সূচি এখানে উল্লেখ করা হয়নি; সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের নিয়মের ওপর নির্ভর করবে। তাই গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনের ক্ষেত্রে আগে থেকে ব্যাংকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া এবং কাজটি কখন সম্পন্ন করা যাবে তা নিশ্চিত হওয়া ভালো।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে ৭ নভেম্বর ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে—এটাই গ্রাহকদের জন্য মূল বিষয়। ছুটির দিনে কোনো শাখা খোলা থাকবে কি না, বিশেষ সেবা চালু হবে কি না, অথবা বিকল্প ব্যবস্থার সময়সূচি কী হবে—এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা ধরে নেওয়া উচিত নয়। ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা গ্রাহকসেবা বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই লেনদেনের সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ।
ছুটির আগের দিনগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কাজ গুছিয়ে নেওয়া এবং ছুটির পরের কর্মদিবসের পরিকল্পনাও আগেভাগে ঠিক রাখা যেতে পারে। বিশেষ করে শাখায় উপস্থিত হয়ে করতে হয় এমন কাজের ক্ষেত্রে ব্যাংকের কার্যদিবস ও সময়সূচি যাচাই করা জরুরি। কোনো সেবা ছুটির দিনে পাওয়া যাবে বলে ধরে না নিয়ে, প্রয়োজন হলে ব্যাংকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া উচিত। এতে ব্যাংক বন্ধ থাকার দিনে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত ও সময় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
সরকারের ঘোষিত ছুটি উপলক্ষে ৭ নভেম্বর দেশের সব ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ব্যাংকিং সেবার নির্দিষ্ট সময়সূচি বা ছুটির দিনে বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে গ্রাহকদের নিজ নিজ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। তারিখটি মাথায় রেখে আগে থেকে প্রয়োজনীয় কাজের ব্যবস্থা করাই গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]