ক্রিকেট ক্যারিয়ারের দীর্ঘ পথচলায় অনেকেই পাশে থাকেন, কিন্তু যারা শৈশবের হাতেখড়ি দেন, তাদের গুরুত্ব থাকে এক অনন্য উচ্চতায়। জাতীয় দলের তারকা ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্তর ক্ষেত্রেও বিষয়টি ব্যতিক্রম নয়। সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় নিজের শৈশবের কোচের কথা স্মরণ করেছেন তিনি। ক্রিকেটের অ আ ক খ থেকে শুরু করে আজকের এই পর্যায়ে উঠে আসার পেছনে তার সেই কোচের দিকনির্দেশনা ও অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন এই ক্রিকেটার।
একজন খেলোয়াড় যখন পেশাদার ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত হন, তখন তার পেছনে অনেক মানুষের শ্রম ও ত্যাগ থাকে। মাঠের বাইরের সেই পর্দার আড়ালের মানুষদের মধ্যে কোচরাই থাকেন অগ্রভাগে। শান্তর ভাষ্যমতে, ছোটবেলায় যখন তিনি ব্যাট হাতে মাঠে নামতেন, তখন অনেক কিছুই তার অজানা ছিল। তখন সেই কোচই তাকে ক্রিকেটের সঠিক কৌশল শেখানোর পাশাপাশি মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে সাহায্য করেছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কীভাবে ধৈর্য ধরে খেলতে হয়, সেই শিক্ষা তিনি সেই ছোটবেলা থেকেই পেয়ে আসছেন।
সাফল্যের শিখরে পৌঁছালেও শেকড়কে ভুলে যাননি শান্ত। বরং বিভিন্ন সময়েই তিনি তার এই শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন। তার মতে, একজন কোচ কেবল খেলার কৌশলই শেখান না, তিনি খেলোয়াড়ের চারিত্রিক দৃঢ়তা গঠনেও ভূমিকা রাখেন। শান্ত মনে করেন, আজকের এই পর্যায়ে আসার পেছনে তার শৈশবের কোচের কঠোর শাসন এবং স্নেহের সংমিশ্রণ তাকে অনেক বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। কঠিন সময়ে যখন পারফরম্যান্স খারাপ যেত, তখনও কোচ তাকে সাহস জুগিয়েছেন এবং সঠিক পথ দেখিয়েছেন।
শান্ত আরও বলেন, আজকের এই নাজমুল হোসেন শান্ত হয়ে ওঠার পেছনে যে শ্রম, তার একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে তার সেই প্রাথমিক দীক্ষাগুরু। খেলোয়াড়দের জীবনে কোচের গুরুত্ব যে কতটা অপরিহার্য, তা যেন শান্তর এই স্বীকারোক্তি আবারও প্রমাণ করল। কেবল কৌশলগত দক্ষতা নয়, একজন ভালো মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও তার শৈশবের কোচের প্রভাব অপরিসীম বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন যখন দেখেছিলেন, তখন সেই পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। সে সময় যারা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাটা শান্তর ব্যক্তিত্বেরই অংশ। তিনি মনে করেন, সাফল্যের পেছনে নিজের পরিশ্রমের পাশাপাশি এমন একজন শিক্ষকের ছায়া থাকাটা ভাগ্যের ব্যাপার। ভবিষ্যতে যারা ক্রিকেট নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছে, তাদের জন্যও শান্তর এই বার্তাটি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে যে, সঠিক গুরু নির্বাচন এবং তার পরামর্শ মেনে চলা ক্যারিয়ারের জন্য কতটা জরুরি।
সামগ্রিকভাবে, শান্তর এই কথোপকথনটি কেবল একজন খেলোয়াড়ের স্মৃতিচারণ নয়, এটি মূলত একজন শিষ্যের প্রতি গুরুর অবদানের এক সুন্দর স্বীকৃতি। মাঠের লড়াইয়ে শান্ত সবসময়ই তার সেই শিক্ষাগুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। নিজের এই পথচলার গল্প অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পেরে তিনি নিজেও আনন্দিত। ভবিষ্যতে দলের প্রয়োজনে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি তার সেই শৈশবের কোচের শিক্ষাগুলোকেই পুঁজি হিসেবে দেখছেন বলে জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]