খুঁজুন
, ,

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ৭ নভেম্বর বন্ধ থাকবে দেশের সব ব্যাংক

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ৭ নভেম্বর বন্ধ থাকবে দেশের সব ব্যাংক

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ কারণে সেদিন দেশের সব ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। সরকারি ছুটির কারণে ওই দিন দেশের সব ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে নিয়মিত লেনদেন বা সেবা নেওয়া যাবে না। ব্যাংকিং কাজের জন্য ওই তারিখের ওপর নির্ভরশীল গ্রাহকদের আগেভাগে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৭ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের আলোকে সরকার এ ছুটি ঘোষণা করেছে। ঘোষণার সঙ্গে মিল রেখে ৭ নভেম্বর ব্যাংক বন্ধ রাখার বিষয়টি জানানো হয়েছে। ছুটির দিনটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালিত হবে। তবে এ উপলক্ষে ব্যাংকের কোন কোন সেবা কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে আলাদা কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই নির্দিষ্ট সেবা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে গ্রাহকদের নিজ নিজ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

ব্যাংক শাখা বন্ধ থাকলে কাউন্টারনির্ভর কাজ নির্ধারিত দিনে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। যেমন, কোনো গ্রাহকের শাখায় গিয়ে আবেদন জমা দেওয়া, কাগজপত্র যাচাই করানো বা সরাসরি কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন থাকলে ছুটির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা দরকার। জরুরি কোনো ব্যাংকিং কাজ থাকলে তা ৭ নভেম্বরের আগে বা ছুটির পরের কর্মদিবসে করার জন্য সময়সূচি মিলিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

ব্যাংক বন্ধ থাকার ঘোষণা থেকে ডিজিটাল বা স্বয়ংক্রিয় সেবার প্রাপ্যতা সম্পর্কে আলাদা সিদ্ধান্ত অনুমান করা ঠিক হবে না। বিভিন্ন ধরনের সেবার নিয়ম ও ছুটির দিনের কার্যক্রম ব্যাংকভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই টাকা তোলা, স্থানান্তর, বিল পরিশোধ কিংবা অন্য কোনো লেনদেনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রকাশিত নির্দেশনা দেখে নেওয়া ভালো। কোনো সেবা চালু থাকবে কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে জরুরি লেনদেনের জন্য সেটির ওপর নির্ভর না করাই বিচক্ষণতা।

ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক লেনদেনের সময়সীমা থাকলে গ্রাহকদের তারিখটি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। ৭ নভেম্বরের কাছাকাছি সময়ে কোনো কাগজপত্র জমা, অর্থ পরিশোধ বা ব্যাংকের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সময়সীমা আগেই যাচাই করা যেতে পারে। ব্যাংক বন্ধের দিনে শাখাভিত্তিক কাজ সম্পন্ন করা যাবে না—এ বিষয়টি মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিলে শেষ মুহূর্তের অসুবিধা এড়ানো সহজ হবে।

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যেসব গ্রাহকের নিয়মিত ব্যাংকিং লেনদেন রয়েছে, তাদেরও ছুটির দিনটি বিবেচনায় রেখে আর্থিক কাজের পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। তবে কোনো ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট লেনদেনের সময়সূচি এখানে উল্লেখ করা হয়নি; সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের নিয়মের ওপর নির্ভর করবে। তাই গুরুত্বপূর্ণ লেনদেনের ক্ষেত্রে আগে থেকে ব্যাংকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়া এবং কাজটি কখন সম্পন্ন করা যাবে তা নিশ্চিত হওয়া ভালো।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে ৭ নভেম্বর ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে—এটাই গ্রাহকদের জন্য মূল বিষয়। ছুটির দিনে কোনো শাখা খোলা থাকবে কি না, বিশেষ সেবা চালু হবে কি না, অথবা বিকল্প ব্যবস্থার সময়সূচি কী হবে—এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা ধরে নেওয়া উচিত নয়। ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা গ্রাহকসেবা বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই লেনদেনের সিদ্ধান্ত নেওয়া নিরাপদ।

ছুটির আগের দিনগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কাজ গুছিয়ে নেওয়া এবং ছুটির পরের কর্মদিবসের পরিকল্পনাও আগেভাগে ঠিক রাখা যেতে পারে। বিশেষ করে শাখায় উপস্থিত হয়ে করতে হয় এমন কাজের ক্ষেত্রে ব্যাংকের কার্যদিবস ও সময়সূচি যাচাই করা জরুরি। কোনো সেবা ছুটির দিনে পাওয়া যাবে বলে ধরে না নিয়ে, প্রয়োজন হলে ব্যাংকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া উচিত। এতে ব্যাংক বন্ধ থাকার দিনে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত ও সময় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

সরকারের ঘোষিত ছুটি উপলক্ষে ৭ নভেম্বর দেশের সব ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ব্যাংকিং সেবার নির্দিষ্ট সময়সূচি বা ছুটির দিনে বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে গ্রাহকদের নিজ নিজ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। তারিখটি মাথায় রেখে আগে থেকে প্রয়োজনীয় কাজের ব্যবস্থা করাই গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক কার্ড অপারেশনস অফিসার পদে নিয়োগের আহ্বান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
   
স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক কার্ড অপারেশনস অফিসার পদে নিয়োগের আহ্বান

স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসি আজ তার কার্ড অপারেশনস অফিসার পদে নতুন কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আবেদন গ্রহণের সময়সীমা ৫ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত।

স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসি আজ তার মানবসম্পদ বিভাগ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ব্যাংকটি দেশের শীর্ষস্থানীয় ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হিসেবে, সম্প্রতি তার কার্ড অপারেশনস অফিসার পদে নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই পদটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড এবং অন্যান্য পেমেন্ট পণ্যের কার্যক্রম তত্ত্বাবধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, ফলে সঠিক প্রার্থীর নির্বাচন ব্যাংকের সেবা মান উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং শেষ তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ৫ নভেম্বর। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণ করে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্ত করে ব্যাংকের নির্ধারিত পোর্টাল অথবা ইমেইল ঠিকানায় জমা দিতে পারবেন। আবেদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত নির্দেশনা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যা প্রার্থীদের জন্য সহজে অনুসরণযোগ্য হবে।

কার্ড অপারেশনস অফিসার পদে নির্বাচিত প্রার্থীর প্রধান দায়িত্বের মধ্যে থাকবে কার্ড লেনদেনের পর্যবেক্ষণ, গ্রাহক সেবা সমর্থন, নিরাপত্তা নীতি অনুসরণ নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত রিপোর্ট প্রস্তুত করা। এছাড়া, ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগীয় সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন পণ্য চালু করা, বিদ্যমান সিস্টেমের উন্নয়ন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের দায়িত্বও থাকবে। এই ধরনের কাজের জন্য প্রার্থীর ব্যাংকিং, আর্থিক সেবা বা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে স্নাতক ডিগ্রি এবং কমপক্ষে দুই বছরের প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক এই পদে যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের সুযোগ প্রদান করবে বলে জানিয়েছে। ব্যাংকটি তার কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করে থাকে, যা কর্মীর কর্মক্ষমতা এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি দুটোই বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া, ব্যাংকের কর্মপরিবেশকে সমর্থনকারী নীতি, কর্মী福利 এবং পারফরম্যান্স-ভিত্তিক বোনাস সিস্টেমও আবেদনকারীদের আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলবে।

প্রতিষ্ঠানের এই নিয়োগের পেছনে রয়েছে ব্যাংকের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সেবার চাহিদা বৃদ্ধি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ই-কমার্স এবং অনলাইন লেনদেনের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, ব্যাংকের কার্ড অপারেশনস বিভাগকে আরও দক্ষ ও নিরাপদ সেবা প্রদান করতে হবে। তাই, নতুন কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, ব্যাংক একটি কঠোর স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া চালাবে, যার মধ্যে থাকবে লিখিত পরীক্ষা, ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড চেক। নির্বাচিত প্রার্থীদেরকে ব্যাংকের মূল অফিসে একটি প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করা হবে, যেখানে তারা ব্যাংকের নীতি, সিস্টেম এবং গ্রাহক সেবা মানদণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানবে। প্রশিক্ষণ শেষে, সফল প্রার্থীরা অফিসার পদে নিয়োগ পেয়ে তৎক্ষণাৎ দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এই নিয়োগকে ব্যাংকের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। তারা উল্লেখ করেছে, “আমরা এমন প্রার্থীদের সন্ধান করছি যারা ব্যাংকিং সেক্টরে উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে আসতে পারে এবং গ্রাহক সেবায় উৎকর্ষতা বজায় রাখতে পারে।” এই বার্তাটি প্রার্থীদের জন্য একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে, যাতে তারা নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ব্যাংকের লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা মূল্যায়ন করতে পারে।

প্রতিষ্ঠানের এই পদে আবেদন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য সর্বশেষ তথ্য এবং আবেদন ফর্ম ব্যাংকের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পেজে উপলব্ধ থাকবে। আবেদনকারীদেরকে সময়মতো আবেদন জমা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে তারা শেষ তারিখের আগে প্রয়োজনীয় সব নথি সম্পূর্ণভাবে জমা দিতে পারেন। শেষ পর্যন্ত, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক এই পদে সঠিক প্রার্থী নির্বাচন করে তার সেবা গুণমান এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি আরও বাড়িয়ে তুলতে চায়।

শরতের ভোরে শিশিরভেজা ঘাসে শিউলির আল্পনা

আলোকিত সারাদেশ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
   
শরতের ভোরে শিশিরভেজা ঘাসে শিউলির আল্পনা

ভোরের আকাশ তখনো পুরোপুরি ফর্সা হয়নি। দিগন্তের কোণে সামান্য আলোর রেখা উঁকি দিচ্ছে মাত্র। এমন শান্ত সময়ে প্রকৃতি যেন নিজের রূপের ডালি সাজিয়ে বসে। ঠিক এই সময়েই বাতাসে ভেসে আসে এক অদ্ভুত স্নিগ্ধ সুবাস, যা মনকে নিমেষেই সতেজ করে দেয়। আমাদের চারপাশের পরিবেশে শিউলি ফুলের অস্তিত্ব মানেই হলো শরতের আগমনী বার্তা। রাতের নিস্তব্ধতায় ফুটে থাকা এই ফুলগুলো যখন সূর্য ওঠার আগেই নীরবে শিশিরভেজা ঘাসের বুকে ঝরে পড়ে, তখন মনে হয় যেন সবুজ ঘাসের গালিচায় সাদা আর কমলা রঙের এক নিখুঁত আল্পনা কেউ এঁকে দিয়েছে।

শিউলি ফুল বা শেফালি কেবল একটি ফুল নয়, এটি যেন বাঙালির নস্টালজিয়া। গ্রামবাংলার প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় বা পথের ধারে যে গাছটি শরতের ভোরে নিজেকে উজাড় করে দেয়, তার প্রতিটি পাপড়িতে মিশে থাকে অদ্ভুত এক মায়া। রাতের অন্ধকারে ফোটা এই ফুলগুলো দিনের আলো ফুটতেই নিজেদের অস্তিত্ব বিলীন করে দেয়, কিন্তু তার রেখে যাওয়া সুবাস দীর্ঘক্ষণ জানান দেয় সে ছিল। প্রকৃতির এই ক্ষণিকের অতিথিদের এমন নীরব বিদায় যেন আমাদের জীবনেরই এক ছোট প্রতিচ্ছবি। খুব অল্প সময়ে পৃথিবীতে এসে চারপাশকে সুগন্ধে ভরিয়ে দিয়ে শান্তভাবে ঝরে পড়া এই ফুলের যেন কোনো আক্ষেপ নেই।

শহরের ব্যস্ততার মাঝে আমরা হয়তো এই রূপ দেখার সুযোগ পাই না। কংক্রিটের দেয়ালে ঘেরা ফ্ল্যাটে বা যান্ত্রিক জীবনের স্রোতে শরতের এই স্নিগ্ধতা অনেকটাই ম্লান। কিন্তু গ্রামের দিকে তাকালে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ভোরে যখন কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্যের প্রথম আলো ঘাসের ডগায় থাকা শিশিরবিন্দুতে আছড়ে পড়ে, তখন শিউলি ফুলের সেই সৌন্দর্য হয়ে ওঠে এক অনন্য শিল্পকর্ম। শিশিরের শীতল স্পর্শে শিউলির সুবাস যেন আরও গাঢ় হয়, যা পথিকের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। এই সময়ে ঘাসের ওপর ঝরে পড়া সাদা পাপড়িগুলোর দিকে তাকালে মনে হয়, প্রকৃতি যেন তার নিজের হাতে কোনো শিল্পীসত্তা দিয়ে জমিন তৈরি করেছে।

মানুষের জীবনেও এই ফুলের গুরুত্ব অনেক। উৎসবের আমেজ বা শরতের সকালের সঙ্গে শিউলি ফুলকে আলাদা করে ভাবা কঠিন। পূজা-পার্বণ কিংবা পারিবারিক আয়োজনে শিউলির ব্যবহার ঐতিহ্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেবল দেখতে সুন্দর বা সুগন্ধযুক্ত বলেই নয়, এই ফুলের ভেষজ গুণ নিয়েও অনেক আলোচনা রয়েছে। आयुर्वेद শাস্ত্র অনুসারে, শিউলি পাতার রস নানা রোগ নিরাময়ে কার্যকর। তাই কেবল শোভা বর্ধনের জন্য নয়, শিউলি গাছ আদিকাল থেকেই মানুষের উপকারে আসছে।

প্রকৃতির এই বিচিত্র রূপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা হয়তো আজ অনেক বেশি যান্ত্রিক হয়ে গেছি। কিন্তু শিউলি ফুলের এই ভোরে জেগে ওঠা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতিকে ভালোবাসার জন্য খুব বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। কেবল একটু নিবিড় পর্যবেক্ষণ আর অনুভবের ক্ষমতা থাকলেই শরতের ভোরে প্রকৃতির এই উপহার গ্রহণ করা সম্ভব। রাতের আঁধার কাটিয়ে যে ফুল আমাদের দিনটিকে সুরভিত করে তোলে, তার প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা জানানোই যেন প্রকৃতির প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা।

আশার কথা হলো, নতুন প্রজন্মের অনেকেই এখন বাগান করার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। বাড়ির ছাদে বা বারান্দায় টবে শিউলি গাছের চারা রোপণের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি একদিকে যেমন শহরের পরিবেশকে সবুজের ছোঁয়ায় ভরিয়ে তুলছে, অন্যদিকে হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় ফুলের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে সাহায্য করছে। শরতের ভোরে যদি ঘরের কোণেই শিউলির ঘ্রাণ পাওয়া যায়, তবে তার চেয়ে বড় তৃপ্তি আর কী হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত, শিউলি কেবল ফুল নয়, এটি একটি অনুভূতি। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবন যেমনই হোক, তাতে ইতিবাচকতার সুবাস ছড়ানোর অবকাশ সবসময়ই থাকে। শিশিরভেজা ঘাসের ওপর শিউলির এই ঝরে পড়া পাপড়িগুলো যেমন মাটির সঙ্গে মিশে গিয়ে প্রকৃতিকে সমৃদ্ধ করে, তেমনি আমাদের কর্ম আর ব্যবহারও যেন চারপাশের মানুষকে এই ফুলের মতোই স্নিগ্ধতা দিতে পারে। শরতের এই শিউলিভেজা সকাল আমাদের প্রতিদিনের জীবনে একটু বাড়তি আনন্দের খোরাক যোগাক, এটাই প্রত্যাশা।

পুলিশ মহাপরিদর্শকের ক্রসফায়ার সংক্রান্ত মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
   
পুলিশ মহাপরিদর্শকের ক্রসফায়ার সংক্রান্ত মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা কথিত ক্রসফায়ার নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী হোসেন ফকিরের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থেকে এই ধরনের বক্তব্য আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। এই প্রেক্ষিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং মানবাধিকার সংস্থা অধিকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে।

টিআইবি এবং অধিকারের পক্ষ থেকে পাঠানো আলাদা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা যখন আইনের শাসনের পরিপন্থী কোনো বক্তব্য দেন, তখন সেটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করে। বিচারবহির্ভূত হত্যা কোনো সভ্য সমাজে পুলিশের আইনি কার্যক্রম হতে পারে না। আইনি কাঠামো অনুযায়ী, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তার বিচার হওয়ার কথা আদালতে। পুলিশের দায়িত্ব হলো অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা, তাকে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা। কিন্তু ক্রসফায়ারের সাফাই গাওয়া বা এর যৌক্তিকতা নিয়ে কথা বলা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক।

মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিগত সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দায়মুক্তির সংস্কৃতি লক্ষ্য করা গেছে। এখন পুলিশ মহাপরিদর্শকের মতো দায়িত্বশীল পদে থাকা কেউ যখন এই বিষয়ে বিতর্কিত বক্তব্য প্রদান করেন, তখন তা অপরাধীদের উৎসাহিত করতে পারে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কেবল মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘনই নয়, এটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ও আইনি কাঠামোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে ধূলিসাৎ করে দেয়।

টিআইবি-এর পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, পুলিশ মহাপরিদর্শকের এমন বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকারান্তরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক শর্ত হলো রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রত্যেকের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা যদি নিজেরাই আইনের প্রয়োগকর্তা না হয়ে বিচারকের ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন, তবে সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা অনিবার্য হয়ে ওঠে।

উভয় সংস্থার ভাষ্যমতে, পুলিশের কাজ হলো তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও তদন্তের মাধ্যমে অপরাধের রহস্য উদঘাটন করা এবং আদালতে যথাযথ চার্জশিট দাখিল করা। এর পরিবর্তে ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত পথ অবলম্বন করা কোনো আইনি সমাধান নয়। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। টিআইবি ও অধিকার দ্রুত এই ধরনের বিতর্কিত বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একজন পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য আসার পর বিষয়টি নিয়ে যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত এবং এই বিষয়ে পুলিশের অবস্থানের স্পষ্টীকরণ দরকার। বিচারবহির্ভূত হত্যা বা ক্রসফায়ার বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন টিআইবি ও অধিকারের দায়িত্বশীলরা। তাদের মতে, কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করার সুযোগ নেই এবং রাষ্ট্রের সকল বাহিনীকে আইনের শাসনের সীমানার ভেতরে থেকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সর্বশেষ
স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক কার্ড অপারেশনস অফিসার পদে নিয়োগের আহ্বান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে ৭ নভেম্বর বন্ধ থাকবে দেশের সব ব্যাংক শরতের ভোরে শিশিরভেজা ঘাসে শিউলির আল্পনা পুলিশ মহাপরিদর্শকের ক্রসফায়ার সংক্রান্ত মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে এমআরইউ’র উদ্বেগ ও প্রতিবাদ আইন পেশায় তালিকাভুক্তির বয়সসীমা নির্ধারণ করলো বার কাউন্সিল খুলনা বটিয়াঘাটায় গুলিবিদ্ধ যুবক, দুজন গুলিবিদকে গুলি করে পালিয়ে গেলেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের নতুন চালান আগমন মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার অভিযোগ, জাবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ দুর্নীতির মামলায় বিসিএস ক্যাডার সঞ্জয় ও মুসার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
Advertisement