থাইল্যান্ডে সয়েল ফিভারের প্রকোপ, প্রাণ হারালেন ৪৫ জন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডের নিম্ন উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মেলিওয়ডোসিস নামক সংক্রামক ব্যাধির প্রাদুর্ভাব স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়ভাবে সয়েল ফিভার বা মাটির জ্বর নামে পরিচিত এই রোগটি চলতি বছর ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৭০ জনে পৌঁছেছে এবং এতে মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মেলিওয়ডোসিস মূলত মাটি এবং পানিতে থাকা বার্কহোল্ডেরিয়া সিউডোম্যালি নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে ছড়ায়। মূলত বর্ষা মৌসুমের শেষে এবং কৃষিকাজ বা বাইরের কাজে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে এই সংক্রমণের হার বেশি দেখা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত দূষিত মাটি বা পানির সংস্পর্শে আসার পর সংক্রমণের শিকার হন, যা পরবর্তীতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বছর দেশটির নিম্ন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চারটি প্রদেশে সংক্রমণের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। নাখন রাচাসিমা প্রদেশের রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ অফিস-৯ এর পরিচালক ডা. সাইলাক ওংচাওয়ানিচ জানিয়েছেন, স্থানীয়রা যেন কৃষি জমিতে কাজ করার সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেন। বিশেষ করে যারা ধানক্ষেতে বা কাদাযুক্ত এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেন, তাদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই রোগের লক্ষণগুলো খুব সাধারণ জ্বরের মতো মনে হলেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। সাধারণত উচ্চমাত্রার জ্বর, শ্বাসকষ্ট, এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোড়া বা ক্ষত সৃষ্টির মতো লক্ষণ দেখা দেয়। যারা আগে থেকেই ডায়াবেটিস বা কিডনি সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই ব্যাকটেরিয়া আরও বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যারা কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের খালি পায়ে মাটিতে হাঁটা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া জমিতে কাজ করার সময় রাবারের বুট ও গ্লাভস ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি যদি জ্বর বা অকারণে শরীরে ব্যথা অনুভব করেন, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।

মেলিওয়ডোসিস বা সয়েল ফিভার প্রতিরোধের জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। কৃষি প্রধান এই অঞ্চলগুলোতে মাটির সংস্পর্শে কাজ করা মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নিয়মিত বার্তা পাঠানো হচ্ছে যেন আসন্ন দিনগুলোতে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন